Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

অস্থিরতা-আতঙ্কে পুঁজিবাজারে বড় পতন, ডিএসইএক্স কমেছে ১২৩ পয়েন্ট

ঢাকার একটি ব্রোকারেজ হাউসে পুঁজিবাজারের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
ঢাকার একটি ব্রোকারেজ হাউসে পুঁজিবাজারের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
[publishpress_authors_box]

পুঁজিবাজারে দরপতন থামছে না। গণপরিবহনে আগুন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল ফাটানোসহ নানা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড জনমনে যে ভীতি ছড়িয়েছে তার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও। সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার দুই বাজারেই বড় পতন হয়েছে। কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর।

সবশেষ ১০ কর্মদিবসের লেনদেনে নয় দিনই সূচক কমেছে; রাগে-দুঃখে ক্ষুব্দ ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারী।

গত সপ্তাহের পাঁচ দিনের লেনদেনে পাঁচ দিনই সূচক পড়েছিল দুই বাজারে। চলতি সপ্তাহে মঙ্গলবার সামান্য দরবৃদ্ধি সার্বিক পতনের ক্ষত কমাতে পারেনি। উল্টো বুধবার ঢাকার পুঁজিবাজারের লেনদেন ২০ সপ্তাহ পর ফের ২০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে; ওই দিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৭ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমেছিল।

সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার লেনদেন খানিকটা বাড়লেও মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। এদিন ঢাকার বাজারে ডিএসইএক্স ১২২ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এই সূচক গত সাড়ে চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর এতে বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। তবে বিক্রির চাপে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় ৬ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট থাকায় মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে সিএসইতে টানা ১০ কার্যদিবস মূল্যসূচক কমল।

বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের মাত্রাও বাড়তে থাকে। ফলে ঢালাও দরপতনের সঙ্গে মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫২টির। আর ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৮৮টির দাম কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া একটি কোম্পানিরও শেয়ার দাম বাড়েনি। বিপরীতে ৭৭টির দাম কমেছে এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৭টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে একটির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৮টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২২ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৭০২ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৮ পয়েন্ট কমে ৯৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৫১ পয়েন্টে নেমে গেছে।

এমন দরপতনের ফলে ডিএসইর বাজার মূলধন ৭ হাজার ৯৩৬ কোটি ১১ লাখ টাকা কমে গেছে। আগের দিন ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮১ হাজার ৯১০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এখন তা কমে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সবকটি মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩৮৩ কোটি ৩৪ টাকা। আগের কার্যদিবসে (বুধবার) লেনদেন হয় ২৯০ কোটি ১৩ টাকা। এ হিসাবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৯৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার। ১১ কোটি ৫৬ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, রবি, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, শাহজিবাজার পাওয়ার, লাভেলো আইসক্রিম, মনোস্পুল পেপার এবং সিটি ব্যাংক।

অন্যদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২১৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৬টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বাজারের এই বেহাল দশার জন্য তিনটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, প্রধানত তিনটি কারণে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো- ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। এছাড়া, সম্প্রতি গেজেট আকারে প্রকাশিত মার্জিন ঋণ বিধিমালা প্রক্রিয়া জটিল হওয়া এবং একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের শূন্য দাম ঘোষণার পর লেনদেন স্থগিত রাখা।

এসবের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর বাজারে বড় পতনের জন্য কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকা দল আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ককে দায়ী করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশের কাছে বিনিয়োগযোগ্য অর্থ নেই। আর বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যাদের নতুন করে বিনিয়োগের সামর্থ্য রাখেন, তারা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অবস্থা এবং নীতির ধারাবাহিকতা কী হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন। ফলে নতুন করে তারা বিনিয়োগে আসছেন না। সহসা এ অবস্থার পরিবর্তনের আশাও কম।”

তিনি বলেন, “অনিশ্চিত পরিবেশে বিনিয়োগ হয় না। বিগত সরকার যে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করে গেছে, তা থেকে উত্তরণে কোনও ‘ম্যাজিক’ বর্তমান সরকারের কাছে নেই। মানুষ যদি বিনিয়োগে আস্থা না পায়, তাহলে শত বলেও বিনিয়োগে আনা যাবে না।

“সার্বিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখন শূন্যেরও নিচে, অর্থাৎ ঋণাত্মক। দর পতনের এ সময় যেখানে শেয়ার কেনার কথা, তখন আরও দর হারানোর ভয়ে অনেকে শেয়ার বিক্রি করছে। ফলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হচ্ছে।”

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক নাশকতা চলতি সঙ্কটকে আরও গভীর করছে।

তিনি বলেন, “একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে হয় না। সামষ্টিক অর্থনীতিতে এখনও প্রাণচাঞ্চল্যে নেই। একের পর এক তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করছে। বড় বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে আছে। ফলে সক্রিয় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত।”

সবাই প্রত্যাশা করেছিল ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ঘুরে দাাঁড়াবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার; তেমন লক্ষণও দেখা দিয়েছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। পরের দিন ৬ আগস্ট ডিএসইএক্স প্রায় ২০০ পয়েন্ট বাড়ে; শতাংশ হিসাবে বাড়ে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। লেনদেনও বাড়তে থাকে।

