Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ কেন, কী বলছেন বিক্ষোভকারীরা

tRUMP pROTEST
[publishpress_authors_box]

যুক্তরাষ্ট্রের এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা পেগি কোল। নিজের ৭০তম জন্মদিনের দিন তিনি তার এক বন্ধু মিশিগানের ফ্লিন্ট শহর থেকে দশ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে শনিবার যান ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে।

কোলের মতে, তিনি এই বিক্ষোভে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ তিনি মনে করছেন, এটি আমেরিকানদের জন্য এক “ভয়ানক সময়” এবং গণতন্ত্র এখন বিপদের মুখে।

তার ভাষ্যে, “আমার মনে হয়, (ট্রাম্প) আমাদের সরকার আমাদের গণতন্ত্রকে টুকরো টুকরো করে, ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আর আমরা যদি বসে বসে কিছু না করি, তবে সব শেষ হয়ে যাবে।”

শনিবার সারাদেশে অনুষ্ঠিত এই “নো কিংস” আন্দোলনের এটি ছিল ২ হাজার ৭০০টিরও বেশি সমাবেশের একটি। আয়োজকদের ভাষায় এই আন্দোলনের লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “স্বৈরাচারী” নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। 

গত জুনে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্যায়ের তুলনায় এটি শত শত বেশি সমাবেশ। তখন প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল। সেসময় ট্রাম্প ওয়াশিংটনে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছিলেন।

আয়োজক ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার প্রায় ৭০ লাখ মানুষ এই সমাবেশগুলোতে অংশ নেয়। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই ছিল এক লাখেরও বেশি মানুষ। বড় শহরগুলোর বিশাল সমাবেশের পাশাপাশি “নো কিংস” আন্দোলনের ছোট ছোট দলগুলোকে ব্যস্ত সড়কের ধারে, ছোট শহরের চত্বরগুলোতে এবং স্থানীয় পার্কে দেখা গেছে। সেটা লাল কিংবা নীল রাজ্য যাই হোক না কেন।

অধিকাংশ সমাবেশই শান্তিপূর্ণ ছিল। অবশ্য এর আগের কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দেখা গিয়েছিল অভিবাসী ধরপাকড় অভিযান, ফেডারেল অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে ফেডারেল সেনা মোতায়েনের মতো অস্থিরতা।

দিনের শেষভাগে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তখন কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের ওপর আক্রমণ করে। সাউথ ক্যারোলিনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবাদ স্থলের কাছে গাড়ি চালানোর সময় আগ্নেয়াস্ত্র দেখানোর অভিযোগে। আর জর্জিয়ায় ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে দেখা যায় এক বিক্ষোভকারীর পতাকা কেড়ে নিতে ও আরেকজনকে মাটিতে ফেলে দিতে।

ট্রাম্প প্রশাসন ও কিছু রিপাবলিকান কর্মকর্তা এসব বিক্ষোভকে “সহিংস বামপন্থী চরমপন্থীদের কাজ” বলে অভিহিত করেছেন। “নো কিংস” আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন ইন্ডিভিজিবল প্রজেক্ট জানিয়েছে, তারা “অসহিংস পদক্ষেপের” প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। দেশে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষিতে এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঐক্যের প্রতীক এবং অন্যান্য অসহিংস আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ইঙ্গিত হিসেবে বিক্ষোভকারীদের অনেকে হলুদ রঙের পোশাক পরেছিলেন। আয়োজকদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রচারপত্রে বলা হয়, “হলুদ একটি উজ্জ্বল, অনস্বীকার্য স্মারক যে আমরা লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে বিশ্বাস করি—আমেরিকা রাজাদের নয়, জনগণের।”

আরও কিছু বিক্ষোভকারী পোশাক ও সাজপোশাকের মাধ্যমে প্রতিবাদে অংশ নেন। কেউ বিশালাকার মুরগি, ব্যাঙ বা ডাইনোসরের কস্টিউম পরে এসেছিলেন। কেউ কেউ বলেন, এটি এই আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ চরিত্রটিকেই জোর দেয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের এক বিক্ষোভকারী ইউনিকর্নের পোশাক পরে নাচছিলেন। তিনি বলেন, “কোনও কিছুকে যুদ্ধক্ষেত্র বলা সত্যিই কঠিন, যখন আপনি দেখছেন সেটি মূলত এক ব্লক পার্টির মতো মানুষ স্রেফ হ্যালোউইনের পোশাক পরে আনন্দ করছে।”

বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছিল জোরালো স্লোগান: “এটাই গণতন্ত্রের চেহারা,” “ঘৃণা নয়, ভয় নয়, অভিবাসীরা এখানে স্বাগত।” তারা আমেরিকার পতাকা নাড়াচ্ছিলেন এবং হাতে ছিল বিভিন্ন পোস্টার। সেগুলোতে লেখা ছিল আইসিই, স্বৈরাচারবাদ ও বিলিয়নিয়ারদের বিরোধী বার্তা।

সিএনএন এর মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকরা দেশজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

‘সবাই মিলে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারি’

বিক্ষোভকারীদের অনেকেই জোর দিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষার এখনই সময়। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে সেটিকে ক্ষয় করছে।

অ্যাটলান্টার এক বিক্ষোভে জোয়ান প্রেস বলেন, “আমরা একটি গণতন্ত্রে বাস করি। আর গণতন্ত্রে মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। আমরা নীরব থাকব না।”

অ্যাটলান্টার সমাবেশে বক্তৃতা করেন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনক। তিনি পরে সিএনএনকে বলেন, “এই মুহূর্তে, যখন আমরা দেখছি একজন প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসন এমন ক্ষমতা দাবি করছে যা তাদের প্রাপ্য নয়, তখন আমাদের বার্তা স্পষ্ট: এটি ক্ষমতাসীনদের ব্যাপার নয়, এটি জনগণের ক্ষমতার ব্যাপার।”

জর্জিয়া চ্যাপ্টার ৫০৫০১ সংগঠনের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর কিম্বারলি ডিমার্ট সারাদেশব্যাপী এই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক। তিনি অংশগ্রহণকারীদের স্মরণ করিয়ে দেন, “অ্যাটলান্টা নাগরিক অধিকার আন্দোলনের দোলনা, গণতন্ত্রেরও দোলনা… আমরা সেটি হারাতে চাই না।”

নিউইয়র্ক সিটির বিক্ষোভে এক নারীর হাতে ধরা সাইনবোর্ড লেখা ছিল: “আমরা প্রতিবাদ করি কারণ আমরা আমেরিকাকে ভালোবাসি, এবং আমরা সেটি ফিরে চাই।”

গোপনীয়তার কারণে নাম প্রকাশ না করা ওই নারী বলেন, তিনি ১৯৬০-এর দশক থেকেই প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন, কিন্তু এবার পরিস্থিতি আলাদা মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “৬০ এর দশকে আমরা অধিকার সম্প্রসারণের জন্য লড়েছি। নারীর অধিকার, সমকামী অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার, ভোটাধিকার। কিন্তু এখন সবকিছুই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এখন পুরো গণতন্ত্রই হুমকির মুখে; প্রেস, বিচার বিভাগ, সব মৌলিক স্তম্ভ।”

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে তিনি “গভীর দুঃখ, হারানোর বোধ ও ভয়” অনুভব করছেন।

“আমি আশা করি আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারব,” তিনি বলেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে “নো কিংস” বিক্ষোভে অল ইন ফর ডেমোক্রেসি নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। তারা ১৭৭৬ সালের আমেরিকান বিপ্লব যুদ্ধের যুগের পোশাক ও পরচুলা পরে এসেছিলেন।

ডিসির অধিবাসী লি আয়ার্স কোট, টুপি ও সাদা পরচুলা পরেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি দেখছি আমাদের সব প্রতিষ্ঠান পরিবর্তিত হচ্ছে। আমি চাই না আমাদের দেশ বা আমাদের মানুষ পরিবর্তিত হয়ে যাক। আমি চাই সমগ্র আমেরিকা বুঝুক, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মর্মকথা হলো: কোনও রাজা নয়।”

‘আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই এখন তাদের কাছে ভয়ের বিষয়’

অনেক বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর যে হুমকি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন, সেটি তুলে ধরেছেন।

নেব্রাস্কার লিংকন শহর থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে তার জীবনের প্রথম প্রতিবাদে অংশ নিতে আসা ববি কাস্তিয়ো বলেন, “এখন মনে হয় না আমরা কোনও ধরনের প্রতিক্রিয়া, সরকারি শাস্তি, কর্মস্থলের ঝুঁকি বা পরিবারের চাপের ভয় ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে বা নিরাপদে নিজেদের প্রকাশ করতে পারছি।”

