Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ইরানে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের অর্থ কী

Iran elites
[publishpress_authors_box]

ইসরায়েলের লাগাতার যুদ্ধ ইরানের ইতিহাসের গতি প্রকৃতিকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে। তবে এই পরিবর্তন প্রচলিতভাবে যেভাবে ‘শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন’ হিসেবে কল্পনা করা হয়, যেমন—একটি স্বৈরশাসনের পরিবর্তে হঠাৎ করেই একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হবে—তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। 

বরং এটি এমন এক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে, যা অনেক আগে থেকেই ধীরে ধীরে চলছিল। এমনকি ১৩ জুন যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু করে, তারও আগে থেকে।

এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ইরান একটি মতাদর্শনির্ভর রাষ্ট্র থেকে একটি স্বার্থকেন্দ্রিক কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। তখন দেশটি ইসলামি আদর্শে না হয়ে ইরানি সভ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। সেই সময় তারা আর নাগরিকরা কতটা ইসলামি জীবনধারা অনুসরণ করছে, তা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। বরং তারা নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হবে। 

ইরান তখন ইসলামি বিপ্লব রপ্তানির পরিবর্তে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে হাঁটবে। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লড়াইয়ের বদলে বাণিজ্য করতে চাইবে। সেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আলেম ও মতাদর্শবাদীদের মাধ্যমে নয়; বরং ওলিগার্ক ও সেনা জেনারেলদের হাতে। সংক্ষেপে বলা যায়, তখন ইরান তার আশেপাশের অনেক আরব দেশের মতো হয়ে উঠবে।

ইরান আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে মূলত সেই ব্যক্তির ব্যর্থতার কারণে, যিনি ১৯৮৯ সাল থেকে দেশটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন—সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৬০-এর দশকে একজন বোহেমিয়ান কবি ও কর্মী হিসেবে যিনি বিপ্লবী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, সেই খামেনি সারাজীবন বিশ্বকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। 

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অনেক বর্ষীয়ান নেতা সময়ের সঙ্গে নিজেদের কিছুটা মানিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু খামেনি কখনও নিজেকে পরিবর্তন করেননি। বরং তিনি পুরো দেশটিকে নিজের একটি অসম্ভব স্বপ্ন পূরণের পরীক্ষাগারে পরিণত করেছেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কেবল খামেনির দীর্ঘ ব্যর্থতার ধারাবাহিকতার সর্বশেষ অধ্যায়। তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ছিল পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির দ্বৈত অভিলাষ পূরণ করা। সেই অভিলাষে, ইরান একটি শুদ্ধ ইসলামি সমাজে পরিণত হবে, যেখানে পুরুষ ও নারী স্বেচ্ছায় ইসলামি জীবনধারা অনুসরণ করবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী এক আপসহীন প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রধান মুখ। তারা বিশ্বজুড়ে তাদের মতাদর্শিক মিত্রদের অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করবে এবং একাকীত্বের ঝুঁকি নিয়েও স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করবে।

কিন্তু এই দুই স্বপ্নই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আজকের ইরান মুসলিম বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম ধার্মিক দেশগুলোর একটি। ইরানিরা বিশ্ব সংস্কৃতির ভোক্তা হিসেবে অনেক বেশি আগ্রহী এবং তারা ইসলামি ভাবধারার প্রতি খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। যদিও বাধ্যতামূলক পর্দার নিয়ম এখনও আইনে আছে। কিন্তু সরকার এটিকে আর কঠোরভাবে প্রয়োগ করে না। এখন লাখ লাখ নারী খোলা মাথায় রাস্তায় হাঁটছেন। রাজধানী তেহরানকে দেখে ইসলামি আদর্শভিত্তিক কোনও শহর বলেই মনে হয় না।

পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে খামেনি আগে কিছু সাফল্যের দাবি করতে পারতেন, যদিও সেগুলোর মূল্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের একঘরে হয়ে পড়া। তেহরানপন্থী শক্তিগুলো চারটি আরব দেশের রাজধানী নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল এবং ইসরায়েলকে ঘিরে রাখা হয়েছিল তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ দিয়ে। এটি ছিল ইরানের অর্থায়ন, অস্ত্র ও আদর্শে পরিচালিত মিলিশিয়াদের একটি জাল। 

