Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

বাড়তি শুল্ক ঠেকাতে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ লবিং ফার্ম ভাড়া করল ভারত

mercuryllc_cover
[publishpress_authors_box]

রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনায় শাস্তি হিসাবে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনিয়ে বিগত কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনে অবস্থিত ভারতের দূতাবাস একটি লবিং প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এর অতীত রেকর্ডে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়া বিদেশি সংস্থাগুলোর পক্ষেও প্রতিষ্ঠানটি তদবির করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, দূতাবাস প্রতি মাসে ৭৫ হাজার ডলার দেবে মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স এলএলসিকে নামের লবিং প্রতিষ্ঠানটিকে। প্রতিষ্ঠানটি সরকার-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, গণমাধ্যম পরিচালনা ও অন্যান্য সেবা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৮ আগস্টের এক নথি সূত্রে এই তথ্য পাওয়া যায়।

হোয়াইট হাউসের বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস একসময় মার্কারির সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ফার্মটির অংশীদার ব্রায়ান লানজা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিমের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ভিন্ন আরেকটি নথিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এবিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কারির কাছ থেকেও এবিষয়ে কোনও উত্তর পায়নি ব্লুমবার্গ।

ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে গড়িয়েছে। সর্বশেষ টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে হোয়াইট হাউসের ঘোষণাকে ঘিরে। এতে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বুধবার থেকে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।

হোয়াইট হাউসের যুক্তি, এই তেল কেনা ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলছেন, এ ধরনের কেনাকাটা বৈশ্বিক তেলের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে এবং অতীতে ওয়াশিংটন নিজেই এই কেনাকাটার অনুমোদন দিয়েছিল। 

যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। আর নয়াদিল্লি আশঙ্কা করছে শুল্ক আরোপ রপ্তানিকারকদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে।

শনিবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা সার্জিও গোরকে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছেন। দীর্ঘদিন খালি থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে প্রস্তাব করলেন। 

ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূতের পদসহ বেশ কিছু কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত আসন এতদিন শূন্য থাকায় ভারতীয় কর্মকর্তারা কার্যকরভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হিমশিম খেয়েছেন।

নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের অধ্যাপক এমেরিটাস ব্রহ্ম চেলানি বলেন, “ট্রাম্প সাত মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করেছেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিম্নতম পর্যায়ে নেমে আসে। তারপরই তিনি ভারতের রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেছেন।”

চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ভারতীয় কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ভারতের কাছে অগ্রাধিকার। 

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, সাম্প্রতিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় ট্রাম্প ভারতকে “মৃত অর্থনীতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং “অসহনীয়” বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ তুলেছেন।

মার্কারি বহুবার যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়া বিদেশি ক্লায়েন্টদের পক্ষে লবিং করেছে। চলতি বছর তারা ডেনমার্কের দূতাবাসের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ডেনমার্ক বিরোধিতা করেছিল সেই চাওয়ার।

এর আগে মার্কারি বিভিন্ন চীনা কোম্পানির পক্ষেও কাজ করেছে, যাদের টার্গেট করেছিলেন ট্রাম্প। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে হাংঝৌ হিকভিশন ডিজিটাল টেকনোলজি কোং এর হয়ে লবিং করেছিল। চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে নজরদারি প্রকল্পে কাজ করার কারণে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। একইভাবে নিষিদ্ধ চীনা টেলিকম প্রতিষ্ঠান জেডটিই ক্রপের পক্ষেও লবিং করেছে মার্কারি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ী গৌতম আদানি ওয়াশিংটনে নিজের লবিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন। তিনি বর্তমানে একটি কথিত ঘুষ-কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগের মোকাবিলা করছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found