Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

পদোন্নতির দাবিতে কলমবিরতির হুঁশিয়ারি চিকিৎসকদের

dr forum
[publishpress_authors_box]

পদোন্নতি পেতে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা, তা না হলে সারা দেশে কলমবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিরেক্টর কনফারেন্স কক্ষে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম এই ঘোষণা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আগামী পাঁচ মার্চ থেকে সারা দেশের প্রত্যেক হাসপাতালে সকল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সকাল নয়টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা কলমবিরতি পালন করবেন। আর বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে আগামী ১১ মার্চ থেকে পূর্ণাঙ্গ কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংগঠনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আল আমিন জানান, এই কর্মসূচিতে চিকিৎসকরা কোনও রোগী দেখবেন না। শুধুমাত্র জরুরি সেবা দেওয়া হবে।

পদোন্নতিযোগ্য সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ‘সুপারনিউমারারি বা সংখ্যাতিরিক্ত হিসাবে’ পদোন্নতি দাবি করে তিনি বলেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি আদায় না হলে প্রথমে তিনদিন দুই ঘণ্টা করে এবং পরবর্তীতে টানা কলম বিরতিতে যাওয়া হবে।”

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যে পদোন্নতি দাবি করছেন সেখানে অর্থনৈতিক বা বেতন বৃদ্ধির বিষয় নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দাবি শুধু পদোন্নতির জন্য।”

দীর্ঘ সময় ধরে মিথ্যা আশ্বাসে পদোন্নতি আটকে রাখা হচ্ছে মন্তব্য করে সংগঠনের আরেক নেতা বশির আহম্মেদ খান বলেন, “তাই এখন আমাদের এক দফা এক দাবি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পদোন্নতির যোগ্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পদোন্নতি দিতে হবে।”

তা না হলে চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে যাবেন, তাতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যদি কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তাহলে তার দায় মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেডিকেল কলেজগুলোর পদ তৈরির পাশাপাশি পদোন্নতি জরুরি উল্লেখ করে বশির আহম্মেদ খান বলেন, “পদোন্নতি না হওয়ায় অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাদের নিজস্ব বিষয় বাদ দিয়ে অন্য সেক্টরে দায়িত্ব পালন করছে। এতে যেমন মেধা অপচয় হচ্ছে, তেমনি ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রকৃত সেবা থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দেশের প্রায় সাত হাজার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জুনিয়র কনসালটেন্ট ও মেডিকেল অফিসার/ ডেন্টাল সার্জন হয়ে একই পদে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রমোশনের অপেক্ষা করছে। সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপকরাও তাদের পরবর্তী পদোন্নতির সব যোগ্যতা অর্জন করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়মিতকরণ করা হয়নি অনেক বছর। তাতে আন্তঃক্যাডার ও অন্য ক্যাডারের সঙ্গে দিন দিন বৈষম্য বাড়ছে।

এ অবস্থার অবসানে ‘চিকিৎসকদের ভুতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি দিতে হবে’ বলে দাবি করেন তিনি।

খুব সহজে চিকিৎসকরা কলমবিরতির মতো কর্মসূচিতে যেতে চাননি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বার বার তাগাদা সত্ত্বেও কেবল আশ্বাসই পেয়েছি। সেটা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।”

দশ বছর আগে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শেষ করেও এখন একটি উপজেলা হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক মুস্তাব মৌসুমী। সংবাদ সম্মেলনে নিজের হতাশা কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রতি বছর পুরনো ও নতুন মেডিকেল কলেজগুলোতে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। পুরনোগুলোয় ২৫০ জন এবং নতুনগুলোতে ৭৫ হাজার ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে প্রতি বছর। তবে সে অনুপাতে পদ সৃষ্টি না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মাঝে ব্যবধান অনেক বেড়ে গেছে।”

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত