Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ভারত শত শত মুসলমানকে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে : এইচআরডব্লিউ

Human-Rights-Watch
[publishpress_authors_box]

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি শত শত বাঙালি মুসলমানকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ দাবি করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসব মানুষের অনেকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যের নাগরিক। এই বহিষ্কারের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার গত মে মাস থেকে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করেছে। সরকার দাবি করছে, এতে অনুপ্রবেশকারীদের নিরুৎসাহিত করা যাবে। কিন্তু এভাবে কাউকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া বেআইনি। সরকারের উচিত যথাযথ আইন অনুসরণ করে প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করা।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেছেন, “ভারতের বিজেপি সরকার নির্বিচারে বাঙালি মুসলমানদের বহিষ্কার করে বৈষম্যকে উসকে দিচ্ছে। এমনকি যারা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক তারাও বাদ পড়ছেন।

“সরকারের দাবি, তারা অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ তারা আইনি অধিকার, দেশীয় নিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড মানছে না।”

প্রতিবেদন তৈরির জন্য এইচআরডব্লিউ গত জুনের ৯টি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে ১৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের মধ্যে বহিষ্কৃত হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা ও তাদের পরিবার এবং আটক বা নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। গত ৮ জুলাই সংস্থাটি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এসব তথ্য জানিয়ে চিঠি পাঠালেও এখনও কোনও উত্তর মেলেনি।

ভারত সরকার এখনও বহিষ্কৃতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, ৭ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ভারত ১৫০০’র বেশি মুসলিম পুরুষ, নারী ও শিশুকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছে। বহিষ্কারের এই প্রক্রিয়া এখনও চলছে।

বিজেপি শাসিত আসাম, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, উড়িষ্যা ও রাজস্থানে দরিদ্র মুসলিম অভিবাসীদের আটকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ আছে, অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই না করেই আটক ব্যক্তিদের হুমকি, মারধর করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারকে কিছু ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।

দমনমূলক এই পদক্ষেপটি শুরু হয় এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলার পর। এরপর পুলিশ মুসলমানদের হয়রানি শুরু করে। তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ মানা হয়নি। ফোন, কাগজপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যাতে তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে।

অনেকে বলেছেন, বিএসএফ তাদের হুমকি দিয়েছে, মারধর করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে বন্দুকের মুখে সীমান্ত পার হতে বাধ্য করেছে।

আসাম রাজ্যের ৫১ বছর বয়সী সাবেক স্কুলশিক্ষক খাইরুল ইসলাম জানান, গত ২৬ মে হাত-মুখ বেঁধে ১৫ জনকে সীমান্তরক্ষীরা বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন।

খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমি যেতে না চাইলে বিএসএফ কর্মকর্তারা আমাকে মারধর করে এবং চারবার আকাশে রাবার বুলেট ছোড়ে।” পরে দুই সপ্তাহ পর ভারতে ফিরতে সক্ষম হন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে মুসলমানদের অনিয়মিত প্রবেশ বহু বছর ধরে চললেও এই বিষয়ে সঠিক তথ্য নেই। রাজনীতি করার জন্য অনেক সময় সংখ্যা অতিরঞ্জিত করা হয়। বিজেপির অনেক নেতা বারবার এসব অভিবাসীদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই শব্দ ব্যবহার করে ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয়।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মে মাসে রাজ্য সরকারগুলোকে ৩০ দিনের মধ্যে “অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত, শনাক্ত ও বহিষ্কার” করার নির্দেশ দেয়। প্রতিটি জেলায় আটক কেন্দ্র স্থাপন করতেও বলা হয়। এরপর বিজেপিশাসিত অনেক রাজ্য সরকার বাঙালি ভাষাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের আটক করতে শুরু করে। ভারত সরকার ২ হাজার ৩৬০ জনের একটি তালিকা বাংলাদেশের কাছে পাঠিয়ে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে বলে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৮ মে ভারতের এই ‘পুশ-ইন’ বা সমষ্টিগত বহিষ্কার কার্যক্রমকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে জানায়। তারা বলে, “শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদেরই সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত নেওয়া হবে।”

মে মাসে আসামের একটি আটক কেন্দ্র থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের দপ্তর জানায়, কর্তৃপক্ষ আরও ৪০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার সীমানার সাগরে ঠেলে দিয়েছে। তাদের জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট দিয়ে সাঁতরে উপকূলে যেতে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ এই ঘটনাকে “মানবিকতার প্রতি চরম অবমাননা” বলে মন্তব্য করেছেন।

