ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর কার্লো আনচেলত্তি ডাকেননি নেইমারকে। এই তারকার সুযোগ হয়নি একবারও। সেনেগাল আর তিউনিসিয়ার বিপক্ষে চলতি মাসে হতে যাওয়া প্রীতি ম্যাচের দলেও নেই নেইমার।
আগামী ১৫ নভেম্বর লন্ডনে এমিরেটস স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল। ১৮ নভেম্বর ফ্রান্সের লিলে তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। এই দুই প্রীতি ম্যাচের জন্য সোমবার ২৬ জনের দল ঘোষণা করেছেন আনচেলত্তি। সদ্য চোট থেকে ফেরা নেইমার নেই সেই দলে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বশেষ ম্যাচ তিনি খেলেছেন ২০২৩-এর অক্টোবরে। দুই বছর আগে ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাছাইপর্বের ম্যাচ। ব্রাজিলের হয়ে এখন পর্যন্ত ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করেছেন তিনি। অ্যাসিস্ট করেছেন ৫৯ ম্যাচে।
তাহলে কী বিশ্বকাপের দলে জায়গা হবে না নেইমারের? আনচেলত্তি দুয়ারটা বন্ধ করে দেননি। তবে পুরো ফিট হতে একপ্রকার সময় বেঁধে দিলেন ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত।
দল ঘোষণার পর আনচেলত্তি বলেছেন,“আর কথা হয়নি নেইমারের সঙ্গে। আমরা দেখব সে কখন সেরে উঠে খেলায় ফিরতে পারে। জুনের দল গঠনের কাছাকাছি আছি আমরা। ১৭ বা ১৮ জন খেলোয়াড় চূড়ান্ত হয়েছে। চোটের উপরও এটা নির্ভর মার্চের দল হবে চূড়ান্ত দলের খুব কাছাকাছি।’’

কদিন আগে এল ক্লাসিকোয় বদলি হওয়ায় মেজাজ হারিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। জাবি আলোনসোর কাছে পরে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। এ নিয়ে রিয়াল থেকেই ব্রাজিলে আসা আনচেলত্তি বললেন, ‘‘সে ক্ষমা চেয়েছে, ব্যাপারটা সেখানেই শেষ। সে খুব গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এখানে, ক্লাবে বা কোচের সঙ্গে তার কোনো সমস্যা নেই। আমি তার বাবা বা ভাই কোনোটাই নই। আমি শুধু তার কোচ থাকতে চাই।’’
সেনেগাল-তিউনিসিয়া ম্যাচের দলে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের তিন তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রোদ্রিগো ও এদের মিলিতাও। আনচেলত্তির ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলে আছেন তিন গোলরক্ষক বেন্তো, এদেরসন ও হুগো সুজা। রক্ষণভাগে মার্কিনিওসসহ আছেন ১০ ফুটবলার। মাঝমাঠে কাসেমিরো-লুকাস পাকেতাদের সঙ্গে আছেন আন্দ্রে সান্তোস, ব্রুনো গিমারেস ও ফ্যাবিনিও।
তিউনিসিয়া-সেনেগাল ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘদিন পর ফিরছেন ফ্যাবিনিও ও রকি। ব্রাজিলের জার্সিতে ফ্যাবিনিওর ফেরা হচ্ছে তিন বছর পর। তিনি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলছেন ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে। আর রকির তো ব্রাজিলের জার্সিতে এক ম্যাচ খেলার পর আর সুযোগই হয়নি। ২০২৩ সালের মার্চে মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় তাঁর। এ ছাড়া চোটে পড়ায় ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া ও গোলরক্ষক অ্যালিসনের সুযোগ হয়নি তিউনিসিয়া-সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের দলে।
ব্রাজিলের স্কোয়াড
গোলরক্ষক : বেন্তো (আল নাসর), এদেরসন (ফেনারবাচ), হুগো সুজা (করিন্থিয়ানস)।
ডিফেন্ডার : আলেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), কাইয়ো হেনরিক (মোনাকো), এদের মিলিতাও (রিয়াল মাদ্রিদ), ফ্যাব্রিসিও ব্রুনো (ক্রুজেইরো), গ্যাব্রিয়েল মাগালিস (আর্সেনাল), লুসিয়ানো জুবা (বাহিয়া), মার্কিনিওস, পাওলো হেনরিক, ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার : আন্দ্রে সান্তোস (চেলসি), ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ফ্যাবিনিও (আল ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ওয়েস্ট হাম)।
ফরোয়ার্ড : এস্তেভাও উইলিয়ান (চেলসি), হোয়াও পেদ্রো (চেলসি), লুইজ হেনরিক (জেনিত), ম্যাথুস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), রিচার্লিসন (টটেনহাম), রোদ্রিগো (রিয়াল মাদ্রিদ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), ভিতোর রকি (পালমেইরাস)।



