ঢাকাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সেখানে দেশজুড়ে চলমান অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় টহল বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অলিতে-গলিতে যেন তাৎক্ষণিক টহল দেওয়া যায় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য মোটরসাইকেল কেনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া টহল কার্যক্রম পরিদর্শন ও মনিটরিং করতে থানা, চেকপোস্টে কর্মকর্তাদের ঝটিকা সফরের সিদ্ধান্তও নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রবিবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলা হয়, সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। নানা জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মবের খবর।
এমন অবস্থায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে ২৫ ফেব্রুয়ারি বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি। সেদিন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কোর কমিটির সভায় ৯টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর আবার রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিলো ১৬টি সিদ্ধান্ত। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে শুরু হয় অপারেশন ডেভিল হান্ট। নতুন সিদ্ধান্তে তুলে ধরা কিছু কার্যক্রম আগে থেকেই চলমান আছে আর কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলো হলো:
১. চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী এবং মাদক ও চোরাকারবারিদের ধরতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে বিশেষ অপারেশন শুরু হয়েছে।
২. পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল বাড়ানো ও দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পাবলিক প্রসিকিউটরদের অংশগ্রহণে সারা দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ‘মানবাধিকার ও পরিবেশের উপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ’ বিষয়ে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩. পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রধান, উপ-পুলিশ কমিশনার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাঠে নিয়োজিত ব্রিগেড প্রধান ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রতিটি ঘটনায় নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্রিফ করা।
৪. ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশিচৌকি/চেকপোস্ট ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথবাহিনী টার্গেট এলাকাগুলোতে জোরদার অপারেশন পরিচালনা করছে।
৫. রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত প্যাট্রলের পাশাপাশি নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত প্যাট্রল নিয়োজিত করা হয়েছে।
৬. ছিনতাইকারী, ডাকাত, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে কম্বাইন্ড অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
৭. থানাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৮. ঢাকা শহরের আশপাশে বিশেষ করে টঙ্গী, বসিলা, কেরানীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে।
৯. ডিএমপির পুলিশ সদস্য, বিজিবি, আনসার ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যদের জন্য মোটরসাইকেল কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেন তাৎক্ষণিক অলিগলিতে টহল দিয়ে অপরাধীদের ধরা সম্ভব হয়।
১০. মিথ্যা, গুজব ও প্রোপাগাণ্ডার বিপরীতে সত্য তথ্য প্রচারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া।
১১. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভোর ও গভীর রাতে ঝটিকা সফরে থানা, চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম পরিদর্শন ও মনিটরিং করছেন।
১২. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এরই মধ্যে দেশের সকল প্রশাসনিক বিভাগে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
১৩. ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন করতে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন চেকপোস্ট এবং টহল দলের রাত্রিকালীন কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে নিয়মিত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৪. মামলা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে মামলা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে করে নিরপরাধ ব্যক্তিরা মামলার হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন।
১৫. জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের মামলাগুলো নিয়মিতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
১৬. আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রতিটি ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