অ্যান্ড্রুজ বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি গুরুতর লঙ্ঘন। বিশেষত নন-রিফাউলমেন্ট নীতির, যার অধীনে কাউকে এমন জায়গায় ফেরত পাঠানো যায় না, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত মে মাসের শুরুতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহিষ্কার ঠেকানোর আবেদন খারিজ করে দেয়।

আদালত জানায়, তারা ভারতীয় আইনে বিদেশি হিসেবে প্রমাণিত হলে তাদের বহিষ্কার করতেই হবে। ১৬ মে আদালত আরও জানায়, যেসব রোহিঙ্গাকে সাগরে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তা “সুন্দরভাবে তৈরি করা গল্প” এবং এর পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। তবে ভারত সরকার সরাসরি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেনি।

ভারত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ এবং জাতিগত বৈষম্য বিলোপ সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। এসব চুক্তি অনুযায়ী, ভারত সরকারকে প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনও জাতি, বর্ণ, বংশ বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যাবে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে আটকে রাখা বা বহিষ্কার করা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ, উপযুক্ত আইনজীবীর সহায়তা এবং বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে হবে।

নিরাপত্তা বাহিনী বা সীমান্তরক্ষীরা যেন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। যেসব ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বহিষ্কারের জন্য আটক ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের, শিশুদের, বৃদ্ধদের ও প্রতিবন্ধীদের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় নিতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, “অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজে বের করার নামে ভারত সরকার হাজার হাজার অসহায় মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলছে। তাদের এই পদক্ষেপ মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নীতিরই প্রতিফলন। ভারত বহুদিন ধরেই নিপীড়িতদের আশ্রয় দিয়েছে। এখন সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে সেই ঐতিহ্য নষ্ট করছে।”

শরণার্থী ও অভিবাসীদের বেআইনি ও বৈষম্যমূলক বহিষ্কার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সরকার বলছে, তারা এমন ব্যক্তিদের বহিষ্কার করছে যারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। যদিও বহিষ্কৃতদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে অনেকেই বলেছেন, তারা বাংলাদেশি নন। উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বহু ভারতীয় নাগরিককে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বারবার বলেছে, ভারতের একতরফা এসব পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন। তারা ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন “স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এসব ঘটনা মোকাবেলা করা হয়।”

বহিষ্কৃতদের মধ্যে অন্তত ৩০০ জন আসামের বাসিন্দা। ২০১৯ সালে আসামে একটি বিতর্কিত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হয়। ওই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২০ লাখ মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

বাকি যারা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাদের অনেকে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান। তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, ওড়িশা ও দিল্লিতে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন।

আসামের ত্রুটিপূর্ণ নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া

আসামে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের “স্থানীয় নয়” এমন সন্দেহে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পক্ষপাতমূলক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৬৪ সাল থেকে ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’ নামে আধা-আদালতীয় কাঠামোতে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। 

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এসব ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯২ জনকে অনিয়মিত অভিবাসী ঘোষণা করেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ট্রাইব্যুনাল স্বচ্ছতা বঞ্চিত। বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন করে। একটি ট্রাইব্যুনালে কেউ নাগরিক প্রমাণিত হলেও তাকে আবার অন্য কোনও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হতে পারে।

একটি নথিতে নামের বানান ভুল, বা লিখিত বিবরণে কোনও তথ্য বাদ যাওয়া, কিংবা সাক্ষ্যে সামান্য অসঙ্গতি থাকার কারণে নাগরিকত্ব দাবি খারিজ হয়ে যাচ্ছে।

অনেক সময় মানুষ নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগই পান না। এসব রায় দেওয়া হয় তাদের অনুপস্থিতিতে। আসামের আইনজীবীরা বলেন, এটি অনেকটা সীমান্ত পুলিশের গাফিলতির ফল। তারা যথাযথ তদন্ত করে না এবং সময়মতো নোটিসও পৌঁছে দেয় না।

১৯৮৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৯৫৯ জনকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে।

২০১৯ সালের আগস্টে আসামে এনআরসি নামে একটি ত্রুটিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক প্রক্রিয়া চালানো হয়। এতে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়ে, যাদের অনেকেই বহু বছর ধরে বা সারা জীবন ভারতে বসবাস করে আসছিলেন। যাদের নাম বাদ পড়ে, তাদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হয়।

