Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ভারত ছেড়ে কেন পাকিস্তানে ঝুঁকছেন ট্রাম্প

trump pakistan india
[publishpress_authors_box]

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারত থেকে যেকোনও ধরনের পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে রাশিয়া থেকে অস্ত্র বা তেল কিনলে আরও বেশি শাস্তির হুমকি দেন। তার পরেই পাকিস্তানের সঙ্গে তেল অনুসন্ধান চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

এতদিন ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বিবেচনা করা হতো বেশ উষ্ণ হিসেবেই, বিশেষ করে চীনকে মোকাবেলার ক্ষেত্রে। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভারত এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছিল।

কিন্তু পাকিস্তানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ এই ঝোঁক দেখে সেই সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে হচ্ছে নতুন করে। প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি তাহলে ভারত থেকে সরে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে?

যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানকে গুরুত্ব দেওয়ার ট্রাম্পের এই নীতি বেশ কিছু পারস্পরিক স্বার্থের দ্বারা পরিচালিত। সেসব স্বার্থের আলোচনায় উঠে আসছে মূলত তিনটি বিষয়।

দুই দেশের ক্রিপ্টো সম্পর্ক

গভীর অর্থনৈতিক সংকট এবং বৈশ্বিক মূলধনে কম প্রবেশাধিকার থাকায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মুক্তির পথ হিসেবে বিবেচনা করে পাকিস্তান। এরই মধ্যে তারা পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিল (বর্তমানে পাকিস্তান ডিজিটাল অ্যাসেট অ্যাসোসিয়েশন) গঠন করেছে। সেখানে বড় আকারে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প-সমর্থিত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল (ডব্লিউএলএফ) একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে থাকবে।  

ডব্লিউএলএফ একটি ক্রিপ্টো-কেন্দ্রিক সংস্থা, যার সঙ্গে ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সংযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, এই সংস্থার বড় অংশের মালিক ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। এর ফলে ট্রাম্পের পরিবার অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি তা প্রভাব ফেলছে দিুই দেশের সম্পর্কে। তাছাড়া উদ্ভাবন, যুব সম্প্রসারণ এবং বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমেও পরিচালিত হচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক।

পাকিস্তানের খনিজ ও খনিশিল্প

ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তেল অনুসন্ধানে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি তিনি এটাও বলেন, একসময় ভারত পাকিস্তানের কাছ থেকে তেল কিনবে। এই বক্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ট্রাম্প এখন পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যর দিকে নজর দিচ্ছে। হয়তো সেজন্যই বেশি বেশি বিনিয়োগ আর কম কম শুল্ক আরোপের দিকে ঝুঁকছে।

পাকিস্তান বরাবর দাবি করছে যে তাদের বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত তেল, তামা, সোনা, লিথিয়াম এবং বিরল প্রাকৃতিক খনিজের মজুদ আছে। এই খনিজ উপাদানগুলো পরিষ্কার জ্বালানি প্রযুক্তি, ব্যাটারি এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। সে কারণে সম্ভবত পাকিস্তানকে একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প । ফরেনপলিসি ডটকম বা ফক্সবিজনেসের বিশ্লেষণধর্মী সূত্র বলছে, পাকিস্তানের খনিজ সম্পদের মোট মূল্য ৮ ট্রিলিয়ন থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।

তাছাড়া হয়তো চীনা খনিজের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানোরও চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন বিশ্বের বেশিরভাগ খনিজ সরবরাহ করছে তারা। সেদিক থেকে নজর সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠছে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চল, বিশেষ করে রেকো ডিক তামা-সোনা খনি।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধান

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, কিন্তু পাকিস্তানের আছে। সেটাও পাকিস্তানকে একটি ভালো অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করছে। ট্রাম্প যদি ইরানের সঙ্গে সংকট সমাধান করতে চায় বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় তখন পাকিস্তানকে ব্যক্তিগত আলোচনা বা যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সেতু হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে ট্রাম্প যে পাকিস্তানকে ব্যবহার করবে তার কোনও প্রমাণ নেই, তবে সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে তার বেশ কিছু বৈঠক ও বাণিজ্য চুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন কৌশলের।

ট্রাম্প হয়তো এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে পাকিস্তানের ভৌগলিক অবস্থান এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করার চেষ্টা করবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান গোয়েন্দা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দুই দেশের সম্পর্ককে এককালীন নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হিসেবে অভিহিত করা যায়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ট্রাম্প সম্ভবত ভারত থেকে কিছু ছাড় আদায় করতে চান, বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ক্রয় এবং চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে। এই যে ট্রাম্পের পুরস্কার ও শাস্তির নীতি ‍যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘গাজর আর লাঠি’ কৌশল হিসেবে অভিহিত করছেন তা তার চাপ প্রয়োগমূলক কূটনৈতিক ধাঁচেরই অংশ।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে  নতুন কৌশল অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে এসে তারা আঞ্চলিক সমর্থন খুঁজছে। আবার ট্রাম্পের মনে হতে পারে, অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে তিনি পাকিস্তানকে চীনের বলয়মুক্ত করতে পারবেন। যদিও হয়তো তা অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং অবাস্তব প্রত্যাশা, কারণ চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কও অনেক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী।

তথ্যসূত্র : দি ইকনোমিক টাইমস, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found