Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ইতিহাসের সবচেয়ে কম

চলতি অর্থ বছরের এডিপি বাস্তবায়নে মন্থরগতি দেখা দিয়েছে। ফাইল ছবি।
[publishpress_authors_box]

অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি ফেরেনি ১০ মাসেও।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থ বছর শেষের পথে। তার আগে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংশোধনও করা হয়েছিল।

তাতেও দেখা যাচেছ, সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দের মাত্র ৪১ শতাংশ ব্যয় করা গেছে ১০ মাসে। টাকার অঙ্কে তা ৯৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দের প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং বৈদেশিক সহায়তা তহবিল থেকে প্রায় ৪৪ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

গত এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসের এই বাস্তবায়ন বাংলাদেশে এডিপি বাস্তবায়নের ইতিহাসে সবচেয়ে কম। এমনকি কোভিড মহামারির সময় যখন সব কিছু স্থবির ছিল, তখনও এডিপি বাস্তবায়ন এবারের চেয়ে বেশি ছিল। মহামারির সময় বা ২০২০-২১ অর্থ বছরের ১০ মাসে বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ শতাংশ।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আইএমইডির একজন কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “চলতি অর্থ বছরের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন শৃঙ্খলার অবনতিকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

“অর্থ বছরের শুরুতে প্রতি বছরেই বাস্তবায়ন একটু কম থাকে, তা পরের মাসগুলোতে পুষিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু চলতি অর্থ বছরে মুলত চলমান প্রকল্পগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী অর্থের জোগান দিতে না পারায় উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।”

চলতি অর্থ বছরের জন্য ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি গ্রহণ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের পতনের পর আসা অন্তর্বর্তী সরকার গত মার্চ মাসে তা ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনে।

আইএমইডির ওই কর্মকর্তা বলেন, “এডিপি বাস্তবায়নের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন খাত বাস্তবায়নে কিছুটা এগিয়ে থাকে। আর নানা রকম শর্ত থাকায় বৈদেশিক সহায়তা খাতের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকে।

“কিন্তু এবার তাতেও দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বৈদেশিক সহায়তা খাতের বাস্তবায়ন ১০ মাসে প্রায় ৪৪ শতাংশ হলেও দেশীয় অর্থায়ন খাতের বাস্তবায়ন মাত্র ৪১ শতাংশ। তাই এবার এডিপি বাস্তবায়নের হার ইতিহাসের সবচেয়ে কম হতে পারে।”

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১০ মাসে কম বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোই প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি পিছিয়ে রয়েছে। এরমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন মাত্র ১ দশমিক ২৯ শতাংশ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ মাত্র ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, জননিরাপত্তা বিভাগ প্রায় ১২ শতাংশ, ভূমি মন্ত্রণালয় ১২ শতাংশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৪ শতাংশ, সরকারি কর্মকমিশন প্রায় ১৭ শতাংশ এবং  সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৮ শতাংশ বরাদ্দ খরচ করতে পেরেছে।

অন্যদিকে বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর গড় বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। এই মন্ত্রণালয়গুলোতে মোট বরাদ্দের ৭৪ শতাংশের বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এই মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৮৬ শতাংশ বরাদ্দ খরচ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। কৃষি মন্ত্রণালয় খরচ করেছে ৬২ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ব্যয় করেছে প্রায় ৬২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ৫৪ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় করেছে প্রায় ৫১ শতাংশ।

এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রায় ৫১ শতাংশ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৪৯ শতাংশ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৪৮ শতাংশ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ ৪৬ শতাংশ এবং প্রাথমিক শিক্ষা ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ৪৩ শতাংশ এডিপি বরাদ্দ খরচ করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত