বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নে খিয়াং সম্প্রদায়ের এক নারীকে (২৯) ‘ধর্ষণের পর হত্যায়’ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্র সমাজের’ ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থী সুজন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি বাঞ্ছিতা চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি সুমন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সহ-সভাপতি কবিতা চাকমা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল (বিএমএসসি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ক্যচিংনু মারমা, শিক্ষার্থী উজাই মারমা, বাবুল মারমাসহ আরও অনেকে।
বাঞ্ছিতা চাকমা বলেন, “ওই খিয়াং নারীর তিনটি সন্তান; সে প্রতিদিনের মতো সকালবেলা জুমে কাজ করতে গিয়েছিল। তাকে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে টেনে-হিঁছড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হলো। বিকালের দিকে তার উলঙ্গ মরদেহ পাওয়া গেল। তার শরীরে আঘাত, মাথায় আঘাত। ২৯ বছর বয়সী এই খিয়াং মায়ের ছোট্ট শিশুর বয়স আট মাস; সে এখনো জানে না তার মা আর ফিরবে না। ধর্ষক যারা তাদের যদি সঠিক বিচার না হয় তাহলে এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আমরা আরও দেখতে থাকব।”
শিক্ষাবিদ বাঞ্ছিতা চাকমা আরও বলেন, “আমাদের আদিবাসী নারীরা ঘরে-বাহিরে, জুমে-জমিতে গিয়ে কাজ করে। তারা কাজের জায়গায় গিয়েও যদি নিরাপদ না হয় তাহলে তারা কোথায় যাবে? আমাদের প্রশ্ন এটা, নারী দেখলেই কেন কিছু নরাধমের ধর্ষণের ইচ্ছা জাগে। ধর্ষণের ঘটনাগুলো যুগ-যুগ ধরে ঘটছে। আগের ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়ায় দিন-দিন এসব ঘটেই যাচ্ছে।”
সব ধর্ষণের ঘটনার বিচার করতে রাষ্ট্রের কাছে আবেদনও করেন তিনি।
মানববন্ধনে অন্য বক্তারা বলেন, প্রশাসন অনেক সময় ধর্ষণের ঘটনাগুলোকে নানাভাবে সমর্থন করে এবং ধর্ষকদের বিচার না হওয়া, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলমান থাকার কারণেই বারবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এসময় মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে খিয়াং নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
গত সোমবার বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মংখয় পাড়ার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গল থেকে এক খিয়াং নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা বলছেন, উদ্ধার করা মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার আলামত দেখে মনে হয়েছে, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।



