Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি শেখাল শ্রীলঙ্কা

m1
[publishpress_authors_box]

টি-টোয়েন্টি এখন রানের খেলা। নিয়মিতই ২০০ রান হচ্ছে আইপিএলসহ বিশ্বব্যাপী চলা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলোয়। সেখানে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেলল পুরোনো যুগের ক্রিকেট। শুরুতে ব্যাট করে থামল মাত্র ১৫৪ রানে। সহজ লক্ষ্যটা ৬ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে সহজেই পেরিয়ে গেল লঙ্কানরা।

শ্রীলঙ্কার ৭ উইকেটের জয়ের নায়ক কুশল মেন্ডিস খেললেন ৫১ বলে ৫ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৭৩ রানের ইনিংস। পাথুম নিশাঙ্কা করেন ১৬ বলে ৪২। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে ২৮ বলে ৭৩ রানেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি কীভাবে খেলতে হয় সেটাও শিখিয়ে গেলেন দুই ওপেনার। হয়তো ম্যাচটা তারা ১৯ ওভার পর্যন্ত খেলেছে, কিন্তু লাগামটা সবসময় রেখেছিল নিজেদেরই হাতে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলের আজকের হারটি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের টানা ষষ্ঠ। মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুটি আর মে–জুনে পাকিস্তানে তিনটি টি-টোয়েন্টি হেরেছিলেন লিটনরা। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টি ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত হবে ১৩ জুলাই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৪/৫ (পারভেজ ৩৮, নাইম ৩২, মিরাজ ২৯, শামীম ১৪; থিকশানা ২/৩৭)। শ্রীলঙ্কা: ১৯ ওভারে ১৫৯/৩ (মেন্ডিস ৭৩, নিশাঙ্কা ৪২, পেরেরা ২৪; মিরাজ ১/২৪, সাইফউদ্দিন ১/২২, রিশাদ ১/২৪)। ফল: শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কুশল মেন্ডিস।

শামীমের শেষের ঝড়ে বাংলাদেশের ১৫৪

পাওয়ার প্লে-তে উঠল ৫৪ রান। বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাটা বাড়াবাড়ি ছিল না তখন। কিন্তু পুরনো ‘রোগ’ থেকে এবারও মুক্তি মিলল না। তানজিদ হাসান তামিম আউট হতেই ভেঙে পড়ল টপ অর্ডার। মিডল অর্ডারেও টি-টোয়েন্টিসুলভ রান উঠল না। এরপরও বাংলাদেশের স্কোর দেড়শ ছাড়িয়েছে লোয়ার মিডল অর্ডারে মেহেদী হাসান মিরাজ ও শামীম পাটোয়ারির কার্যকরী ব্যাটিংয়ে। ৩ বছর পর ফেরা নাইম শেখের ইনিংসটাও রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

পাল্লেকেলের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৪ রান করেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানালে উদ্বোধনী জুটিতে দ্রুত ৪৬ রান যোগ করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান তামিম। সর্বোচ্চ ৩৮ রান এসেছে ইমনের ব্যাট থেকে।

ইমন শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন। অন্যদিকে তামিম খেলছিলেন দেখেশুনে। কিন্তু তিনিই আউট হয়েছেন আগে। ১৭ বলে ১৬ রান করে নুয়ান থুসারার বলে মাহিশ থিকশানাকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটার। তার ইনিংসে ছিল দুটি চারের মার।

তামিমের বিদায়ের পরই বাংলাদেশের ছন্দপতন। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া লিটন আবারও ব্যর্থ হয়েছেন। একদিন আগেই প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু জানিয়েছিলেন- খারাপ, খুবই খারাপ সময় যাচ্ছে লিটন দাসের। কিন্তু ওয়ানডের ব্যর্থতা দিয়ে তো টি-টোয়েন্টির বিবেচনা করা যায় না। এর ওপর লিটন টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। তাই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কুড়ি ওভারের সিরিজে তিনি খেলবেনই। এতে ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার সুযোগ আসে তার সামনে। কিন্তু লিটনের কিছুতেই যে কিছু হচ্ছে না!

শামীম পাটোয়ারি ৫ বলে অপরাজিত ছিলেন ১৪ রানে। (ফাইল ছবি)

পাল্লেকেলের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও তিনি ব্যর্থ। মন্থর ব্যাটিংয়ে দেখেশুনে ক্রিজে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেও পারলেন না। ১১ বলে ৬ রান করে আউট হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। জেফরি ভ্যান্ডারসের গুগলিতে কাটা পড়ে ব্যর্থতার ষোলকলা পূরণ করেছেন তিনি।

ওয়ানডের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল থেকে বাদ পড়েছিলেন লিটন। এরপর কিছু না করেই শ্রীলঙ্কা সফরের ওয়ানডে দলে জায়গা হয় এই উইকেটকিপারের। প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ‘ডাক’ মারায় শেষ দুই ওয়ানডেতে বিবেচিত হননি। সেই লিটন ফরম্যাট বদলে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হয়ে মাঠে নেমে, নড়বড়ে ব্যাটিংয়ে আউট হয়ে দলের চাপ বাড়িয়ে এসেছেন।

লিটনের আউটের পরপরই ফিরে যান দারুণ খেলতে থাকা ইমন। থিকশানার বলে বিগ শট খেলতে গিয়ে লং অনে দাসুন শানাকার হাতে ধরা পড়েন। ২২ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেছেন ইমন।

শেষ ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। এরপরও তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে মন্থর ব্যাটিংয়ের কারণে। টি-টোয়েন্টিতেও ছিল তার ধীরগতির ব্যাটিং। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, শানাকার অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতেই পারছিলেন না এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ওই শানাকার বলেই ১৩ বলে ১০ রান করে বিদায় নেন হৃদয়।

তবে নাইমের ফেরাটা মন্দ হয়নি। যদিও তার ব্যাটিংটা টি-টোয়েন্টিসুলভ ছিল না। ৩ বছর পর মাঠে নেমে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ২৯ বলের ইনিংসে তিনি মেরেছেন ১ চার ও ১ ছক্কা।

নাইমের সঙ্গে মিরাজের জুটিতেই দেড়শ ছাড়ানোর ভিত পায় বাংলাদেশ। মিরাজ ২৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ২৯ রান। আর শেষ দিকে শামীমের দুর্দান্ত ক্যামিওতে লড়াই করার স্কোর পেয়েছে সফরকারীরা। বাঁহাতি ব্যাটার ৫ বলে ২ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে।

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found