Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

উৎসবের আমেজে ভোট ডাকসুতে

ducsu-vote-090925-01
[publishpress_authors_box]

সকাল ৮টা বাজার আগেই টিএসসিতে দেখা গেল দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে; ডাকসু নির্বাচনে ভোটে দিতে লাইনে দাঁড়ানো তারা।

ভাদ্রের শেষে সময় যত গড়তে থাকে গরম তত বাড়তে থাকে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।  

তার মধ্যেই ছিলেন ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বৈশাখী মুখার্জী, তিনি বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

ডাকসু নির্বাচনে প্রথম ভোট দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতে তুলতে তিনি বললেন, “ভোট যে উৎসব, এই ফিলটা পাচ্ছি।”

সকালে টিএসসিতে গিয়ে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমাও বললেন, শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। এটা দেখে ভালো লাগছে।

ছয় বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল ছাত্র সংসদগুলোতে ভোট হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, তা একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ক্যাম্পাসে মোট আটটি ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। সেখানে ভোট দেবে ৩৯ হাজার ৮৭৪ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার ২০ হাজার ৯১৫ জন এবং পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন।

ডাকসুতে এবার ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন। আর ১৮টি হল সংসদে নির্বাচন হবে ১৩টি করে পদে। হল সংসদের ২৩৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৫ জন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এবার ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হবে।

ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন ৪৫ জন প্রার্থী, তাদের মধ্যে ৫ জন নারী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে আছেন ২৫ জন প্রার্থী। সদস্য পদে মোট ২১৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ২৩ জন।

অন্যবারের তুলনায় এবার ডাকসুতে ব্যালটের আকার বেড়েছে। এবার ডাকসুতে থাকছে পাঁচ পৃষ্ঠার ব্যালট। আর হল সংসদের থাকছে এক পৃষ্ঠার ব্যালট। এ ভোট দিতে হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) শিটে।

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন কোনও ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্য নেই। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য হলগুলোর আসন বণ্টনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেকটা।

এমন প্রেক্ষাপটে এবারের ডাকসু নির্বাচনে আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ মিলিয়ে অন্তত ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। এর বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন প্রার্থীদের আরেকটি অংশ।

সকালে ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরও কোনও ধরনের গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা যেমন অভিযোগ তুলেছে, তেমনি প্রার্থীদের প্রচার নিয়ে বিরক্তিবোধের কথা বলেছে শিক্ষার্থীরা।

যেমন উমামা ফাতেমা বলেন, “ভোটারদের লাইনটা খুবই আস্তে আস্তে যাচ্ছে। আবার পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত অনেক ঝামেলা হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতরে প্রচুর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।”

এনিয়ে কিছুটা উদ্বেগও প্রকাশ করেন জুলাই অভ্যুত্থানের এই নেতা।

শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, কার্জন হল, উদয়ন স্কুলসহ কয়েকটি কেন্দ্রে ঢোকার পথে জড়ো হয়ে প্রার্থীদের প্রচারে বিরক্তি বোধ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। সেখানে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখে প্রতিবাদ জানান সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফাও।

আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে যে কোনও ধরনের প্রচার চালানো নিষিদ্ধ। তাছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই সব ধরনের প্রচার বন্ধ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন।

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগ করেন অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা।

আবিদ পরে কার্জন হল কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই তিনি ঢুকেছিলেন।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, প্রার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কোনও কার্ড করেনি। সে কারণে তাকে মেয়েদের হলের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে সকালে উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট দিতে আবিদ বলেন, “আজকের এই নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি নতুন দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা কেউ ঘরে বসে থাকবেন না। সবাই আসুন ভোটকেন্দ্রে, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।”

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী খায়রুল হাসান অভিযোগ করেছেন, তাদের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এই বাধা দিচ্ছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।  

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম সকাল থেকে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে কার্জন হল কেন্দ্রে এসে সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক ও সুন্দর রয়েছে।

তবে এই প্যানেলের জিএস প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি জি এম ফরহাদ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ব্যত্যয় হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।

বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষ জানিয়ে বলেছেন, “আশা করি সুন্দর একটি ফলাফল পাব। শিক্ষার্থীরা যে রায় দেবেন, সব প্রার্থী সেটি মেনে নেবেন বলে আশা রাখি।”

ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র বা টিএসসিতে ভোট দিচ্ছে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় এই কেন্দ্রে মোট ৭০০টি ভোট গ্রহণ হয়।

এ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৬৪১ জন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ করতে পারবেন বলে আশা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা।

নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে আর্চওয়ের মধ্যে দিয়ে ঢুকতে হচ্ছে ভোটারদের।

কার সঙ্গে কার লড়াই

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদভুক্ত সংগঠনগুলোর অনুপস্থিতিতে এবার ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে তাদের বিরোধীদের মধ্যে; যারা ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার পতন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় ছিল।

এবারের নির্বাচনে রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের পর গড়ে ওঠা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), সাতটি বাম ছাত্র সংগঠনের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, জুলাই আন্দোলনের নেত্রী উমামা ফাতেমার ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রশিবিরের ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট, তিন বাম সংগঠনের ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্তত ১০টি প্যানেল।