আসামের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গত মে মাসে ঘোষণা দেন, কর্তৃপক্ষ ৩৩০ জন কথিত অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে “পুশব্যাক” করেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এনআরসির সঙ্গে সম্পর্ক না রেখেই আরও মানুষকে বহিষ্কার করা হবে এবং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনও হবে না।

তার ভাষ্যে, “পুশব্যাক চলতেই থাকবে। এনআরসির কারণে যেটা বন্ধ ছিল, সেটা আবার জোরদারভাবে শুরু হবে। এবার যদি কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে তাকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে না। সরাসরি পুশব্যাক করা হবে। এর প্রস্তুতি চলছে।”

তিনি যদিও বলেছিলেন, যাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে আপিল বিচারাধীন, তাদের বহিষ্কার করা হবে না। কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, অনেক বিচারাধীন ব্যক্তিকেও আটকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

বারপেটা জেলার ৫১ বছর বয়সী একজন দিনমজুরকে ২০১৪ সালে তার অনুপস্থিতিতে বিদেশি ঘোষণা করা হয়। তার আপিল সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কিন্তু গত ২৪ মে তাকে কর্তৃপক্ষ আটক করে। দুই দিন পর মধ্যরাতে বিএসএফ সদস্যরা তাকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে জোর করে পাঠিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, “আমি যেন মরে গিয়েছিলাম, তেমনভাবেই হেঁটে বাংলাদেশে ঢুকি। আমি ভেবেছিলাম, ওরা (বিএসএফ) আমাকে মেরে ফেলবে। ওদের হাতে বন্দুক ছিল এবং আমার পরিবার কিছুই জানতে পারত না।”

তিনি ও আরও পাঁচজন কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর বাংলাদেশের গ্রামবাসীরা তাদের একটি নদীর চরে নিয়ে যান। সেখান দিয়ে তারা আবার ভারতে ফিরে আসেন। তিনি জানান, ফিরে আসার সময় বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল, কিন্তু তারা বাধা দেননি।

তার আইনজীবী বলেন, এ বহিষ্কার সুপ্রিম কোর্টের আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি বলেন, “আদালতের আদেশ খতিয়ে দেখার কোনও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তিনি কোনও জামিনের শর্তও ভাঙেননি।”

শিক্ষক খাইরুল ইসলামকেও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন অবস্থায় বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ২০১৬ সালে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তাকে বিদেশি ঘোষণা করে। গত ২৩ মে রাতে মরিগাঁও জেলার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে তুলে নেয় ও আটক করে।

খাইরুল ইসলাম জানান, দুই দিন তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ‘নো-ম্যানস-ল্যান্ড’ এলাকায় ছিলেন। তার স্ত্রী জানান, তিনি বাংলাদেশের এক সাংবাদিকের করা ভিডিও দেখে স্বামীর অবস্থান জানতে পারেন।

কারবি আংলং জেলার ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পুলিশ ২৩ মে রাতে আটক করে। তার পরিবার জানায়, কেন তাকে আটক করা হলো তা জানানো হয়নি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু তার গ্রেপ্তারের পর তারা ট্রাইব্যুনালে গিয়ে জানতে পারেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে নতুন করে তার অনুপস্থিতিতে রায়ের মাধ্যমে তাকে আবার বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিবারটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা তার কোনও খোঁজ পাচ্ছেন না। পরে তারা জুন মাসে গৌহাটি হাইকোর্টে একটি আবেদন করে।

৬৭ বছর বয়সী মালেকা খাতুনকে ২৪ মে বারপেটা জেলা থেকে পুলিশ আটক করে। তার ছেলে ইমরান আলি খান বলেন, “আমি জানি না কীভাবে তাকে ফিরিয়ে আনব।”

ইমরান খান জানান, তার মা হেঁটে চলতে পারেন না ও চোখেও ভালো দেখেন না। ২৭ মে ভোররাত ৩টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা তাকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। ২৯ মে তিনি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার কিছু গ্রামবাসীর সহায়তায় ফোনে ছেলেকে জানান যে, তিনি সেখানে আশ্রয় পেয়েছেন।

ইমরান খান বলেন, তার মা ২০২৪ সালে জামিনে মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর কোকরাঝাড় আটক কেন্দ্রে ছিলেন। তাদের নয় ভাইবোনের মধ্যে শুধু মালেকা খাতুনকেই বিদেশি ঘোষণা করা হয়।

বারপেটা জেলায় গত ২৫ মে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করে পরদিন বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার ছেলে জানান, ৩০ মে তার বাবা বাংলাদেশের জামালপুর জেলা থেকে ফোন করেন। তিনি বলেন, “বিএসএফ তাকে জানায়, তিনি আবার সীমান্ত পার হয়ে ফিরলে তাকে গুলি করে মারা হবে।”

