১০০তম টেস্টটা মুশফিকুর রহিম রাঙিয়েছেন নিজের মতো করে। ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে ক্যারিয়ারের সেঞ্চুরি টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ২১৭ রানে ম্যাচ জেতায় মুশফিক নাম লিখিয়েছেন ইনজামাম উল হক, রিকি পন্টিং, ডেভিড ওয়ার্নারদের মতো কিংবদন্তিদের তালিকায়। শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে জয় পাওয়া অষ্টম ক্রিকেটার এখন মুশফিক। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রান করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন মুশফিক।
মুশফিকের এই কীর্তিতে দলের অন্যরাও শততম টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখছেন এখন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বললেন, ‘‘আমরা উপভোগ করেছি। মুশফিক ভাই উপভোগ করেছেন। আমাদের ড্রেসিংরুমে একজন পেসার বলছিল যে সে ১০০ টেস্ট খেলতে চায়। পেসার হলে আগে ১০০ উইকেট নেওয়ার কথা বলত। এখন মজা করে ১০০ টেস্ট খেলার কথা বলছে। আমাদের মধ্যেও এই ব্যাপারটা কাজ করেনি।’’

শততম টেস্টের মাহাত্ম্য নিয়ে শান্ত জানালেন,‘‘ মুশফিক ভাই যখন ১০০ টেস্ট খেললেন, তখন বুঝতে পারলাম তিনি কী অর্জন করেছেন। আমরাও এখন এটা নিয়ে কথাবার্তা বলছি। ১০ ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারও চাচ্ছে ১০০ টেস্ট খেলতে। এখন জিনিসটা সবাই বুঝতে শুরু করেছে।’’
মুশফিক ম্যাচ সেরা হয়ে জানালেন থামতে চান না এখানেই, ‘‘আল্লাহ আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এতদিনে ১০০টা টেস্ট খেলেছি, সামনে আরও কয়েকটা খেলতে চাই। প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করি। দেশের হয়ে ১০০ টেস্ট খেলার সৌভাগ্য সত্যিই বিশেষ। আজও মনে হচ্ছে যেন প্রথম ম্যাচটাই খেলছি। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়।’’

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে আয়ারল্যান্ড অলআউট হয়ে গেছে ২৯১ রানে। কার্টিস ক্যাম্ফার ৭১ রানে অপরাজিত থাকলেও তার দল হেরেছে ২১৭ রানের বিশাল ব্যবধানে। ম্যাচ শেষে লড়াইয়ের জন্য আয়ারল্যান্ড দলকে কৃতিত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ শান্ত,‘‘এটাই তো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য আমার মনে হয়, ছোট দল বড় দল বলে আসলে কিছু নেই। ওরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছে, এটা মানতেই হবে এবং এরকম একটা ৫ম দিনের উইকেটে এসে যেভাবে ওরা চ্যালেঞ্জ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের ছুড়ে দিয়েছে, অবশ্যই ওদেরকে এই কৃতিত্বটা দিতে হবে।’’



