Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

পুরান ঢাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন, বলছে পুলিশ

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, তারিক সাইফ মামুন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন (বাঁয়ে)। দুই ব্যক্তি খুব কাছে থেকে তাকে গুলি করছেন (ডানে)। ছবি : সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, তারিক সাইফ মামুন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন (বাঁয়ে)। দুই ব্যক্তি খুব কাছে থেকে তাকে গুলি করছেন (ডানে)। ছবি : সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া
[publishpress_authors_box]

রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে গুলিতে নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, নিহত ব্যক্তির নাম তারিক সাঈফ মামুন (৫৫), তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী।

প্রথম আলো জানিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ বলছে, দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে।

পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তি একসময় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। তবে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত ব্যক্তির স্বজনের আহাজারি। ছবি : প্রথম আলো

গুলির ঘটনার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রথম আলোর হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, মামুন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। তখন দুই ব্যক্তি খুব কাছে থেকে তাকে গুলি করছেন। ঘটনাটি ঘটে ৩ থেকে ৪ সেকেন্ডের মধ্যে। গুলি করার পর দুই ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মামুনের পরিবার বলছে, তিনি দুই ধরে রাজধানীর বাড্ডার ভাড়া বাসায় ছিলেন। সোমবার সকালে একটি মামলায় আদালতে তার হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য তিনি সকালে বাসা থেকে বের হন।

মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তারা ধারণা করছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও ইমনের লোকজন মামুনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।

তারিক সাইফ মামুনের জাতীয় পরিচয়পত্র। ছবি : পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া
তারিক সাইফ মামুনের জাতীয় পরিচয়পত্র। ছবি : পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া

পুলিশ জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও মামুন একসময় হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তাদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী। তারা দুজনই চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, মামুনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তার জন্ম ১৯৭০ সালে।

গুলির ঘটনার পর রাজধানীর প্রবেশপথে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বাবুবাজার এলাকা, ১০ নভেম্বর। ছবি : প্রথম আলো
গুলির ঘটনার পর রাজধানীর প্রবেশপথে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বাবুবাজার এলাকা, ১০ নভেম্বর। ছবি : প্রথম আলো

রাজধানীর কোতোয়ালি থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াসিন বলেন, গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে যান। গিয়ে দেখেন, এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন। খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, দুইজন ব্যক্তি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের প্রবেশমুখে এসে ওই ব্যক্তিকে (মামুন) পেছন থেকে গুলি করেন। বেশ কয়েকটি গুলি করার পর ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর গুলি করা ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল পালিয়ে যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found