বাংলাদেশের টপ অর্ডার নড়বড়ে থাকে বেশিরভাগ সময়। এতটাই যে টেস্ট ইতিহাসে একবারই প্রথম তিন ব্যাটার করেছিলেন ফিফটি। সেটাও ২০১০ সালে লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে।
১৫ বছর পর আজ সিলেটে আবারও ফিফটি করলেন প্রথম তিন ব্যাটার। ওপেনিংয়ে ১৬৮ রানের জুটি গড়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম। সেঞ্চুরির সুবাস জাগিয়েও ৮০ রানে ফেরেন সাদমান। ওভার দ্য উইকেট থেকে করা ম্যাথু হামপ্রেইসের নিচু হওয়া ডেলিভারিটি সাদমানের ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক লরকান টাকারের মুঠোয় চলে যায়। আবেদন করে আইরিশরা। সায় দেয়নি আম্পায়াররা। রিভিউতে সাদমানের বিদায় নিশ্চিত করে আয়ারল্যান্ড।
প্রত্যাবর্তনের টেস্টে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছেন জয়। আর ছক্কা মেরে ফিফটি করেছেন মুমিনুল হক। অ্যান্ডি ম্যাকব্রেইনকে ছক্কা মেরে ৭৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মুমিনুল। দ্বিতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে একশ রানের জুটিও গড়ে ফেলেছেন তিনি। সে সঙ্গে প্রথম তিন ব্যাটারের ফিফটি বা বেশি রানের কীর্তিও করে ফেলেছে বাংলাদেশ।

জয় ব্যাট করছেন ১৬৮ রানে। মুমিনুল অপরাজিত ৭৯ রানে। আয়ারল্যান্ডের ২৮৬ রানের জবাবে ৮৪ ওভারে বাংলাদেশ করেছে ১ উইকেটে ৩৩৬। বাংলাদেশের লিড ৫০ রানের।
লাঞ্চের আগেই ১০০ ছড়ানো জুটি দুই বাংলাদেশি ওপেনারের
সিলেট টেস্টে ওয়ানডে মেজাজে খেলছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। দারুণ ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে ১০০ ছড়ানো জুটি গড়েছেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম এবং মাহমুদুল হাসান জয়। দুজনই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছেন।
সাদমান ফিফটি করেছেন ৪৯ বলে, যা তার ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ সেঞ্চুরি। আর মাহমুদুল হাসান জয় হাফ সেঞ্চুরি করেন ৭২ বলে। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ফেরাটা মাহমুদুল রাঙালেন ফিফটি করে।
২৪ ওভারে বিনা উইকেটে ১০৯ রান করে লাঞ্চে গেছে বাংলাশে। দুই ওপেনার রান তুলছেন অনেকটা ওয়ানডের মতই, ওভার প্রতি ৪.৫৪ রেটে। সাদমান ৬৫ বলে ৫৮ আর জয় ব্যাট করছেন ৭৭ বলে ৫০ রানে।
২৮৬ রানে অলআউট আয়ারল্যান্ড

প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ২৭০ রানে আজ দ্বিতীয় দিনে খেলতে নামে আয়ারল্যান্ড। দিনের প্রথম ওভার বোলিংয়ে আসা হাসানকে দুটি চার মেরেছেন ব্যারি ম্যাকার্থি। আক্রমণাত্মক শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও পরের ৮ বলের মধ্যে শেষ ২ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রানে অলআউট হয়েছে আইরিশরা।
৯২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ম্যাথু হামফ্রিজকে (০) এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল। সেই ওভারে ক্রেগ ইয়াং একটা ছক্কা মেরেছেন। এরপর ৯৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ম্যাকার্থিকে (৩১) বোল্ড করে সফরকারীদের গুটিয়ে দেন হাসান মাহমুদ।
আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন পল স্টার্লিং। ৭৬ বলের ইনিংসে মেরেছেন ৯ চার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন ক্যাড কারমাইকেল। বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ ২৩ ওভারে ৫০ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ, হাসান মুরাদ ও তাইজুল।
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯২.২ ওভারে ২৮৬ (স্টার্লিং ৬০, কারমাইকেল ৫৯, ক্যাম্ফার ৪৪, টাকার ৪১, নিল ৩০, ম্যাকার্থি ৩১; মিরাজ ৩/৫০, মুরাদ ২/৪৭, হাসান মাহমুদ ২/৪২, তাইজুল ২/৭৮, রানা ১/৬৫)।



