Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

এআই থেকে তাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ কী

AI
[publishpress_authors_box]

লন্ডনে একটি যোগাযোগ সংস্থা চালান স্যাবিন জেটলার। ১০ জনের মতো মানুষ তার অফিসে কাজ করে; কেউ ফুল টাইম, কেউ বা পার্ট টাইম।

চাইলে তাদের ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে নিজের প্রতিষ্ঠান চালাতে পারেন জেটলার। কিন্তু সে পথে হাঁটতে নারাজ এই ব্যবসায়ী।

জেটলার হাতেগোনা সেই ব্যক্তিদের একজন, যাদের এআইয়ের সদর্প পদচারণায় ভ্রুক্ষেপ নেই; চারপাশে এআইয়ের উপকারিতা শুনে শুনেও যাদের মধ্যে এনিয়ে কোনও হেলদোল নেই।

এআই কেন টানে না, এ প্রশ্নের জবাবে জেটলার দ্বিধাহীনভাবেই জবাব দেন, “আমি সম্প্রতি একটা অসাধারণ উক্তি পড়েছি। সেটা অনেকটা এরকম, ‘একজন নিজে যা লেখেননি, তার সেই লেখা পড়ে আমি কেন সময় নষ্ট করব?’

“অনেক শক্তিশালী এই কথা আমার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে।”

তিনি বলেন, “আমরা নিজেরা যা লিখি না, তা অন্যকে পাঠানোর অর্থ কী? বটের লেখা পত্রিকা পড়ার বা এআই দিয়ে বানানো গান শোনারই বা মানে কী?

“কটা টাকা বেশি রোজগারের জন্য আমার একজন কর্মী, যার চারটি সন্তান আছে, তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই কেন করব?”

“একটি সংস্থার স্বত্বাধিকারী হয়ে আমি এসবের মধ্যে আনন্দ, আবেগ বা উন্নতির স্বপ্ন খুঁজে পাই না। এসবের কোনও মানে নেই আমার কাছে,” যোগ করেন তিনি।

জেটলার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কয়েকজনের একজন, যে আগ্রাসন ২০২২ সালের শেষের দিকে চ্যাটজিপিটি আসার পর আরও জোরালো হয়।

তারপর থেকে এই পরিষেবা এবং এর অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সেমরাশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে চ্যাটজিপিটিতে পাঁচ বিলিয়নের বেশি ভিজিট হচ্ছে।

কিন্তু চ্যাটজিপিটির মতো এআই সিস্টেম প্রশিক্ষণ দিতে বিপুল পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ হয়। তাছাড়া একবার প্রশিক্ষিত হয়ে যাওয়ার পর সেগুলো চালু রাখাও অত্যন্ত জ্বালানিনির্ভর ও ব্যয়বহুল।

স্যাবিন জেটলার।

এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ঠিক কতটা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তা নির্ধারণ করা কঠিন, তবে বিনিয়োগ ব্যাংকিং কোম্পানি গোল্ডম্যান স্যাকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির একবার ব্যবহার গুগল সার্চের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে।

এই পরিস্থিতি কিছু মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাদের একজন ফ্লোরেন্স আচারি। তিনি লন্ডনে ইয়োগা রিট্রিটস অ্যান্ড মোরের মালিক। এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব তাকে এই প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে দূরে রেখেছে।

তিনি বলেন, “প্রাণহীন এই সত্তা আমার ব্যবসার মূল দর্শনের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না। আমার কাজই হচ্ছে প্রাণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া এমনই ছিল।

“পরে জানতে পারি, ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য যে বিপুল পরিমাণ শক্তি ব্যবহৃত হয়, তার পরিবেশগত প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমার ধারণা, মানুষ এ বিষয়ে সচেতন নয়।”

অন্যদিকে এআইয়ের সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন জেটলার।

তিনি স্বীকার করেন, এআই সমাজের কল্যাণে অনেক কিছু করতে পারে। তবে এর ব্যাপক সামাজিক প্রভাব নিয়েও ভাবনার কারণ রয়েছে।

জেটলার বলেন, “এআই দৃষ্টিহীন মানুষের পাশে আছে, তাদের জন্য প্রবন্ধ অনুবাদ করে দেয়- এই সেবা আমাকে পুলকিত করে।

“তবে সামগ্রিকভাবে, আমি মনে করি না যে, দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের উপকারে আসবে।”

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি যদি এআই ব্যবহার করে, তাহলে তা জেটলারের ব্যবসার ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে এবং তার উদ্বেগের জায়গা এখানেই।

ফ্লোরেন্স আচারি।

এর জবাবে এই ব্যবসায়ী বলেন, “আমি চাইলে ট্রেনের বদলে ইজি জেটের ফ্লাইটে করে আমার কর্মীকে মিলানে পাঠিয়ে টাকা বাঁচাতে পারতাম।

“সাফল্যের মাপকাঠি যদি হয় মুনাফার পরিমাণ, তাহলে সেটার হিসাব কষতে বসলে আমাকে খুব একটা সফল মনে হবে না।

“তবে সমাজে আমি কতটা অবদান রাখতে পারছি বা আমি রাতে কতটা শান্তিতে ঘুমাতে পারছি, তা দিয়ে যদি সাফল্য পরিমাপ করা হয়, তাহলে হিসাবটা একেবারে ভিন্ন হবে।”

লন্ডনের বাসিন্দা স্যাবিন জেটলার, ফ্লোরেন্স আচারির মতো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে বসবাসরত সিয়েরা হানসেনও এআই ব্যবহার করতে নারাজ। 

জনসংযোগ বিভাগে কর্মরত এই নারী মনে করেন, এআই ব্যবহারের ফলে মানুষ সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা হারাচ্ছে।     

হানসেন বলেন, “আমাদের নিত্যদিনের কাজ কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা ঠিক করবে আমাদের মস্তিষ্ক। তা এআইকে বলে সমন্বয় করার বিষয় নয়।”

তথ্যসূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found