তার ছেলে আরও বলেন, তার বাবা তিন দিন হেঁটেছেন এবং রাস্তার পাশে ঘুমিয়েছেন। পরে একটি মসজিদে আশ্রয় পান। পরিবারে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার বিষয়ে একটি আপিল গৌহাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন।

আসামের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি অনেক মানুষকে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া আটক করা হয়েছে।

আসামভিত্তিক আইনজীবী আমান ওদুদ বলেন, “বহিষ্কারের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। যে দেশে ব্যক্তির নাগরিকত্বের দাবি রয়েছে, সেই দেশকে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হয়।”

এক খোলা চিঠিতে ৫ জুন শতাধিক মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও শিক্ষাবিদ ভারত সরকারকে আসাম থেকে এই বহিষ্কারের প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। চিঠিতে তারা বলেন, এসব পদক্ষেপ বহিষ্কৃতদের জীবন ও সমতার অধিকার লঙ্ঘন করছে।

চিঠিতে বলা হয়, “এই ‘পুশব্যাক’ নীতির ফলে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের গুলির মুখে পড়তে পারেন বা বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে আটক হতে পারেন। এটি তাদের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি।”

প্রান্তিক বাঙালি মুসলিম শ্রমিকরা টার্গেট

বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্য বাঙালি মুসলিম অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বাড়িয়েছে। এদের অনেকেই দরিদ্র এবং তাদের নাগরিকত্ব যাচাই না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মহারাষ্ট্রে কর্তৃপক্ষ এমন অনেককে বাংলাদেশে বহিষ্কার করেছে, যারা আসলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী হিসেবে গিয়েছিলেন। মুম্বাইয়ে অন্তত সাতজন পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিককে আটক করে বহিষ্কার করা হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করলে তারা ফিরে আসতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি নাজিমুদ্দিন শেখ মুম্বাইয়ে আছেন পাঁচ বছর। তাকে গত ৯ জুন ধরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নাজিমুদ্দিন শেখ জানান, পুলিশ তার বাসায় হানা দিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়, পরিচয়পত্র ছিড়ে ফেলে। এগুলো তার নাগরিকত্বের প্রমাণ ছিল। পরে বিএসএফের একটি বিমানে তাকে আরও ১০০ জনের সঙ্গে ত্রিপুরায় পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, “আমরা বলেছিলাম, আমরা ভারতীয়। কিন্তু বিএসএফ আমাদের কথা শোনেনি। কথা বেশি বললে তারা মারধর করত। পেছনে ও হাতে লাঠি দিয়ে মেরেছে। তারা মারতে মারতে বলেছে, বলো তুমি বাংলাদেশি।”

নাজিমুদ্দিন শেখ আরও জানান, তাকে আটজনের সঙ্গে বাংলাদেশে পাড়ি দিতে বাধ্য করা হয়। পরে তিনি একটি গ্রামে পৌঁছালে সেখানকার বাসিন্দারা তাকে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেন এবং তাকে বিজিবির স্থানীয় ক্যাম্পে নিয়ে যান। ১৫ জুন বিজিবি সদস্যরা তাকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, “বাংলা বলা কি অপরাধ? আপনারা লজ্জা পান না? এভাবে সবাইকে বাংলাদেশি বানিয়ে বাংলা ভাষার মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করছেন।”

গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এপ্রিল ও মে মাসে গুজরাটের বিজেপিশাসিত আমেদাবাদের চাঁদোলা লেক ও সিয়াসত নগর এলাকায় ১০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ধ্বংস করা হয়। এসব স্থাপনাকে “অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি” দাবি করা হয়। অথচ সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি রায় দিয়েছিল, যাতে এমন উচ্ছেদ কার্যক্রমের আগে নির্ধারিত আইনি ধাপ মানতে বলা হয়। এই অভিযান সেই রায়েরও লঙ্ঘন।

গত জুন মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এসব উচ্ছেদের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বা ‘বিদেশি নাগরিকত্ব’ কোনও সম্প্রদায়কে আইনি সুরক্ষা ছাড়া উচ্ছেদ করার অজুহাত হতে পারে না।”

এই অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ আমেদাবাদে ৮৯০ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে ছিল ২১৯ নারী ও ২১৪ শিশু। তাদের শহরের রাস্তায় প্রায় চার কিলোমিটার হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

