শমিত সোম এখন কানাডা প্রবাসী। শৈশবে যখন পৈতৃক ভিটা শ্রীমঙ্গলে আসতেন, তখন পারিবারিক পরিমণ্ডলেই কাটত ছুটির সময়। গত কয়েকমাসে বাংলাদেশে শমিত এলেন তিনবার, তবে নিজ বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। অবশেষে ভারতকে হারানোর পরদিন আজ শ্রীমঙ্গল গিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে আসেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে পরম মমতা ও গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে বরণ করে নেন।
শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ উত্তরসুর এলাকার সন্তান শমিত সোম। ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মানিক লাল সোমের নানা। তার বাবা মানস লাল সোম এবং জেঠু (চাচা) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন লাল সোম, দুজনই শ্রীমঙ্গলের পরিচিত মুখ।
নিজের বাড়িতে গণমাধ্যমে শমিত বললেন,‘‘ শ্রীমঙ্গল এসে অনেক ভালো লাগছে। আমি তো তিনবার (জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর) আসলাম বাংলাদেশে। এখানে আসতে পারি নাই আগে। এবার এখানে সময় কাটাতে পেরে খুশি লাগছে।’’

বাংলাদেশ দলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথাও বললেন শমিত, ‘‘এই দলে বেশিরভাগ খেলোয়াড় তরুণ। সবার সঙ্গে রসায়ন তৈরি হয়েছে আমার। আশা করছি অভিজ্ঞ হলে ভবিষ্যতে দারুণ কিছু করবে এই দল।’’
হামজা, শমিত, মোরসালিন, রাকিবদের দাপটে ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয় নিয়ে ছবি পোস্ট করেছে ফিফা। নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাব ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছে, ‘‘২২ বছর অপেক্ষার পর বাংলার মাটিতে এক স্মরণীয় জয়।’’

অন্যদিনে ‘দক্ষিণ এশিয়ান ডার্বির’ পর দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ফার্স্ট পোস্টসহ বেশিরভাগ মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে ভারতের হারকে লজ্জার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারত ১৩৬ নম্বরে, বাংলাদেশ ১৮৩ নম্বরে। তাই বাংলাদেশের কাছে হারটা মানতে পারছে না তারা।
২০০৩ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতকে পরাজিত করেছিল বাংলাদেশ । ২২ বছর পর এবার একই মাঠে বাংলাদেশ জিতল শেখ মোরসালিনের গোলে।



