১০ দিন আগেও রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত বিচে ঘুরছিলেন হুয়াও পেদ্রো। ক্লাব ফুটবলের বিরতি, তাই নিজেরও ছুটি। ব্রাইটন অ্যান্ড হোভের সঙ্গে ২০২৫ পর্যন্তই চুক্তি ছিল। এরপর ক্লাব খুঁজছিলেন।
হঠাৎ ডাক পড়ল চেলসিতে। ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে হবে। ব্রাজিল থেকে উড়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রে। কি ভাগ্য, নিজের শৈশবের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে নামলেন। আর এ ম্যাচেই গোল করলেন, একটি নয় দুটি। তার জোড়া গোলে ফ্লমিনেন্সেকে বিদায় করে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল চেলসি।
স্বপ্নের মতো এক যাত্রা পেদ্রোর জন্য। যেন এলেন, দেখলেন ও জিতলেন। চেলসি যেই ফরোয়ার্ডের খোঁজে ছিল তাকে যেন পেয়ে গেল। ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে ম্যাচের ১৮ ও ৫৬ মিনিটে দুটো গোল করেছেন পেদ্রো।

অথচ এই টুর্নামেন্টে তার ফ্লুমিনেন্সেকেই সমর্থন দেওয়ার কথা। ভাগ্যের ঘুর্ণিতে উল্টো ফ্লুমিনেন্সকেই বিদায় করলেন। ম্যাচ শেষে পেদ্রো বলেছেন, “আমার মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে। এই দুটো গোলের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি আমার শৈশবের ক্লাবের কাছে। এটা আমার কাজ। যাদের সঙ্গে খেলেছি, যাদেরকে চিনি তাদের হতাশ দেখতে খারাপ লাগছিল। কিন্তু আমার এটা স্বপ্ন যে ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে দুটো গোল করব এবং ম্যাচ সেরা হবো।”
শৈশবে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ফ্লমিনেন্সেতে যোগ দিয়েছিলেন পেদ্রো। ৯ মৌসুম কাটিয়ে ১৮ বছর বয়সে পুরোদস্তুর ফরোয়ার্ড হয়ে যোগ দেন ওয়াটফোর্ডে। শৈশবের সেই ক্লাবকেই চলতি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিলেন পেদ্রো।
ক্লাব বিশ্বকাপে শুরু থেকে একই গতিতে ছুটছিল ব্রাজিলের চার ক্লাব। এক পর্যায়ে নিজেরাই হয়ে গেল নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই লড়াইয়ে জিতে শুধু ফ্লুমিনেন্স উঠে এল শেষ চারে। একমাত্র লাতিন প্রতিনিধি হিসেবে স্বপ্ন ছিল ক্লাব বিশ্বকাপে আলোড়ন তোলার।
কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল এক লাতিনের কাছেই। সুবাদে ২০২১ সালের পর আবার ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ব্লুজরা। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারাই।
বুধবারের দ্বিতীয় সেমিফানালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজি। আর যাই হোক , এবারও ক্লাব বিশ্বকাপ ইউরোপেই আসছে।



