ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে আসার আগে ঝড়ের কবলে পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। মাঝ আকাশে তাদের বিমান চক্কর দিয়েছে প্রায় দুই ঘণ্টা। মাঠে নেমে তারা পড়ল পিএসজি ঝড়ের সামনে। প্রথম ২৪ মিনিটেই হজম করল ৩ গোল। থিবো কর্তোয়া শুরুতে অসাধারণ দুটি সেভ না করলে ততক্ষণে ব্যবধান হতে পারত ৫-০!
শুরুর এই ধাক্কাটা আর কাটাতে পারেনি রিয়াল। পিএসজি তাদের ৪-০ গোলে হারিয়ে পৌঁছাল ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে। শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী চেলসি। পিএসজির হয়ে জোড়া গোল করেছেন ফাবিয়ান রুইস। একটি করে গোল করেছেন উসমান দেম্বেলে ও গনসালো রামোস।
লাল কার্ডের জন্য হাউসেন আর চোটের জন্য ছিলেন না ট্রেড আলেকজান্ডার-আরনল্ড। তাতেই এলোমেলো হয়ে যায় রিয়ালের রক্ষণ। কোচ জাবি আলোনসো আক্রমণে একসঙ্গে খেলান এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস ও গনসালো গার্সিয়াকে। এটা কাজে তো আসেইনি, উল্টো এভাবে একাদশ গড়ার ট্যাকটিক্সকে স্প্যনিশ দৈনিক ‘এএস’ বলেছে ‘একসঙ্গে আত্মহত্যা’ করা!

যানজটের জন্য দুই দল মাঠে এসেছিল ২০ মিনিট দেরিতে। তাই খেলা শুরু হয় ১০ মিনিট পর। প্রথম ৯ মিনিটে রিয়াল ২ গোল হজম করলে গ্যালারিতে নেমে আসে নীরবতা। কারণ বেশি সমর্থন ছিল রিয়ালেরই।
প্রথম চার মিনিটেই দুটি দুর্দান্ত সেভ করেন থিবো কোর্তোয়া। কিন্তু পরের পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে এগিয়ে যায় পিএসজি। ষষ্ঠ মিনিটে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন ফাবিয়ান রুইস।
সেন্টার ব্যাক রাউল আসেন্সিওর ভুলে বল কেড়ে নিয়ে এগিয়ে যান উসমান দেম্বেল। কোর্তোয়া তাকে কড়া ট্যাকল করলেও বলের নাগাল পাননি। রুইস খুঁজে নেন ফাঁকা জাল। নবম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে।
এবার নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে শট নিতে পারেননি রুডিগার। পেছন থেকে ছুটে গিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন দেম্বেলে।

২৪তম মিনিটে রিয়ালকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন রুইস। আশরাফ হাকিমির দারুণ পাস পেয়ে ফেদে ভালভের্দের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
বিরতির পর রিয়ালের খেলার কিছুটা উন্নতি হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না সেটা। ৬৮ শতাংশ বলের দখল রেখে পোস্টে ১৭টি শট নিয়ে পিএসজি লক্ষ্যে রাখে ৭টি। সেখানে পোস্টে ১১টি শট নিয়ে কেবল ২টি লক্ষ্যে রেখেছিল রিয়াল। পিএসজি ছাড়ার পর প্রথমবার নিজের সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হয়ে নিজের ছায়া ছিলেন এমবাপ্পে। নিস্প্রভ ছিলেন ভিনিসিয়ুসও।
৪৭তম মিনিটে দিজিরে দুয়ে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের জন্য গোল পায়নি পিএসজি। ৬১তম মিনিটে জুড বেলিংহামের জায়গায় লুকা মদ্রিচকে নামান আলনসো। রিয়ালের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলা মদ্রিচও গড়তে পারেননি ব্যবধান।
৮৮তম মিনিটে রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেন গনসালো রামোস। গোল উদযাপনে তিনি স্মরণ করেন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পর্তুগালের সতীর্থ দিয়োগো জোতাকে।