“দ্য সায়েন্স গাই” হিসেবে পরিচিত বিল নাই ডিসির প্রতিবাদে উপস্থিত জনতাকে উজ্জীবিত করে বলেন, ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা “বিরোধিতা সহ্য করতে পারেন না।”

তিনি বলেন, “তাদের কাছে আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাই ভয়ানক। তারা মানুষকে গ্রেপ্তার করছে, আদালতে ন্যায়বিচারের সুযোগ অস্বীকার করছে। তারা টেলিভিশনের সঞ্চালকদের চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

ছোট শহর ও টাউনগুলোর অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শনিবারের বিশাল জনসমাগমে তারা বিস্মিত হয়েছেন।

ওরেগনের অ্যাশল্যান্ডে জোয়েল লেস্কো বলেন, দিনটি ছিল “আমেরিকার প্রতি ভালোবাসা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সম্প্রদায়ের গুরুত্ব, বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের পক্ষে আমাদের কণ্ঠ ব্যবহার করার আনন্দময় উদযাপন।”

নর্থ ক্যারোলিনার রিপাবলিকানপ্রধান হেন্ডারসনভিলে এক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর লেখক লিন অ্যামস সিএনএনকে বলেন, “আপনি যদি এই দেশকে ভালোবাসেন, তবে গণতন্ত্র রক্ষা করা সবার প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আপনি যেখানে থাকেন তাতে কিছু যায় আসে না, ছোট শহরগুলোতেও। বরং হয়তো বিশেষ করে ছোট শহরগুলোতেই।”

অভিবাসনবিরোধী অভিযানে রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার

বিক্ষোভকারীরা বলেন, তারা অংশ নিয়েছেন চলমান অভিবাসন ধরপাকড় অভিযান ও আইসিই বিরোধী আন্দোলনের ওপর সরকারের কঠোর দমননীতির প্রতিবাদ জানাতে। এটি প্রথম শুরু হয়েছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানীয় অভিযানের পর। এরপর থেকে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে আরও বহু শহরে, যেমন শিকাগো, নিউইয়র্ক, ডালাস ও পোর্টল্যান্ডে।

ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি সহিংসতা দমন ও দেশ থেকে অভিবাসী বহিষ্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেন। কিন্তু এটি রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে জুনে ফেডারেল অভিবাসন অভিযান শুরু হয়েছিল এবং গভর্নর গ্যাভিন নিউসম-এর আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প সেখানে ন্যাশনাল গার্ড পাঠান। সেখানকার বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার দাবিতে এবং প্রশাসনের বহিষ্কার অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি হলের সামনে বসে গিলবার্তো বিয়াস সিএনএনকে বলেন, এই বিক্ষোভ “আইসিই-এর উদ্দেশে বার্তা; তারা যা করছে, তা বন্ধ করো।”

লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম নেওয়া মেক্সিকান বংশোদ্ভূত মারিয়া রিভেরা কামিংস বলেন, “আমরা সবাই অভিবাসী। আর এখানে সবারই অধিকার আছে।”

ডিসির এক বিক্ষোভে মাইকেল ল্যাংফেল্ডট বলেন, তিনি প্রতিবাদ করছেন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে “ঘৃণা” এবং শহরগুলোতে সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, “আমার মনে হচ্ছে ফেডারেল সরকার, বিশেষ করে নির্বাহী শাখা অতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। কংগ্রেস এ বিষয়ে কিছুই করছে না।”

২৪ বছর বয়সী হেইলি একটি ফুলানো ব্যাঙের পোশাক পরে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, পোর্টল্যান্ডের বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছেন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা আইসিই অফিসের বাইরে একই রকম ফুলানো পোশাক পরে প্রতিবাদ করেন আংশিকভাবে ট্রাম্পের “যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর” মন্তব্যের প্রতিবাদে।

হেইলি বলেন, “আপনি যেই দেশটাকে ভালোবাসেন, সেটিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নামতে দেখা সত্যিই কষ্টের।”

শিকাগো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র। সেখানে অনেকেই মেক্সিকান পতাকা ও ব্যানার হাতে নেন। সেগুলোতে লেখা ছিল “হ্যান্ডস অফ আওয়ার ডেমোক্রেসি” এবং “আইসিই আউট!”

