Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মমতাজ রিমান্ড শেষে কারাগারে

আদালতে মমতাজ বেগম। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
আদালতে মমতাজ বেগম। ছবি : সকাল সন্ধ্যা
[publishpress_authors_box]

আন্দোলনে ঢাকার মিরপুরে মো. সাগর নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

শনিবার শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মিনহাজুর রহমানের আদালত এ আদেশ দিয়েছে।

মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে এদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম।

তারপক্ষে আইনজীবী মাসুদুর রহমান লিংকন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের দুইবারের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে গত ১২ মে সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডি স্টার কাবাবের পেছনের এক বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

পরদিন সাগর হত্যা মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

মামলায় বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ জুলাই মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এসময় ঘটনাস্থলেই মারা যান সাগর।

এ ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর তার মা বিউটি আক্তার মিরপুর থানায় শেখ হাসিনাসহ ২৪২ জনের নামে মামলাটি করেন। মামলায় মমতাজ বেগম ৪৯ নম্বর আসামি।

জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হন।

২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। ২০১৮ সালেও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে জয় পান মমতাজ। ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।

‘পার্লামেন্টের মতো পবিত্র জায়গায় জলসা বসাতো মমতাজ’

মমতাজের আইনজীবী মাসুদুর রহমান লিংকন তার জামিন চেয়ে শুনানিতে বলেন, “মামলার ঘটনার সাথে তিনি কোনোভাবে জড়িত নন। তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নাই। শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার জামিনের প্রার্থনা করছি।”

এরপর রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী তার জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন।

তিনি বলেন, “সাধারণ রাস্তা থেকে পার্লামেন্টে গিয়ে পৌঁছেছে মমতাজ। পার্লামেন্টের মতো পবিত্র জায়গায় গানের জলসা বসাতো। বিরোধীদের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক বক্তব্য দিত। সংসদকে কলুষিত, কলঙ্কিত করেছে। সংসদে যাবে কারা? আইন প্রণেতা, শিক্ষিত, মার্জিত মানুষ। মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা রাখে না তারা সংসদ সদস্য হয়েছে ভোট চুরি করে, রাতের ভোটে।

পিপি বলেন, “দেশের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, এমপি, সাবেক মন্ত্রী, এমপি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, প্রধান বিচারপতি, ঢাকা মহানগর পিপি, বাকিগুলো আর নাই বললাম। একযোগে পালিয়ে যায়। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। মমতাজ বেগম গ্রেপ্তারের পর কিছু মানুষের চিত্র দেখেছি। এলাকায় তারা মিষ্টি বিতরণ করেছে। তার দ্বারা মানুষ কীভাবে নির্যাতিত হয়েছে।”

মমতাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “সংসদে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার বাপের নাম জানতে চান। বলেন তো আপনার বাপের নাম, স্বামীর নাম কি?”

এসময় বিচারক তাকে মামলার বিষয়ে বলতে বলেন।

পিপি তখন বলেন, “মানুষের চরিত্রহনন, বিরোধীদের হেয় করে কাজ করে গেছেন। কীভাবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চান বুঝি না। আইন সেইভ করলেও জনগণ করছে না। তারা বাইরে বের হতে পারেন না। পুলিশ ধরার আগে মানুষ ধরে তাদের পুলিশে দিচ্ছে। তারা এতো জনবিরোধী কাজ করেছে। এখন জামিন পেলে দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটছে। জামিন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found