গুজরাট কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা “অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা” নিচ্ছে এবং রাজ্যজুড়ে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ব্যক্তিকে আটক করেছে। তারা আরও হুমকি দেয়, কেউ যদি “অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয়” তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতের সংসদ সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গ অভিবাসী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম গত ৩ মে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লেখা একটি চিঠিতে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা, যাদের পরিচয়পত্র ছিল, তাদেরও গুজরাটে আটক করা হয়েছে।”

চিঠিতে তিনি বলেন, “আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরো বাংলা ভাষাভাষী এলাকা টার্গেট করা হচ্ছে। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস করা হয়েছে। বহু পরিবারকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।”

জুলাইয়ের শুরুতে উড়িষ্যার ঝারসুগুড়া জেলায় কর্তৃপক্ষ ৪৪৪ জন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করে। এদের সবাই পুরুষ এবং অধিকাংশ নির্মাণ ও খনিখনন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৪৪ জন দুটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক রয়েছেন।

রাজস্থানের ১৭টি জেলায় ১ হাজারের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা বাংলাদেশ থেকে আসা “অবৈধ অভিবাসী।” এদের মধ্যে অন্তত ১৪৮ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অনেক অনথিভুক্ত অভিবাসী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের শ্রমিকদের নির্বিচারে আটক ও হয়রানি করা হচ্ছে।

জয়পুরে গত ৩ মে পুলিশ ২৫ বছর বয়সী এক প্রান্তিক আদিবাসী যুবক ও তার ১৯ বছর বয়সী চাচাতো ভাইকে নাম ও পরিচয়পত্র দেখানোর অজুহাতে আটক করে। তাদের বাবার ভাষ্য, “পুলিশ আমাদের কেন আটক করেছে, তা কখনও জানায়নি। আমরা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছি, স্কুলের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ও অন্যান্য প্রমাণ দেখিয়েছি।”

পরবর্তীতে পরিবারের জমির দলিল ও ভোটার আইডি কার্ড দেখানোর পর ২৮ মে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো

জাতিসংঘ মানবাধিকার হাই কমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) জানিয়েছে, মে মাসের শুরুতে দিল্লিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ডজনখানেক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে। এদের অনেকের কাছেই জাতিসংঘের শরণার্থী পরিচয়পত্র ছিল।

এরপর প্রায় ৪০ জনকে একটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে করে মিয়ানমার সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শুধু লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে সাগরে নামিয়ে দেওয়া হয়। তারা মিয়ানমারের তানিনথারি অঞ্চলের লাউংলোন শহরে উপকূলে পৌঁছেছিলেন। তারপর থেকে তাদের অবস্থান ও অবস্থা সম্পর্কে আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতে আনুমানিক ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন। এদের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাতে (ইউএনএইচসিআর) নিবন্ধিত।

২০১৬ সাল থেকে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের টার্গেট করা শুরু করে। এটি ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হামলার অংশ। এসব গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ভারত সরকার জোরপূর্বক রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো শুরু করে। তবে বর্তমানে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনও পরিস্থিতি মিয়ানমারে বিদ্যমান নেই।

ভারতে বসবাসরত ২০ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শরণার্থী তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি ভারতে এসেছিলাম নিরাপত্তা ও সম্মানের আশায়। কিন্তু কষ্ট থামেনি, শুধু রূপ বদলেছে। এখন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩০ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়েছে। বহিষ্কার না হলে আটক।

“আমার শৈশব গণহত্যায় ধ্বংস হয়েছে। কৈশোর কেটেছে শরণার্থী জীবনের অবিরাম বৈষম্য আর হতাশার মধ্য দিয়ে। আর এখন, যৌবনও যেন শেষ হতে যাচ্ছে এমন এক পরিণতির সামনে দাঁড়িয়ে, যা আগের সব দুর্ভোগের চেয়েও ভয়াবহ। আমাকে সেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে এখনও গণহত্যা চলছে। আমি ভয় পাচ্ছি, এটি শুধু আমার জীবন নয়, আমার শেষ আশা পর্যন্ত মুছে ফেলবে।”

২০২৫ সালের মার্চে জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ ভারত সরকারকে চিঠি লিখে উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমার থেকে আগত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের নির্বিচারে, অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখা হচ্ছে। তার চিঠিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ফলে তারা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

চিঠিতে অ্যান্ড্রুজ ভারত সরকারকে আহ্বান জানান, যেন তারা মিয়ানমার থেকে আগত শরণার্থীদের এভাবে আটক না করে ওইসব আটক কেন্দ্রে নিরপেক্ষ সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found