Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

ট্রাম্প শুল্ক থেকে রেহাই কীভাবে? সরকারের জোর আলোচনায়

trump-letter-to-yunus-about-tariff-080725
[publishpress_authors_box]

বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে নতুন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমেই তা থেকে রেহাই মিলবে বলে আশা করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, এই বিষয়ে আলোচনার জন্য বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাতীয় নিরাপত্তা খলিলুর রহমান এখন ওয়াশিংটনেই রয়েছেন।

বাংলাদেশের রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৪০ কোটি ডলার বা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় এক লাখ এক হাজার ১৬৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজারও যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে শুধু পোশাক পাঠিয়েও আয় হয়েছিল ৮৮ হাজার ৪০২ কোটি টাকা।

রপ্তানির দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্প ফেরার তিন মাস পর গত এপ্রিলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

তখন বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ বাড়তি শুল্ক নির্ধারিত হয়েছিল। আগে থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক থাকায় দুই মিলিয়ে শুল্কের হার ৫২ শতাংশে ওঠে।

তবে পরে ট্রাম্প তার বর্ধিত শুল্ক হার কার্যকরের সময় বাড়িয়ে দেন। এই সময়ে বিভিন্ন দেশকে তার সঙ্গে সমঝোতায় আসার সুযোগ দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শতাধিক দেশের পণ্যে শুল্ক হার বাড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শতাধিক দেশের পণ্যে শুল্ক হার বাড়িয়ে গত ২ এপ্রিল ঝড় তোলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ আলোচনার সেই সুযোগ নেয়, এই ফাঁকে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদেশি পণ্যে শুল্ক ছাড়ের নানা পদক্ষেপ নেয়।  

এদিকে ৯০ দিনের সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার দুদিন আগে সোমবার বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক হারের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে নতুন হার কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকরা এনিয়ে প্রশ্ন করলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই বিষয়ে বুধবার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআরের বৈঠক হবে, সেখানে শুল্ক আরোপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সরাসরি এই আলোচনায় শুল্ক নতুন করে কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন অর্থ উপদেষ্টা।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট নতুন শুল্ক হার নির্ধারণ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চিঠি সাংবাদিকদের কাছে মেলে ধরেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ফেইসবুক পোস্টে বলেন, এনিয়ে আলোচনার জন্য বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও এখন ওয়াশিংটনে রয়েছেন।

তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি আলোচনা সভা করেছে জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ৯ জুলাই আরও একটি আলোচনার সময় নির্ধারিত আছে। শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির আশা করা হচ্ছে, যাতে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে লেখা ট্রাম্পের চিঠি সোমবারই সরকার পেয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব।

৭ জুলাই পাঠানো ওই চিঠিতে ট্রাম্প বলেছেন, “দয়া করে বুঝুন, ৩৫ শতাংশ শুল্ক আমাদের দেশের সঙ্গে আপনার দেশের যে বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়— এই হার আসলে তার চেয়ে অনেক কম।”

এদিকে অর্থ উপদেষ্টা বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক হারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে এত শুল্ক দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।

‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প যে সব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের ওপরই শুল্ক চড়িয়েছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত