Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

বিক্ষোভের মুখে নেপালে প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগ

কে পি শর্মা ওলি।
কে পি শর্মা ওলি।
[publishpress_authors_box]

কারফিউ জারি করে সেনা নামিয়েও বিক্ষোভ থামাতে না পেরে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি।

মঙ্গলবার কারফিউর মধ্যে কাঠমান্ডুজুড়ে বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে হামলার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে।

নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (সংযুক্ত মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) নেতা অলি চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেছিলেন গত বছরের জুলাইয়ে।

নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে তিনি সরকার গঠন করেছিলেন। তার মন্ত্রিসভার সদস্য দুই কংগ্রেস নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং কৃষিমন্ত্রী রামনাথ অধিকারী সোমবারের সহিংস বিক্ষোভের পর পদত্যাগ করলে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল।

দুর্নীতি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জনঅসন্তোষ চলছিল নেপালে। গত বৃহস্পতিবার সরকার সোশাল মিডিয়া বন্ধ করলে তরুণ প্রজন্ম তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। তা দমনে সরকার খড়গহস্ত হলে জনবিক্ষোভ গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়

নেপাল সরকার ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া অ্যাপ নিষিদ্ধ করার কারণ হিসাবে বলেছিল, এই টেক জায়ান্টগুলো সরকারের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হয়নি।

দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার নেতৃত্বে আসে জেনারেশন জেড প্রজন্ম।

জেন-জির এই বিক্ষোভ সোমবার সহিংস হয়ে ওঠে। তাতে কাঠমান্ডুতে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়। তারপর কারফিউ জারি করে সরকার।

তবে কারফিউ উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সকাল থেকে নিউ বানেশ্বরসহ কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। সোমবার নিউ বানেশ্বরেই ১৭ জন নিহত হয়, ইতাহারিতে নিহত হয় আরও দুজন বিক্ষোভকারী।

স্থানীয় প্রশাসন কাঠমান্ডু, ললিতপুর ও ভক্তপুর জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করে। তার মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে নিউ বানেশ্বরে পার্লামেন্ট ভবনের কাছে তরুণরা জড়ো হয়েছিল। তাদের হাতে কোনও ব্যানার ছিল না।

সেখানে থাকা একজন বলেন, “গতকালের ঘটনা সরকারের ব্যর্থতাকে উন্মোচিত করেছে। আমি এখানে তরুণদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।”

সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ভোর থেকেই কালঙ্কি, ছাপাগাঁওসহ কাঠমান্ডুর অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভকারীরা কাঠমান্ডু এবং অন্যান্য জেলার রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের বাসভবন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে এবং কিছু জায়গায় আগুনও দেয়।

ললিতপুরে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুংয়ের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পাউডেলের বাড়িতে পাথর ছোড়া হয়। হামলা হয় গভর্নরের বাড়িতেও। 

বিক্ষোভকারীরা কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (সিপিএন-মাওবাদী) চেয়ারম্যান এবং প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা পুষ্প কমল দাহালের বাড়িতেও পাথর ছোড়ে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার বুধানীলকণ্ঠের বাড়ির আক্রান্ত হয়েছিল, তবে হামলার আগেই বিক্ষোভকারীদের থামায় পুলিশ।

সদ্য পদত্যাগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাসভবনেও হামলা হয়।

বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে সোমবারই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন কৃষিমন্ত্রী রামনাথ অধিকারীও।

এরপর কে পি শর্মা ওলিও পদত্যাগ করলেন, যার মধ্যদিয়ে সরকার ভেঙে গেল।

ওলি ২০১৫ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, সেবার দুই বছর ছিলেন তিনি ক্ষমতায়। এরপর ২০১৮ সাল থেকে তিন বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে টিকলেন ১৪ মাস।

রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী ওলি লিখেছেন, সাংবিধানিক পথে সঙ্কটের সমাধানের পথ তৈরির জন্য তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে এর মধ্যদিয়ে ওলির রাজনৈতিক যাত্রার শেষ দেখছেন অনেকেই।

তথ্যসূত্র : কাঠমান্ডু পোস্ট

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found