তার ক্রিকেটে শুরুটা টেপ টেনিসে। খেপ খেলতেন বিভিন্ন জেলায়। টাকাও আসত বেশ। একজন রাজমিস্ত্রির ছেলে হিসেবে এতটুকুতেই সন্তুষ্ট হওয়ার কথা ছিল হাবিবুর রহমান সোহানের। কিন্তু তিনি দেখেছিলেন বড় স্বপ্ন। চাইতেন জাতীয় দলে খেলতে।
সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপ পূরণ হয়েছে ‘এ’ দলের হয়ে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ খেলে। টুর্নামেন্টে করেছেন বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি। এরপর বিপিএল নিলামে রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগেছিল হাবিবুরকে ঘিরে। শেষ পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকায় তাকে কিনেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
এর আগে দুইবার বিপিএলে সুযোগ পেলেও সেভাবে ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি হাবিবুরের। তবে এবার তিনি চান নিজের সেরাটা মেলে ধরতে। একটি দৈনিককে তিনি বলেছেন, ‘‘এর আগে যে দুইবার বিপিএল খেলেছি, সেখানে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। আশা করছি এবার নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। যেহেতু ছন্দে আছি, সেটি ধরে রেখে সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্ট খেলেছি বিদেশে। আল্লাহর রহমতে ভালোও করেছি। একটি সেঞ্চুরি পেয়েছি। সব ম্যাচেই কম বেশি রান করেছি। এ কারণেই হয়তো বিপিএলে ভালো সম্মানীতে দল পাওয়ার সুযোগ হয়েছে।’’

টেপ টেনিস থেকে ক্রিকেট বলে খেলা শুরু করা নিয়ে জানালেন,‘‘ আমি লম্বা সময় টেপ টেনিস খেলতাম। অনেক জেলায় গিয়ে খেলেছি। সেখান থেকে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবে প্র্যাকটিস করেছি। ওই সময় তিন বছর করপোরেট লিগে খেলেছি। ওখান থেকে আমার একটা বড় ভাই হুসনে আবেদ মেহেদী ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগে দল খুঁজে দেন। সুযোগ পেয়ে টি২০ তে চার ম্যাচে আড়াইশ রান করি। ওয়ানডেতে করেছিলাম ৪৫৪ রান। মেহেদী ভাই গাজী গ্রুপে ক্রিকেটার্সে প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ করে দেন। ২০২৩ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলার পরই এখানে আসা। গত বছর খেলেছি ধানমন্ডি স্পোর্টিং ক্লাবে। প্রিমিয়ার লিগে খেলার আগেই আমার বিপিএলে অভিষেক হয়। খুলনা টাইটান্সে খেলেছি দুই বার।’’

টেপ টেনিস থেকে ক্রিকেট বলে খেললেও খেলার ধরণটা আগের মতই আছে বলে জানালেন হাবিবুর, ‘‘সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়াতে খেলেছি। যেখানে সুযোগ পেয়েছি সেখানেই খেলতে গেছি। খেলতে ভালো লাগত এবং টাকাও পেতাম। তবে ১০ বছর আগে যখন টেপ টেনিসে ক্রিকেট খেলা শুরু করি তখন যেমন ছিল এখনও সেরকম আছে। চেষ্টা করি ওটা ধরে রাখার।’’
ক্রিকেট খেলে নিজের ভাগ্য বদলানোয় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানালেন হাবিবুর, ‘‘একটা সময়ে আমাদের খুব একটা সম্মান ছিল না। কারণ আমার বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রি। পাঁচ-সাত বছর আগে যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি তখন আমার বাবা মাকে ওইভাবে কেউ গুরুত্ব দিতেন না। এখন আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক দাম দেন, সম্মান করেন।’’



