অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়া কাপে আরও একবার হৃদয় ভাঙার বেদনায় পুড়ল বাংলাদেশ। শুক্রবার ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশ করেছে ড্র। পরের ম্যাচেই নেপালকে হারিয়েছে ভারত। এতেই রাউন্ড রবিন লিগের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। রানার্স আপ বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৩ সালেও রানার্স আপ হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।
এক ম্যাচ হাতে রেখেই অনূর্ধ্ব-১৭ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল ভারত। ভুটানের চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে ড্র করে ভুটানের সঙ্গে। আর পরের ম্যাচে ভারত ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে নেপালকে। ডাবল লিগ পদ্ধতির চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ ম্যাচে সব কটিতেই জয় ভারতের।

১৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে ভারত। সমান ৫ ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। এর মধ্যে ভারতের কাছে ১ ম্যাচে হেরেছেন অর্পিতা বিশ্বাসেরা। শুক্রবার ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে ভুটানের কাছে। ৩১ আগস্ট ভারতের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচটি তাই শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। ওই ম্যাচে জিতলেও বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ১৩। তারপরও ভারতকে টপকে যাওয়া সম্ভব হবে না বাংলাদেশের।
জাতীয় নারী ফুটবল দলের টানা সাফল্য থেকেও অনুপ্রেরণা নিতে পারেননি পূর্ণিমা, প্রীতিরা। কিছু দিন আগেই নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠেছে। তাদের ধারাবাহিকতায় অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলও এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠে। অথচ সিনিয়রদের দেখানো পথে হাটতে পারলনা জুনিয়র দলটি।
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা মূলত ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় গোল পায়নি। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে গোলকিপারের ভুলে গোল খেয়ে বসে ভুটান। ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে কেলজান ওয়াঙ্গমোর নেওয়া শটে বল গিয়ে পড়ে পূর্ণিমা মারমার পায়ে। একটু এগিয়ে নিখুঁত শটে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জাল খুঁজে নেন তিনি। একটু পর সৌরভী আকন্দ প্রীতির শট ঝাঁপিয়ে আটকান ওয়াঙ্গমো।
১৬ মিনিটে পূর্ণিমার আড়াআড়ি ক্রসে প্রীতির প্লেসিং শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরে। একটু পর এই ফরোয়ার্ডের আরেকটি শট কাঁপায় বাইরের জাল।

২৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারতো বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে মামনি চাকমার আড়াআড়ি ক্রসে দূরের পোস্টে ফাঁকায় থাকা পূর্ণিমা পা বাড়ালেও বলের নাগাল পাননি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরে ভুটান। সতীর্থের লং পাস ধরে এক ছুটে বক্সে ঢুকে গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিচু শটে গোল করেন চোরতেন জাংমো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকেন মামনি চাকমা। কিন্তু দ্রুত পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে তার শট আটকে দেন ভুটান গোলকিপার। এরপর চেষ্টা করেও জয়সূচক গোল পায়নি বাংলাদেশ।



