জুলাই অভ্যুত্থানের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েছে মোড়; আওয়ামী লীগ আমলে শীতল হয়ে থাকা সম্পর্ক উষ্ণতার পরশ পেয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আমলে।
দুই দেশের সরকার প্রধানের সাক্ষাতের পাশাপাশি সফর বিনিময়ও বাড়ছে।
এর ধারাবাহিকতায় ঢাকায় এলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, যিনি দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন তিনি। তারপর সাংবাদিকদের সামনে এসে বললেন, দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান হয়ে গেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমাধান একবার নয়, দুই বার হয়েছে। প্রথমে হয়েছে ১৯৭৪ সালে, তারপর হয়েছে ২০০০ সালে।
১৯৭৪ সাল বলতে কার্যত তিনি ওই বছর স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা বুঝিয়েছেন, যার মধ্যদিয়ে যুদ্ধবন্দিসহ আটকে পড়াদের বিনিময় হয়। আর ২০০০ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাশাসক পারভেজ মুশাররফের দুঃখ প্রকাশকে বুঝিয়েছেন।
২৫ বছরের শোষণ-বঞ্চনার অবসানে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা দমনে পাকিস্তান ১৯৭১ সালে গণহত্যা চালালেও দেশটির পরবর্তী শাসকরা বরাবরই বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় সেই অতীত ভুলে সামনে এগোনোর কথা বলে আসছেন।
ইসহাক দারও সেই কথাই বলেছেন আবার। অতীত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যতের কথাই বারবার বলতে চেয়েছেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন অবশ্য সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেছেন, ইসলামাবাদের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়ের সমাধান হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন না।

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হলে বাংলাদেশ যুক্ত হয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে, পূর্ব পাকিস্তান নামে প্রদেশ হিসাবে।
তার পাঁচ বছরের মাথায় পাকিস্তান নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে পড়ে যখন বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলনে নেমে গুলি েখয়ে মরতে হয়।
এরপর শোষণ-বঞ্চনার মধ্যেও পাকিস্তানের অংশ হয়ে ছিল এই ভূখণ্ডের বাঙালিরা; কিন্তু নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও যখন সরকার গঠন করতে না দিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে আসে প্রতিরোধের ডাক।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যখন বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন আসে স্বাধীনতার ঘোষণা; নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের পর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সেই জনযুদ্ধে বাংলাদেশের অংশীদার ছিল ভারত, যে দেশটির সঙ্গে তাদের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক।
স্বাধীনতার তিন বছর পর বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান। তবে দুই দেশের সম্পর্ক সেই অর্থে নিবিড় ছিল না। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে, বিশেষ করে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে।
গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিলে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের ঘটে অবনতি, বিপরীতে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের ঘটে উন্নতি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড, ইউনূসের সঙ্গে দুই বার বৈঠক হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের; তারা দুজনই সম্পর্ক বিনির্মাণের কথা বলেন।
দেড় দশক পর গত এপ্রিলে ঢাকায় দুই দেশের সচিব পর্যায়ে ফরেন অফিস কনসালটেশন বা আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। তাতে অংশ নিতে আসেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমেনা বালুচ। তার চার মাসের মধ্যে ঢাকায় এলেন ইসহাক দার।
তিনি রবিবার সোনারগাঁও হোটেলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার আগে শনিবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ঢাকা ছাড়ার আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করার কথাও রয়েছে তার।
অমীমাংসিত বিষয়গুলো কী
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ২৩ বছর যে ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তার দাবি তোলে। এছাড়া বন্দি বিনিময় হলেও পাকিস্তানি সেনা ১৯৩ জনকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিও তুলেছিল।
গত এপ্রিলে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠকেও এই বিষয়গুলো তুলেছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আটকেপড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, অবিভাজিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা প্রদান, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঠানো বিদেশি সাহায্যের অর্থ হস্তান্তরের কথা তিনি তুলেছেন।
পাওনা অর্থের হিসাব দিয়ে জসীম উদ্দিন বলেছিলেন, বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যানের এক হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছে পাওনা আছে ৪ বিলিয়ন ডলার। আরেক হিসাবে বলা আছে, ৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন।
এছাড়া ১৯৭০ সালের নভেম্বরে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হয়, সেখানে বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্র এবং সংস্থা ২০০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ দান করেছিল, তার হিস্যাও চেয়েছিলেন জসীম উদ্দিন।
সেই সঙ্গে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সশস্ত্রবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলে বাংলাদেশ।
কিছু দিন আগে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়া জসীম তখন বলেছিলেন, “আমরা বলেছি, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা পাকিস্তানের সাথে বিদ্যমান ঐতিহাসিকভাবে অমীমাংসিত বিষয়সমূহের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি মজবুত, কল্যাণমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করি এবং এই লক্ষ্যে আমরা একযোগে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি।”
ইসহাক দার কী বললেন
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের কাছে সাংবাদিকরা অমীমাংসিত বিষয়গুলোর বিষয়ে জানতে চান।
জবাবে তিনি বলেন, “অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আপনার প্রশ্ন? দেখুন প্রিয় ভাই, ১৯৭৪ সালে ইস্যুটি লিখিতভাবে সমাধান হয়েছে। এই ডকুমেন্টটি ঐতিহাসিক এবং দুই দেশের কাছেই আছে।
“আর তারপর, যখন জেনারেল মুশাররফ এখানে এসেছিলেন, খুব খোলামেলা এবং অকপটে তিনি এই ইস্যুটি তুলে ধরেছিলেন।”
“এবং আমি মনে করি, পরিবারের মধ্যে, দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনও কিছুর একবার সমাধান হলে, সেটা হয়ে গেছে,” এবিষয়ে সিদ্ধান্ত টানেন তিনি।
১৯৭৪ সালে নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের পরররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যে চুক্তিতে সই করেছিলেন, তার আওতায় মুক্তিযুদ্ধের পর তিনটি দেশে আটকরা নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ পায়।
তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের (বিহারি) ফিরিয়ে নেওয়া এবং যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত পাকিস্তানের ১৯৫ জন সামরিক কর্মকর্তার বিচারের দাবি তোলা হয়েছিল, যা উপেক্ষিত হয়।
বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, “জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুসারে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যা, এই যুদ্ধবন্দিদের দ্বারা সংঘটিত বাড়াবাড়ি এবং বহুবিধ অপরাধকে গণ্য করা হয়েছিল এবং সর্বজনীন ঐকমত্য ছিল যে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দির মতো অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে হবে এবং আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে।”