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় প্যানেলগুলো প্রার্থী বাছাইয়ে ওই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে নিয়েছে। এই নতুন বাস্তবতা মাথায় রেখে জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের প্রধান তিন পদ- ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থী করেছে ছাত্রদলও। জুলাই আন্দোলনে তাদের সক্রিয় ভূমিকাও বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

ভিপি পদে মনোনীত আবিদুল ইসলাম খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জিএস পদে শেখ তানভীর বারী হামিম সম্প্রতি ঘোষিত কবি জসীম উদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আর এজিএস পদের তানভীর আল হাদী মায়েদ বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক।

জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকায় থাকাদের প্রতিষ্ঠিত বাগছাসের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের এবং এজিএস প্রার্থী আবু বাকের মজমুদার ওই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারিতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন। এই প্যানেলের এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুনও জুলাই আন্দোলন সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। এখন তিনি বাগছাসের মুখপাত্র।

ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বিভক্তির জেরে বাগছাস থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন অনেকে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জিএস পদে ভোটে নেমে পদ খুইয়েছেন এনসিপি নেতা মাহিন সরকার। পরে বাগছাসের প্রার্থী বাকেরকে সমর্থন দিয়ে মাহিন ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেও বিভিন্ন পদে এখনও স্বতন্ত্র হিসেবে রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

সাতটি বাম ছাত্র সংগঠন মনোনীত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ তাদের ভিপি প্রার্থী করেছে শেখ তাসনীম্ আফরোজ ইমিকে; জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই নেত্রী ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে শামসুন নাহার হলের ভিপি ছিলেন।

প্রতিরোধ পর্ষদ তাদের জিএস প্রার্থী করেছে ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসুকে। আর এজিএস পদে প্রার্থী জাবির আহমেদ জুবেল বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের থেকে বাছাই করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ নামে প্যানেল গড়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। একসময় ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিবও ছিলেন তিনি। প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এ শিক্ষার্থীর প্যানেলে ২৮ পদেই প্রার্থী রয়েছে।

উমামার প্যানেলে জিএস প্রার্থী আল সাদী ভূঁইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি। ২০১৯ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মাস্টার দা সূর্যসেন হলের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সাংবাদিকতার সূত্রে ক্যাম্পাসে পরিচিতির পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন আল সাদী ভূঁইয়া। জুলাইয়ে সরকার পতন আন্দোলনের আগে কোটা পুনর্বহাল করে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে যে দুই ছাত্র আপিল করেছিলেন, তাদের একজন ছিলেন তিনি। উমামার প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জাহেদ আহমদ পাঠচক্রের প্ল্যাটফর্ম ‘গুরুভার আড্ডা’র সংগঠক।

জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকায় থাকা আবু সাদিক কায়েম যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি, তা জানা ছিল না আন্দোলনের সংগঠকদের অনেকের কাছেও। পরে তার পরিচয় প্রকাশ্যে এলে হতবাক হন অনেকে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিককে ডাকসুতে ভিপি প্রার্থী করেছে ছাত্রশিবির।

জিএস পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী এস এম ফরহাদ এখন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। জসীম উদ্‌দীন হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউট ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

গোপনে ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালানো ছাত্রশিবির নেতা ফরহাদের ছাত্রলীগে নাম লেখানোর ঘটনা গড়িয়েছে উচ্চ আদালত পর্যন্ত। এক সময় সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউট শাখার ছাত্রলীগের সম্পাদক পদধারী হিসেবে তার নামের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরলেও তিনি এটা অস্বীকার করে আসছেন।

ছাত্রশিবির মনোনীত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী মুহাঃ মহিউদ্দীন খান সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক।

ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের একাংশ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল-বাংলাদেশ জাসদ) নিয়ে ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেল ১৩ জন প্রার্থী দিতে পেরেছে।

এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নাইম হাসান হৃদয় বিসিএল-জাসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক এনামুল হাসান অনয় এ প্যানেলের জিএস এবং ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব অদিতি ইসলাম এজিএস প্রার্থী।

সুন্দর বাচনভঙ্গি ও ভিন্নধর্মী ইশতেহার দিয়ে এবার ভোটের মাঠে আলোচনা তৈরি করেছেন ভিপি পদপ্রার্থী শামীম হোসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী; থাকেন বিজয় একাত্তর হলে। অতীতে ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদভুক্ত সংগঠন জাসদ ছাত্রলীগের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেখা গেছে তাকে।

২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ডাকসু ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এবার ভিপি প্রার্থী করেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাকে। জিএস হিসেবে সাবিনা ইয়াসমিনকে এবং এজিএস পদে লড়বেন ছাত্র অধিকারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলামকে প্রার্থী করেছে সংগঠনটি।

মুখে সিগারেট ও অভিনব ইশতেহার দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান। মাস্টারদা সূর্য সেন হলের এ আবাসিক শিক্ষার্থী এবার ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। ফেইসবুক পোস্ট দিয়ে শুরুতেই বেশ আলোচনা তোলা এই প্রার্থী এখন ভোটের মাঠে কেমন করছেন, তা নিয়ে নানান আলোচনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found