রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্পে অন্তত চারজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুরান ঢাকার বংশালে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে তিন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে; নারায়ণগঞ্জে দেয়াল ধসে প্রাণ গেছে এক শিশুর।
বাসস জানিয়েছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদী জেলা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ২৩ দশমিক ৮৯ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০ দশমিক ৫৭ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের উপরে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
বিডিনিউজ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বংশালে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।
বংশাল থানার ওসির রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূমিকম্পের মধ্যে কেপি ঘোষ স্ট্রিটের ওই পাঁচ তলা ভবন থেকে রেলিং ভেঙে পড়ে।”
সেখানে ঘটনাস্থলেই দুই পথচারীর মৃত্যু হয়। মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরেকজন।
শুক্রবার ছুটির দিনের সকালে শক্ত ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি, ঢাকাসহ সারা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর জানান, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭ ।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে লোকজন বাসা থেকে বের হয়ে আসে। ঝাঁকুনিতে অনেকের বাসায় শেলফ ও টেবিল থেকে জিনিসপত্র পড়ে যায়।

কম্পন থামার পর ঢাকার বাড্ডা, ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকায় ভবনে ফাঁটল ধরার এবং পলেস্তরা খসে পড়ার খবর এসেছে।
ভূমিকম্পের সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার একটি ভবনের দেয়াল ধসে ১০ মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকালে উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকায় এ ঘটনায় শিশুটির মাসহ আরও দুজন আহত হয়েছেন।
নিহত শিশু ফাতেমা ওই এলাকার আব্দুল হকের মেয়ে। তিনি ঢাকার শ্যামবাজারে ব্যবসা করেন।
আহতরা হলেন- ফাতেমার মা কুলসুম বেগম এবং তাদের প্রতিবেশী প্রবাসী মাসুদের স্ত্রী জেসমিন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পে আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ১০ জন; গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রয়েছে ১০ জন।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালে আহত ৪৫ জনের মধ্যে তিন জনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।