অভিনেতা জন কুস্যাক শিকাগোর বাসিন্দা এবং হলিউড ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সমালোচনামুখর কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, শহরটির বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশে খুব স্পষ্ট: “গো টু হেল!”

তিনি বলেন, “না, তুমি আমাদের রাস্তায় সেনা নামাতে পারবে না। তুমি এতটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না যাতে ইনসারেকশন অ্যাক্ট জারি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারো।”

ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কোল সিটি থেকে আসা ডাকোটা ইংলার্ট বলেন, তিনি মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে এসেছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই একই রঙের রক্তক্ষরণ করি। আমি তাদের জন্য কষ্ট পাই, যাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, যারা আঘাত পাচ্ছে, নিহত হচ্ছে।”

ফেডারেল তহবিল কর্তন ও স্বাস্থ্যসেবা সংকট

অনেক বিক্ষোভকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফেডারেল তহবিল কাটছাঁট নিয়ে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি নিয়ে। এই বিক্ষোভগুলো এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ফেডারেল সরকার শাটডাউন অবস্থায় রয়েছে। আর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও হোয়াইট হাউস তহবিল বিল নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অচলাবস্থায় আটকে আছে।

দুই সন্তানের মা ড্যানিয়েল গুইন্তো বলেন, মেডিকেইড ও অন্যান্য স্বাস্থ্যনীতি পরিবর্তনের কারণে তার সন্তানদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়বে বলে তিনি উদ্বিগ্ন। এছাড়া জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ও তাকে চিন্তিত করছে।

তিনি শিকাগোর বিক্ষোভে সিএনএনকে বলেন, “আমি বুঝি না কীভাবে আপনি মানুষের মুখ থেকে খাবার কেড়ে নিতে পারেন। কীভাবে আপনি মানুষকে তাদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে দিতে পারেন। কীভাবে আপনি এমন এক পরিবারের চোখের দিকে তাকিয়ে, যাদের চোখে ভয়, তাদের তুলে নিয়ে যেতে পারেন?”

অ্যান্থনি লি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (এফডিএ) কাজ করেন। তিনি জনসেবাকে রক্ষা করতে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।

ডিসির ন্যাশনাল ট্রেজারি এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন অধ্যায়ের সভাপতি লি বলেন, “আমি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি কর্মচারী হিসেবে কাজ করছি। কিন্তু গত কয়েক মাসে আমাদের সরকার ও জনসেবার যেভাবে ধ্বংস হয়েছে, তা সত্যিই ভয়ঙ্কর।”

আরেকজন ফেডারেল কর্মচারী বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তার জীবিকার ওপর আঘাত হেনেছে এবং ফেডারেল কর্মীদের ‘দানব’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, “এই চাকরিগুলো বাতিল হওয়ার ফলে লাখ লাখ মানুষ হুমকির মুখে পড়েছে। তাদের ঘর হারানোর, ছাদের নিচে থাকার, সন্তানদের কলেজে পাঠানোর, আর আমেরিকান ড্রিমকে বাঁচিয়ে রাখার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে।”

এলিজাবেথ নী ২৫ বছর বয়সী এক সমাজকর্মী। তিনি মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা এবং বাল্টিমোরের একটি মানসিক হাসপাতালের কর্মী। 

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে অনেক মানুষ আসছেন যাদের থাকার জায়গা নেই। অনেকে মেডিকেইডের ওপর নির্ভরশীল। এখন সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে।”

ডিসির বিক্ষোভে বক্তব্য দেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি ট্রাম্প ও তার বিলিয়নিয়ার সহযোগীদের যেমন ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস ও মার্ক জাকারবার্গের কঠোর সমালোচনা করেন।

স্যান্ডার্স বলেন, “এই মুহূর্তটি শুধু কোনও এক ব্যক্তির লোভ, দুর্নীতি বা সংবিধানের প্রতি অবজ্ঞার বিষয় নয়। এটি এমন একদল অতিধনী ব্যক্তির ব্যাপার, যারা তাদের অতৃপ্ত লালসায় আমাদের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা দখল করে নিয়েছে নিজেদের ধনী করতে এবং এই দেশের পরিশ্রমী পরিবারের ক্ষতির বিনিময়ে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found