একাত্তরে গণহত্যার জন্য কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি পাকিস্তান; যদিও বিভিন্ন সময় দেশটির বিভিন্ন রাজনীতিক দুঃখ প্রকাশ করেন।
২০০০ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে পারভেজ মুশাররফ ‘গোটা পাকিস্তান জাতির পক্ষ থেকে’ দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন ইসহাক দার।
১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান থাকাকালে পারভেজ মুশাররফ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। নওয়াজের ভাই শেহবাজই এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারি করে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করায় রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে জেনারেল পারভেজ মুশাররফকে পরে পাকিস্তানের আদালত মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। অর্থাৎ তার প্রেসিডেন্ট হওয়াটাই অবৈধ হয়ে পড়ে তার দেশের আদালতেরই রায়ে। নির্বাসিত অবস্থায় ২০২৩ সালে দুবাইয়ে মারা যান তিনি।
ইসহাক দার সাংবাদিকদের আরও বলেন, দুই দেশের এক সঙ্গে কাজ করার ‘বিপুল সম্ভাবনা’ রয়েছে এবং তার বাস্তবায়ন ঘটাতে তারা আগ্রহী।
“আমরা বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা প্রতিরক্ষায় একযোগে কাজ করাসহ পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু। আপনাদের সঙ্গে আমাদের ঐকমত্য আছে, (দ্বিপক্ষীয় আলোচনায়) আমাদের মতামতে কোনও ভিন্নতা ছিল না।”
তৌহিদ হোসেন যা বললেন
অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একমত কি না, সাংবাদিকরা তা জানতে চেয়েছিল পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের কাছে।
জবাবে তিনি বলেন, “আমি অবশ্যই একমত না। একমত হলে তো সমস্যাটার সমাধান হয়ে যেত তাদের মতো করে। আমরা আমাদের অবস্থান বলেছি, ওনারা ওনাদের অবস্থান বলেছেন।”
বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, “আমরা চাই হিসাবপত্র হোক, যেটা টাকা-পয়সার ব্যাপার, সমাধান হোক। আমরা চাই, এখানে যে গণহত্যা হয়েছে, সেটার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করুক, মাফ চাক। আমরা চাই, আটকেপড়া মানুষগুলোকে তারা ফেরত নেবে।”
আলোচনায় অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে শুধু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি; তার ভাষ্যে, “আমরা দুই পক্ষ একমত হয়েছি যে এই বিষয়গুলো আলোচনা করে সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে করে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগুলো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।”

এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করেন না যে ৫৪ বছরের সমস্যা আজকের এক দিনের মিটিংয়ে… যে মিটিংটা গত ১২ থেকে ১৩ বছর পর … এখানে বসে আমরা এক ঘণ্টায় সমাধান করে ফেলতে পারব।
“আমি আপনাদের এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, একটি বিষয়ে শুধু কথা হয়েছে, যেটাকে খানিকটা অগ্রগতি হিসেবে ধরে নিতে পারেন। আমরা তিনটি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছি। দুই পক্ষ একটি বিষয় ঠিক করেছি, যেটা আমাদের সমাধান করতে হবে, সেটি হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যাতে খুব স্মুথলি এগোতে পারি। এজন্য এগুলো পেছনে ফেলতে হবে।”
এসব নিয়ে আরও আলোচনা করতে হবে জানিয়ে তৌহিদ বলেন, “আমরা এনিয়ে কথা বলব এবং চেষ্টা করব, এই ইস্যুগুলো যেন আগামীতে বা কোনো এক পর্যায়ে সমাধান করা যায়।”
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল দাবি করেন তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করে আসা তৌহিদ।
তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই এবং অন্যান্য বন্ধু দেশের সঙ্গেও চাই; এর চেয়ে বেশি কিছু না।”
পাকিস্তানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চীনের উদ্যোগের কারণে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থাটাতে চীনের উৎসাহ আছে, পাকিস্তানেরও উৎসাহ আছে। আমরা তো বলেছি, আপনারা আরও দেশকে নিয়ে আসেন, আমরা একসঙ্গে বসি। আমাদের অবস্থান সেই একই আছে। এটার কারণে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করছি, তা নয়।”



