অপির্তা বিশ্বাসেরা নিশ্চয় আফসোসে পুড়ছেন। ভুটানের সঙ্গে ম্যাচে পয়েন্ট না হারালে হয়তো চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা নিয়েই দেশে ফিরতে পারত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৭ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লিগ পদ্ধতির শেষ ম্যাচে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়েও তাই রানার্স আপ দলের নাম বাংলাদেশ।
মেয়েদের বয়সভিত্তিক সাফে এমন রোমাঞ্চকর লড়াই খুব কমই দেখা গেছে। লিগ পদ্ধতির টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল। কিন্তু রবিবার ভুটানের চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে পেন্ডুলামের মতো দুলেছে ম্যাচটি। কখনও মনে হয়েছে বাংলাদেশ জিতবে। কখনও মনে হয়েছে ভারত। এক পর্যায়ে এগিয়ে গিয়েও বাংলাদেশ নিজেদের লিড ধরে রাখতে পারেনি। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে স্কোর ৩-৩ করে ভারত।কিন্তু যোগ হওয়া ৫ মিনিট যেন মরণ কামড় দেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। শেষ বাঁশি বাজার খানিক আগে গোল করেন প্রীতি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ভারতের মেয়েরা। আর প্রতিশোধের আনন্দে অর্পিতা, পূর্ণিমাদের চেহারায় স্বস্তির রেশ।
দুই দলের পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানের সুবাদে ম্যাচটি হয়তো ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতার। আগের ৫ ম্যাচের সব কটি জেতা ভারত এই ম্যাচের পরও ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই রইল। তবে ৬ ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট হয়েছে ১৩।
ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে কিক অফের পর প্রথম আক্রমণ থেকেই ভারতকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। ৩০ সেকেন্ডে মামনির লং পাসে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন পুর্ণিমা।

৭ মিনিটে ভারতের আনুশকা কুমারির শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরলে ম্যাচে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু দুই মিনিট পরই নিজেদের বক্সের উপরে বাংলাদেশ অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস তালগোল পাকিয়ে বল হারালে সুযোগ কাজে লাগান আনুশকা। দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলকিপারকে কাটিয়ে কোনাকুণি শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
২৪ মিনিটে আনুশার কোনাকুণি শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে। গোছালো আক্রমণ থেকে দশ মিনিট পর ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সৌরভী আকন্দ প্রীতি শট ডিফেন্ডার ফিরিয়ে দিলে আলপি আক্তার ফিরতি শটে জাল খুঁজে নেন।প্রথমার্ধের শেষ দিকে আনুশার দূরপাল্লার ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফিরে।
বিরতির পর খেলা আরও জমে উঠে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। সতীর্থের লং পাস গতিতে ডিফেন্ডারদের ছিটকে দিয়ে বক্সে ঢুকে ঠাণ্ডা মাথার শটে বল জালে পাঠান প্রীতি। ৬৪ মিনিটে চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন প্রীতিকা বর্মণ।
৭৬ মিনিটে দারুণ সুযোগ এসেছিল প্রীতির সামনে। রক্ষণের প্রতিরোধ ভেঙে গোলকিপারকে একা পেয়েও শট নিতে পারেননি তিনি। বলে স্পর্শ জোরে হওয়ায় বল চলে যায় মুন্নির গ্লাভসে। একটু পর এই ফরোয়ার্ডের আরেকটি প্রচেষ্টা বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে বক্সের বাইরে থেকে উচুঁ করে নেওয়া শটে লক্ষ্যভেদ করেন ঝুলন নঙ্গমাইথেম। পোস্ট ছেড়ে আগে বেরিয়ে আসায় মেঘলা রানী রায় লাফিয়েও পাননি বলের নাগাল।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে প্রীতির কোনাকুনি শট গোলকিপার ফিস্ট করার পর সামনে থাকা ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। এরপরই জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে মেয়েরা।



