Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

শুল্কনীতি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসন কি বিভক্ত

বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ও ইলন মাস্ক।
বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ও ইলন মাস্ক।
[publishpress_authors_box]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের পরিকল্পনায় আগের চেয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। তবুও পিছু হটছেন না ট্রাম্প।

তবে শুল্ক আরোপের ঘটনা নিয়ে এরইমধ্যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত শনিবার ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর সঙ্গে খোলামেলা বিরোধে জড়িয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলন মাস্ক। এছাড়া অন্যদের পক্ষ থেকেও ভিন্নমত উপস্থাপন করা হয়েছে।

ঘটনার শুরু গত বুধবার। সেদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে বড় একটি পরিবর্তন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অর্থনীতিবিদ ও নেতারা এই নীতির সমালোচনার করেছেন। পাশাপাশি তারা উদ্বেগও জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান শেয়ারবাজার – ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক – এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। এটি ছিল ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারির পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় পতন।

বৃহস্পতিবার সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্টের সিনিয়র ট্রেড ও ম্যানুফ্যাকচারিং উপদেষ্টা পিটার নাভারো এই শুল্ক নীতির পক্ষে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এরপর আমরা প্রবৃদ্ধির দিকে এগোবো এবং ট্রাম্পের মেয়াদকালে ডাও জোন্স ৫০ হাজারে পৌঁছাবে।” সোমবার বাণিজ্য শুরুর আগে ডাও জোন্স ছিল ৩৮ হাজার ৩১৪ পয়েন্টে।

সোশাল মিডিয়া এক্সে এক ব্যক্তি নাভারোর সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেন, “তিনি (নাভারো) হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন।”

এর জবাবে প্ল্যাটফর্মটির মালিক ইলন মাস্ক বলেন, “হার্ভার্ড থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি অর্জন করা ভালো নয়, বরং খারাপ।”

নতুন শুল্ক নীতির প্রথম ধাপে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা এবং সৌদি আরবসহ কিছু দেশের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর হয়েছে শনিবার থেকে।

চীন ও ভারতের মতো কয়েকটি দেশের ওপর ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছেন, সেগুলোকে তিনি `পাল্টা শুল্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই শুল্কগুলো ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউরোপের ওপর শুল্ক নিয়ে মাস্কের প্রতিক্রিয়া

পিটার নাভারোকে নিয়ে মন্তব্যই ইলন মাস্কের একমাত্র প্রতিক্রিয়া ছিল না। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি শুল্ক নিয়ে আরও কিছু মন্তব্য করেছেন।

মাস্ক ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে গত শনিবার ইতালির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। সালভিনি ডানপন্থী লিগ পার্টির নেতা। মাস্ক বর্তমানে ট্রাম্পের অধীনে ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (ডিওজিই) তত্ত্বাবধান করছেন। এই সংস্থার কাজ সরকারি ব্যয় কমানো।

সালভিনির সঙ্গে আলোচনায় মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, “আমি আশা করি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে শুল্ক শূন্য অবস্থার দিকে এগোবে। এতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে উঠবে।”

ঠিক এই মন্তব্যের সময় ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছেন।

মাস্ক বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান শেয়ারহোল্ডার। তিনি সম্প্রতি ব্যবসায় কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। ইউরোপে টেসলার গাড়ি বিক্রি ২০২৪ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় এ বছর ৪৯ শতাংশ কমেছে। এই তথ্য ইউরোপীয় অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ২৫ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

এছাড়া টেসলার শেয়ারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিসেম্বরের তুলনায় বর্তমানে এর দাম প্রায় অর্ধেক।

নাভারোর প্রতিক্রিয়া

রবিবার ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিটার নাভারো ইউরোপ নিয়ে মাস্কের শুল্কবিষয়ক মন্তব্যের জবাব দেন।

তিনি বলেন, “ইলন মাস্কের ইউরোপের সঙ্গে শুল্কমুক্ত অঞ্চলের কথা বলা ছিল বেশ অদ্ভুত। তিনি এই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। ইলন মাস্ক সম্পর্কে যেটা বোঝা জরুরি, তা হলো—তিনি গাড়ি বিক্রি করেন। এটাই তার কাজ।”

এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, মাস্কের বক্তব্য আসলে তার ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শুল্ক নিয়ে মাস্কের আগের বক্তব্য

টেসলা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে গত মাসে সতর্ক করে জানায়, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বিদেশি দেশগুলো পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে, তা বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের কাছে লেখা এক স্বাক্ষরবিহীন চিঠিতে টেসলা জানায়, “যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনও বাণিজ্য পদক্ষেপ নেয়, তখন বিদেশি দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়।”

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ফলে টার্গেট করা দেশগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক বাড়ানো।”

ট্রাম্প গত ২৬ মার্চ গাড়ি এবং কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।

এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইলন মাস্ক এক্সে লেখেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—টেসলা এই পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। শুল্কের প্রভাব টেসলার ওপর এখনো যথেষ্ট।”

বিভেদের আরও ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক গত রবিবার সিবিএস নিউজকে বলেন, ১০ শতাংশ হারে প্রাথমিক শুল্ক কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী থাকবে। উচ্চ হারে পাল্টা শুল্ক কার্যকর করা হবে।

তবে একই দিনে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এনবিসির মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে জানান, ৫০টির বেশি দেশ ওয়াশিংটনের সঙ্গে শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা করতে যোগাযোগ করেছে। শেয়ারবাজারে ধসের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বাজার বারবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবমূল্যায়ন করে।”

রবিবারই সিএনএনের উপস্থাপক জেক ট্যাপার কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্সকে প্রশ্ন করেন, ট্রাম্প ও লুটনিক যেভাবে বলছেন, শুল্কগুলো কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদে বলবৎ থাকবে?

তবে রোলিন্স এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত