দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সুপার ওভারের আগে গভীর আলোচনায় দেখা যায় অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। তখন ফিল সিমন্সকে না দেখে প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে সালাউদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে।
তাই প্রশ্ন বাংলাদেশ দলের সব সিদ্ধান্ত কে নেন, সিমন্স না সালাউদ্দিন? ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজ জানালেন, ‘‘অবশ্যই হেড কোচ শুরুতে সিদ্ধান্ত নেয়। এটা সবার ধারণা– মনে হয় ক্যাপ্টেন ও কোচ সালাউদ্দিন স্যার (সব সিদ্ধান্ত) নিচ্ছে, আসলে এমন না। সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সবাই একসঙ্গে মিলেই সিদ্ধান্ত নিই। ফিল সিমন্স কথা বলেন, পরামর্শ করেন, সালাউদ্দিন স্যার এবং আমার সঙ্গেও কথা বলেন।’’
মিরাজ আরও যোগ করেন,‘‘প্রধান কোচের সঙ্গে আমরা অনেক সময় এগ্রি-ডিসএগ্রি করি। তখন উনি সবার কথা শোনেন। আমি একটা কথা বললাম, সালাউদ্দিন স্যারও বললেন। এভাবে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হয়। এমন না যে আমি একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি বা সেটাই হবে। সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, কেউ একা নিচ্ছে না।’’

দলে ক্রিকেটার বাছাই নিয়ে মিরাজ জানালেন, ‘‘আপনি হয়তো দেখছেন ১৫ জনের স্কোয়াড। আসলে ওয়ানডেতে ২৫ জনের স্কোয়াড আছে। ২৫-২৭ জন আছে, যাদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানো হচ্ছে। সৌম্য আগের ২ সিরিজে ছিল না। এবার খেলেছে। ২৫-২৭ জন যারা আছে তাদের এভাবেই খেলানো হচ্ছে। আমরা বিশ্বকাপের আগে এভাবে খেলাতে চাই, যেন বোঝা যায় কোন পজিশনে কে ভালো করছে। দিনশেষে পারফরম্যান্সটা তো খুবই জরুরি।’’
মিরপুরের উইকেট নিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘‘পৃথিবীর যেখানেই খেলতে যান, তারা কিন্তু হোম এডভান্টেজটা নেয়। আমরা নিউজিল্যান্ডে খেলেছি, সেখানে হোম এডভান্টেজ দেখেছি। কোনো দল বাংলাদেশে আসলে আমরা হোম এডভান্টেজ নেব। আমি ৯ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি। অভিষেকেও এখানেই খেলেছি। পার্থক্য সেরকম কিছু না। আগে একটু ঘাস দিত, এখন ঘাস নেই, জিনিসটা এটাই। ঘাস থাকলে বল অনেক সময় স্কিড করে। এ ছাড়া আর পার্থক্য মনে হয় নাই।’’
টেস্টে প্রস্তাব পেলে অধিনায়কত্ব করবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মিরাজ বললেন, ‘‘এটা সম্পূর্ণ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত, তারা কীভাবে কাকে চিন্তা করছে। যেহেতু আমি ওয়ানডে অধিনায়কত্ব করছি, যদি এরকম আসে (টেস্ট দলের নেতৃত্বের প্রস্তাব), তাদের সঙ্গে আমি আলোচনা করব, তাদের পরিকল্পনা কী, আমি কীভাবে ভাবছি। যদি দেয় (টেস্ট নেতৃত্ব), অবশ্যই করব। তবে সেটার একটা পরিকল্পনা থাকতে হবে। তারা কীভাবে চায়, আমি কীভাবে জিনিসটাই চাই, দুই পক্ষ একসঙ্গে কথা বলে এবং মানসিকভাবে যদি ঠিক থাকে, তাহলে অবশ্যই সেটা ভালো হবে।’’



