Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

জ্যাকব-নবী-মামুন রিমান্ডে, আরও ২ মামলায় গ্রেপ্তার রুপা-শাকিল

Verdict
[publishpress_authors_box]

ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক পৃথক মামলায় ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজকে বিভিন্ন মেয়াদে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক আবুল হাসানকেও বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

এদিন একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাত্রাবাড়ী থানায় করা দুই হত্যা মামলায় সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

জ্যাকব তিন দিনের রিমান্ডে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনের সময় ঢাকার ভাটারা থানার নতুন বাজার এলাকায় হোটেল কর্মচারী রোহান হত্যাচেষ্টা মামলায় ভোলার সাবেক এমপি জ্যাকবের তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান তার সাত দিন রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।

জ্যাকবের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, “জ্যাকব ২০০৯ সাল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি আগেও রিমান্ডে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা হয়নি। তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করছি।”

পরে আদালত তাকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয়।

নবী নেওয়াজ ৫ দিনের রিমান্ডে

আন্দোলনের সময় রমনা এলাকায় গৃহকর্মী লিজা আক্তারকে গুলি করে হত্যা মামলায় ঝিনাইদহের সাবেক এমপি নবী নেওয়াজের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

গত ১২ এপ্রিল মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। মামলার মূল নথি না থাকায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে ১৬ এপ্রিল রিমান্ড শুনানির তারিখ রাখে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “অবৈধ ও ফ্যাসিস্টের এমপি। বিনা ভোটে নিজেকে এমপি ঘোষণা করেন। ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তার রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।”

নবী নেওয়াজের পক্ষে তার আইনজীবী বলেন, “তিনি সাত বছর আগে এমপি ছিলেন। আওয়ামী লীগের ভাইটাল পোস্টে ছিলেন না। তিনি একজন শিক্ষাবিদ। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। রিমান্ডে নিলে টর্চার করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হবে। তিনি অসুস্থ। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বর্তমান বা অতীতে কোনও পোস্টে ছিলেন না ।আওয়ামী লীগের ডিশিসন মেকারও না। ঢাকা থাকেন না। থাকেন ঝিনাইদাহে। তার রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।”

পরে আদালত তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয়।

গত ১১ এপ্রিল নবী নেওয়াজকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলায় বলা হয়, বৈষমবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই রমনা এলাকায় গৃহকর্মী লিজা আক্তার গুলিতে আহত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জুলাই তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর লিজার বাবা জয়নাল শিকদার বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় নবী নেওয়াজ ১৭০ নম্বর আসামি। 

মামুন-আবুল হাসানের রিমান্ড

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলনের এক পর্যায়ে ৫ আগস্ট দুপুরে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। সেদিন বিকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শাওন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক আইজিপি মামুনের তিন দিন ও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান তাদের ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।

তিনি বলেন, “সবচেয়ে বেশি হত্যা হয় যাত্রাবাড়ীতে। নেতৃত্বে ছিলেন আবুল হাসান। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তারাও পালিয়ে যায়। পরে যাত্রাবাড়ী থানাতে ১৮টি লাশের স্তুপ পাওয়া যায়। আন্দোলনে দুই হাজার লোক হত্যা এবং ৩০ হাজার লোক আহত হয়। এর মাস্টারমাইন্ড চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। অফিসে বসে ষড়যন্ত্র করেন আন্দোলন দমানোর। কীভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন সবাই দেখেছেন।” 

শুনানিতে মামুনের আইনজীবী বলেন, “তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। এর আগে তাকে ৮০-৮৫ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। প্রয়োজন মনে করলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।”

পরে আদালত সাবেক আইজিপি মামুনের তিন দিন ও ওসি হাসানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

মামলায় আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট বিকালে পুলিশের চালানো গুলিতে শাওন তালুকদার নিহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।

আদালতে ফারজানা রুপা

২ হত্যা মামলায় রুপা-শাকিল গ্রেপ্তার

আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে ইমরান হাসান নামে একজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপা এবং সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

একই থানাধীন দনিয়া এলাকায় সৈয়দ মুন্তাসির রহমান নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও মঞ্জুর করেছে আদালত।

অভ্যুত্থানের পরপরই গ্রেপ্তার হন সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদ। তারপর আন্দোলনকেন্দ্রিক একাধিক হত্যায় মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা ও শাকিলের মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালী বউ বাজারে আন্দোলনে অংশ নেন ইমরান হাসান। দুপুর ১টার দিকে আসামিদের গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ইমরান। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ ঘটনায় তার মা কোহিনূর আক্তার গত ৬ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৯৭ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলাটি করেন। 

আদালতে শাকিল আহমেদ

ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদের মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুন্তাসির রহমান। দুপুরে আসামিদের গুলিতে আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মুন্তাসিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় তার বাবা সৈয়দ গাজিউর রহমান ১১ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found