Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

এডিপির ৭০% বরাদ্দ ৫ খাতে

nec-meeting-180525
[publishpress_authors_box]

আগামী অর্থ বছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অর্থের ৭০ শতাংশই ব্যয় হবে পাঁচটি খাতে।

রবিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী অর্থ বছরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য এডিপির আকার অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত এডিপি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের মূল এডিপি থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা কম, তবে সংশোধিত এডিপি থেকে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার এডিপিতে বরাদ্দ রেখেছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। গত অন্তর্বর্তী সরকার গত মার্চ মাসে তা সংশোধন করে কমিয়ে আনে।

রবিবার এনইসি বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এডিপির খাতওয়ারি বরাদ্দ জানানোর পাশাপাশি আগামী বাজেট সম্পর্কে ধারণা দেন।

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি কমানো, দুর্নীতিকেন্দ্রিক দুষ্ট চক্র থেকে বের হয়ে আসা এবারের বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। টেকসই বাজেট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শৃঙ্খলা পূনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে আগামী অর্থ বছরের জন্য বাজেট দেওয়া হবে।”

তিনি জানান, আগামী অর্থ বছরের এডিপিতে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া পাঁচ খাতকেই প্রায় ৭০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার ৯৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বা ২৫.৬৪ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার ৩৯২ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা ১৪ শতাংশ।

শিক্ষা খাতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা বা ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাবলী খাতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য খাতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এই পাঁচ খাতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা খাতভিত্তিক মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হিসাব করলে দেখা যায়, ১০টি মন্ত্রণালয়ের জন্য রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৭৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

স্থানীয় সরকার বিভাগকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বা মোট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার ৩২৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বিদ্যুৎ বিভাগকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ২৮৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ২১ শতাংশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১২ হাজার ১৫৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৬১৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৩৯৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৩৮৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৪৮৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৭১৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বা মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ।

যে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা বা ৬২ দশমিক ৬২ শতাংশ।

বৈদেশিক সহায়তা বা ঋণ খাত থেকে জোগান দেওয়া হবে ৮৬ হাজার কোটি টাকা বা ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, আগামী অর্থ বছরের জন্য এডিপিতে মোট ১ হাজার ১৭১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৯টি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, ৯৯টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এবং ৬০টি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত