রুদ্ধশ্বাস জয়ে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। অপেক্ষা ছিল ফাইনালের প্রতিপক্ষের জন্য। একইদিনে (শুক্রবার) টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে ৫ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেছে পাকিস্তান ‘এ’ দল। রবিবারে (২৩ নভেম্বর) ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
দোহার ওয়েস্ট অ্যান্ড পার্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান করেছিল পাকিস্তান। ৩৬ বলে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৯ রান করেছেন গাজী ঘোরি। শ্রীলঙ্কার প্রমোদ মাদুশান ২৯ রানে নেন ৪ উইকেট। ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন ত্রাভিন ম্যাথু।
রান তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। ১.২ ওভারে ২৯ রান তুলে ফেলেন দুই ওপেনার লাসিথ ক্রুসপুল্লে ও ভিষেন হালামবাগে। ৭ বলে ২ চার ও ৩ ছয়ে ২৭ রান করে ক্রুসপুল্লে আউট হয়ে গেলে ভাঙে ওপেনিং জুটি।
হালামবাগে ছোট ছোট জুটি গড়ে দলকে পথেই রাখার চেষ্টা করেন। তবে ৯৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কাকে টেনে তোলেন মিলান রত্নানায়াকে। নবম উইকেট জুটিতে ম্যাথুকে নিয়ে ৪৭ রান তুলে জয়ের আশাও দেখিয়েছিলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কা আর শেষ পর্যন্ত পারেনি। ৩২ বলে ৪০ রান করে ৩ বল বাকি থাকতে আউট হয়ে ফেরেন রত্নানায়াকে। শ্রীলঙ্কাও ৯ উইকেটে ১৪৮ রান তুলে খেলা শেষ করে। পাকিস্তানের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন সাদ মাসুদ ও সুফিয়ান মুকিম।
এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সুপার ওভারে বৈভব সূর্যবংশীকে না নামানোয় সমালোচনায় পড়ে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ পুরো টুর্নামেন্টে দূর্দান্ত খেলেছেন সূর্যবংশী।
তাকে না নামানোর যুক্তি দেখিয়ে ভারতীয় অধিনায়ক জিতেশ বললেন, “ওরা (বৈভব এবং প্রিয়াংশ আর্য) পাওয়ার প্লে-তে খেলার ব্যাপারে দক্ষ। ডেথ ওভারে (শেষের দিকের ওভার) আমি, আশু (আশুতোষ শর্মা) এবং রমন (রমনদীপ সিংহ) চালিয়ে খেলতে পারি। তাই সুপার ওভারে তিন ব্যাটারকে নামানোর সিদ্ধান্ত দলের এবং আমার ছিল।”
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ার প্লে-র অর্থ প্রথম ছয় ওভার, যে সময়ে ৩০ গজের বাইরে মাত্র দুইজন ফিল্ডার রাখা যায়। অর্থাৎ বড় শট খেলা সহজ হয়। বৈভব শুরু থেকে চালিয়ে খেলে পাওয়ার প্লে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে ঠিকই। তবে অন্য সময়েও বেশ দক্ষ। তার প্রমাণ রয়েছে চলতি প্রতিযোগিতাতেই।
আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বৈভব ৪২ বলে ১৪৪ রান করেছিল। সেই ম্যাচে বৈভব আউট হয়েছিল ১২.৩ ওভারে। পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ৪৫ রান করেছিল। আউট হয়েছিল দশম ওভারে।
যদিও এই হার মাথায় রাখতে চাইছেন না জিতেশ। বলেছেন, “ভাল একটা ক্রিকেট ম্যাচ হল। অনেক শিক্ষা পেলাম। সব দোষ আমার। সিনিয়র হিসাবে আমারই ম্যাচটা শেষ করে আসা উচিত ছিল। হার নয়, শিক্ষা নিয়ে ফিরতে চাই আমরা। এই দলে যারা আছে তারা হয়তো এক দিন বিশ্বকাপও জিততে পারে।”



