সেই ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ খেলেছিল স্কটল্যান্ড। ২৮ বছর পর আবারও ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার মঞ্চের টিকিট পেল তারা। নাটকীয় ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪-২ গোলে জিতে স্বপ্ন পূরণ হলো স্কটিশদের।
অথচ ড্র করলেই সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিত ডেনমার্ক। অনেকটা সময় একজন কম নিয়ে খেলে, লক্ষ্য পূরণের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে তারা। ডেনমার্ককে এখন খেলতে হবে প্লে-অফে। ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা স্কটল্যান্ড। দুইয়ে থাকা ডেনমার্কের ১১ পয়েন্ট। বিদায় নিয়েছে গ্রিস (৭ পয়েন্ট) ও বেলারুশ (২ পয়েন্ট)।
ইউরোপিয়ান অঞ্চলের নাটকীয় শেষ দিনে গ্রুপ সেরা হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে – স্পেন, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড।

তুরস্কের সঙ্গে ২-২ ড্র করে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের সেরা হয়েছে স্পেন। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হওয়া তুরস্ক খেলবে প্লে-অফে। শুরুর ম্যাচে পাঁচ ম্যাচে জাল অক্ষত রাখা স্পেন এই প্রথম গোল হজম করল বাছাইপর্বে।
শেষ ম্যাচে লিচেটেনস্টাইনকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বেলজিয়াম।, ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ‘জে’ গ্রুপ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে যাচ্ছে তারা। নর্থ মেসিডোনিয়াকে ৭-১ গোলে হারিয়ে রানার্সআপ হয়ে প্লে-অফ খেলবে ওয়েলস।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ ড্র করা অস্ট্রিয়া ১৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের সেরা হয়েছে। ১৭ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ বসনিয়া।
কসোভোর সঙ্গে ১-১ ড্র করে, ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে সুইজারল্যান্ড। ১১ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হওয়া কসোভোর আরেকটা পরীক্ষা প্লে-অফে।
হ্যাম্পডেন পার্কে মঙ্গলবার রাতে স্কটল্যান্ড-ডেনমার্কের ম্যাচ রঙ বদলেছে বারবার। ৯০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে সমতা ছিল ২-২ গোলে। ডেনমার্ক ৬১ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও লড়ছিল পাল্লা দিয়ে। কিন্তু ইনজুরি টাইমের দুই গোলে কপাল পুড়ে তাদের।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে স্কট ম্যাকটমিনের বাইসাইকেল কিকে এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। গাসমুস হয়লুন ৫৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরান ডেনমার্ককে। ৬১ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ডেনমার্ক। জন ম্যাকগিনকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার রাসমুস ক্রিস্টেনসেন।
৭৮তম মিনিটে লরেন্সের গোলে আবার এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। ৮১তম মিনিটে ডেনমার্ক সমতা ফেরায় পাত্রিক দোরগুর গোলে। তখন মনে হচ্ছিল ২-২ সমতায় শেষ হতে যাচ্ছে ম্যাচ। কিন্তু ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে স্কটল্যান্ডকে এগিয়ে নেন কিয়েরান টিয়েরনি। আর অষ্টম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে উঁচু করে নেওয়া শটে ২৮ বছর পর স্কটিশদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফেলেন কেনি ম্যাকলিন।



