শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের অদ্ভুত একাদশ নির্বাচন অবাক করেছে সবাইকে। একাদশে আট ব্যাটার নিয়েও তার কোনও সুফল যে আসেনি তা হেড কোচ ফিল সিমন্স বুঝতে পেরেছেন। মুখে স্বীকার না করলেও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে ভিন্নভাবে তা মেনে নিয়েছেন। তাই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দলে অন্তত ৮ ব্যাটার থাকছে না সেই আভাস দিয়েছেন কোচ।
টি-টোয়েন্টিতে যারা ভালো করছেন তাদের একজন জাকের আলী। অথচ প্রথম টি-টোয়েন্টিতে এই ক্রিকেটার ছিলেন একাদশের বাইরে। এর কারণও অবশ্য আছে। তৃতীয় ওয়ানডেতে ইনজুরড হয়েছিলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তাই জাকেরকে বাইরে রেখে কম্বিনেশন ঠিক করতে গিয়ে সাইফউদ্দিনকে নয় নম্বরে নামাতে হয় বাংলাদেশকে।
দ্বিতীয় ম্যাচে ভুল ভাঙছে। মোস্তাফিজুর রহমান এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার। তাকে টি-টোয়েন্টিতেই না রাখা একরকম বোকামি। সেই বোকামিটা দ্বিতীয় ম্যাচে সম্ভবত করতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। তাছাড়া অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠা জাকেরও ফিরতে পারেন একাদশে। কিন্তু কারা বাদ পড়ছেন তা নিয়ে দ্বিধা আছে।
অবশ্য কোচ ফিল সিমন্স গতানুগতিক পদ্ধতিতে প্রশ্নের উত্তর দিলেন, “আমাদের আগে উইকেটটা দেখতে হবে। আমরা অনুশীলনে গিয়ে উইকেট দেখব, এরপর সিদ্ধান্ত নেব একই একাদশে নামবো নাকি পরিবর্তন আনবো।”
কিন্তু দলে যে চার ওপেনার আছেন তা নিয়ে করা প্রশ্নে স্বীকারোক্তি দিতেই হলো। তানজিদ তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন দাস ও নাঈম শেখ খেলেছেন একাদশে। নাঈমকে নামতে হয়েছে চার নম্বরে। ঘরোয়া ক্রিকেটে পেসারদের বিপক্ষে খেলে ভালো করা এই ওপেনারকে শ্রীলঙ্কায় সামলাতে হয়েছে স্পিনারদের। স্বাভাবিকভাবেই নিজের সেরাটা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন ২৯ বলে ৩২ রান করা এই ব্যাটার।
দলে চারজন ওপেনার প্রসঙ্গ উঠতে একাদশ যে ঠিক হয়নি তা মেনে নিয়েছেন কোচ, “দেখুন, মানুষকে ব্যাপারটা বুঝতে হবে। জাকের আলী ইনজুরড ছিল। তার পরিবর্তে কে খেলবে? একজন বোলার? একজন ব্যাটারকেই তো খেলাতে হবে, তাই না। সবাইকে বাস্তব সম্মত হতে হবে। এই ফরম্যাটে বোলারও ওপেন করে, ব্যাটারকে পাঁচে খেলতে হয়।”
কোচের চোখে প্রথম ৬ ওভারের বোলিংটাও গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য গিবসন না বললেও সবাই জানে ৬ ওভারেই টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ হেরে যেতে হয়। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাঝের ওভারে ভালোভাবে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন বোলাররা। তাই ১২ ওভারে ১২০ করেও শ্রীলঙ্কার ১৫৫ রানের লক্ষ্য ছুঁতে ১৯ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। ব্যাটিং দৈন্যতার পাশাপাশি তাই বোলিং নিয়েও ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
জাকের খেলুক বা না খেলুক, দলে ৮ ব্যাটার থাকুক বা ১১, বাংলাদেশের প্রয়োজন জয়। একমাত্র এ পথেই স্বস্তি পেতে পারে। দলের ভেতর অস্বস্তির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে। এমন অবস্থায় দ্বিতীয় ওয়ানডের জয় স্বস্তি দিয়েছিল বাংলাদেশকে। ডাম্বুলায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সেই স্বস্তি কি আসবে?
নিকট অতীত অবশ্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ২০১৭ সালে ওয়ানডেতে এই মাঠে শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তামিম-সাকিব-মুশফিকদের দল সেবার আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩২৪ রান করে। জবাবে শ্রীলঙ্কা অলআউট হয় ২৩৪ রানে।
এখন অবশ্য বাংলাদেশ দলের সেই শক্তি নেই, ফরম্যাটও ভিন্ন। তবু আশা করা ছাড়া উপায় নেই।



