দিনটা ছিল বৃষ্টিস্নাত। অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালেও হল উইকেটের বৃষ্টি। টস হেরে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া অলআউট মাত্র ২১২ রানে। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা হাল ছাড়েনি। ২১তম ওভারেই ৩০ রারে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ ব্যাটারকে আউট করেছে তারা। ৪৩ রানে ৪ উইকেটে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে প্রোটিয়ারা। সব মিলিয়ে প্রথম দিন উইকেটের পতন ১৪টি।
উইকেট বৃষ্টির দিনটি নিজেদের করে নিয়েছেন কাগিসো রাবাদা ও স্টিভেন স্মিথ। রাবাদা ৫১ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়া ২০০’র বেশি রানের স্কোর করেছে স্মিথের ৬৬ রানে ভর করে। রাবাদার পাশাপাশি স্মিথও গড়েছেন একাধিক রেকর্ড।

কিছুদিন আগে নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনের দায়ে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন রাবাদা। পরে জানা যায়, রাবাদা বিনোদনের জন্য নিষিদ্ধ মাদক নিয়েছেন যা পারফরম্যান্স বর্ধক ছিল না। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা সেই রাবাদা মাত্র দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে তুলে নিয়েছেন ফাইফার। এর আগে চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের প্রথম আসরের ফাইনালে (২০২১) ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের পেসার কাইল জেমিসন।
দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড এখন রাবাদার। ৭১ টেস্টে তার উইকেট ৩৩২টি। তিনি পেছন ফেললেন ৭২ টেস্টে ৩৩০ উইকেট নেওয়া অ্যালান ডোনাল্ডকে। প্রোটিয়াদের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ৪৩৯ উইকেটের রেকর্ড ডেল স্টেইনের।
৬৭ রানে ৪ ব্যাটার হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার হাল ধরেন স্টিভেন স্মিথ ও বিউ ওয়েবস্টার। দুজন মিলে গড়েন ৭৭ রানের জুটি। স্মিথ ৬৬ ও ওয়েবস্টার খেলেন ৭২ রানের ইনিংস। এই ফিফটিতে একাধিক কীর্তি গড়েছেন স্মিথ। পেছনে ফেলেছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, স্যার গ্যারি সোবার্স ও ওয়ারেন বার্ডসলিকে।

ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে সফরকারী ব্যাটারদের মধ্যে চার টেস্টে ৫৫১ রান করেছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান, গ্যারি সোবার্স করেছিলেন পাঁচ টেস্টে ৫৭১ আর পাঁচ ম্যাচে বার্ডসলির রান ছিল ৫৭৫। তাদের ছাড়িয়ে এই মাঠে ছয় টেস্টে ১০ ইনিংসে ৫৯.১০ গড়ে স্মিথের রান এখন সর্বোচ্চ ৫৯১।
স্মিথ কীর্তি গড়েছেন আরেকটি। ইংল্যান্ডের মাটিতে ২৩ টেস্টে তার পঞ্চাশ বা বেশি ইনিংস ১৮টি (৮ সেঞ্চুরি, ১০ ফিফটি), সফরকারী ব্যাটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার ও ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার ভিভ রিচার্ডসের ইনিংস ১৭টি করে।