ডিএসইর পাশাপাশি আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই) চাঙাভাবে ফিরে আসে। ছুটতে থাকে দুই বাজার।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাত্র চার কার্যদিবসে ডিএসইএক্স প্রায় ৮০০ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ওই সময় লেনদেনও বেড়ে ২ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছিল।

এরপর শুরু হয় পতন; মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমতে থাকে। পড়তে পড়তে মে মাসের শেষের দিকে ডিএসইতে লেনদেন কমে ২৫০ কোটি টাকায় নেমে আসে; আর সূচক ১ হাজার ২০০ পয়েন্টের বেশি কমে ৪ হাজার ৭৮৫ পয়েন্টে নামে।

এর পর মাঝে-মধ্যে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও শেষ অবধি পতনের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। উল্টো অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

পুঁজিবাজারের লেনদেন কমে গেলে বিনিয়োগকারীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে শুরু করে ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ বাজারের অংশীজনেরাও বড় লোকসানের মুখে পড়েন।

২০১০ সালের বড় ধসের পর থেকে পুঁজিবাজারের এমন পরিস্থিতিই চলছে। মাঝেমধ্যে অবশ্য কিছুটা উত্থান দেখা গেলেও সেটি স্থায়ী হয় না। যার কারণে হঠাৎ হঠাৎ আশার ঝিলিক দেখা গেলেও আবার হতাশার মুখোমুখি হতে হয় বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

বাজার অংশীজন থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী সবারই এখন একটাই বক্তব্য, কেউ ভালো নেই। কারণ, শেয়ারের অব্যাহত দরপতনে সবাই বড় অঙ্কের পুঁজি হারিয়েছেন। বাজার অংশীজনেরা বলছেন, সরকার বদলের পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নেতৃত্বের বদল হলেও বাজারে কোনও আশার আলো দেখা যায়নি।

বিদ্যমান সঙ্কটেরও যেন কোনও সমাধান নেই। যে কারণে বাজার কেবলই দরপতনের একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। তাতে হতাশা বাড়ছে সর্বমহলে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৫ নভেম্বর (বুধবার) এক সংবাদ সম্মেলনে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ারের শূন্য দাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

তিনি জানান, ব্যাংকগুলোর বর্তমান যে আর্থিক পরিস্থিতি, তাতে শেয়ারধারীরা অর্থ পাবেন না।

গভর্নর বলেন, “পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। ফলে শেয়ারগুলোর ভ্যালু জিরো হিসেবে বিবেচিত হবে। কাউকে কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।”

গভর্নরের এই ঘোষণার পর থেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) লেনদেন শুরুর আগেই এই ব্যাংক পাঁচটির লেনদেন স্থগিতের কথা জানায় বিএসইসি।

যদিও শেয়ারবাজার–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিএসইসি বেশ বিলম্ব করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যখন এসব ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তখন বিএসইসি ব্যাংকগুলোর লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলে নতুন করে কোনও বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হতেন না।

এমনিতেই টানা দরপতনে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা ও লেনদেন স্থগিত করায় তা নিয়েও উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেছে।

সব মিলিয়ে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে; ফের রাস্তায় নেমেছেন ছোট বিনিয়োগকারীরা। পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য ঘোষণা ও লেনদেন স্থগিতের প্রতিবাদে ৬ নভেম্বর মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন ছোট বিনিয়োগারীরা।

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বিএসইসির উচিত ছিল যখন এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তখন শেয়ারবাজারে এগুলোর লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা; কিন্তু সেটি করা হয়নি। ফলে ব্যাংকগুলোর শেয়ারের ক্রমাগত দরপতন হয়েছে, যার প্রভাব অন্যান্য শেয়ারের ওপর পড়ছে।”

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি ইস্যু বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের অস্বস্তিতে ফেলেছে। এগুলো হলো– নতুন মার্জিন বিধিমালা, পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ এবং জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এর মধ্যে মার্জিন বিধিমালা ইস্যুটির সমাধান হয়েছে বৃহস্পতিবার গেজেটের মধ্য দিয়ে। বিদ্যমান অবস্থা থেকে নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।

“কিন্তু পাঁচ ইসলামী ব্যাংক যেভাবে একীভূত করা হচ্ছে, তা কোনও বিনিয়োগকারী ভালোভাবে নেয়নি। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আরও উদ্বেগের কারণ হলো– শুধু এই পাঁচ ব্যাংকই নয়, আরও অনেকগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায়। শোনা যাচ্ছে, এর অনেকগুলো অবসায়ন বা একীভূত হবে। এই ভয়ে অনেকে শেয়ার বিক্রি করছেন। শেয়ার বিক্রি হলে সূচকের পতন হয়। এভাবে ভীতি পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।”

“এর মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিরতা বিদেশি এবং দেশীয় বড় বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে” মন্তব্য করে সাইফুল ইসলাম বলেন, “বড় বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চিত পরিস্থিতি পছন্দ করেন না, তারা হাত গুটিয়ে রাখেন। ফলে ক্রয় চাহিদা কমে এবং ক্ষেত্রবিশেষ বিক্রির চাপ বাড়ে, যা দর পতনকে উস্কে দেয়। এখন বাজারে সেটাই হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found