কিন্তু আরব কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রতিরোধ অক্ষের উপর ইসরায়েলের ধারাবাহিক আঘাত, এবং সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের ফলে খামেনির নির্মিত সেই কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এই প্রতিরোধ অক্ষের পতনের মধ্য দিয়ে শুধু খামেনির আদর্শিক অর্জনই শেষ হয়নি, এর সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষা কৌশলও ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ার পর ইসরায়েল সরাসরি ইরানে যুদ্ধ নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এখন খামেনিকে এমন এক নেতা হিসেবে মনে করা হবে, যিনি জনগণের জন্য এনেছেন অর্থনৈতিক দুর্দশা, দমন-পীড়ন ও প্রাণঘাতী যুদ্ধ।

খামেনির এই ব্যর্থতা ইরানের অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক অভিজাতদের অনেকের কাছে বহু আগেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেই ছিলেন। কিন্তু তার বয়স এখন ৮৬ ও মৃত্যু খুব বেশি দূরে নয়। ইতোমধ্যে তার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ লড়াই শুরু হয়ে গেছে। 

খামেনি পরবর্তী ইরানে ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন এমনসব নেতা, যারা খামেনির বিপ্লবী মতাদর্শের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখেন না। তাদের আদর্শ যদি কিছু থেকে থাকে, তবে তা হলো—ইরানি জাতীয়তাবাদ ও টেকনোক্র্যাটিক শাসনের মিশ্রণ। তারা ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঈর্ষা করে দেখেন, যেসব দেশ পুরনো দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এই অভিজাতরা বহু দশক ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভেতরের বিভাজিত রাজনীতির অংশ হয়ে রয়েছেন। তাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন আকবর হাশেমি রাফসানজানি—১৯৯০-এর দশকের একজন শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট। কিন্তু পরে খামেনি তাকে ধীরে ধীরে কোণঠাসা করে ফেলেন। ২০১৭ সালে সন্দেহজনকভাবে তার মৃত্যু ঘটে। রাফসানজানির প্রধান শিষ্য ছিলেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনিই ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার নেতৃত্ব দেন, যার ফলে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 

ওই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ইরানের অর্থনীতির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং দেশটিকে পশ্চিমা বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করা। রাফসানজানি ও রুহানি ছিলেন ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের প্রাথমিক প্রজন্মের অংশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তারা বিশ্বাস করতেন, বিপ্লবের আদর্শ টিকিয়ে রাখতে হলে ভালো শাসন ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে সরে না আসলে ইসলামপন্থী কট্টরপন্থীদের তুলনায় বাস্তববাদী নেতৃত্ব একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করতে পারত। কিন্তু ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্ত বাস্তববাদীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের অবস্থান বহু বছর দুর্বল হয়ে পড়ে। 

অবশ্য কট্টরপন্থীরা এই সুযোগে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারেনি। খামেনি নিজেও জানতেন, তিনি একা হয়ে গেছেন। ২০১৯ সালে বিপ্লবের ৪০ বছর পূর্তিতে দেওয়া এক ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের ইরানকে ‘ধর্মনিষ্ঠ ও বিপ্লবী তরুণদের’ মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। তিনি জানতেন, প্রতিষ্ঠিত অভিজাতরা তার এই মানদণ্ড পূরণ করে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খামেনির ধারাবাহিক ব্যর্থতায় বাস্তববাদীরা আরও সাহস পেয়েছে। তাদের ধারণা জনসাধারণের চিন্তাভাবনার সঙ্গে অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে, যতবার জনগণকে অর্থবহ ভোটের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, ততবারই তারা কট্টরপন্থীদের বিপক্ষে এবং বাস্তববাদীদের পক্ষে ভোট দিয়েছে। গত গ্রীষ্মেই এর একটি দৃষ্টান্ত দেখা যায়—জনগণ সংস্কারপন্থী মাসউদ পেজেশকিয়ানকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়ে কট্টরপন্থী সাঈদ জালিলিকে প্রত্যাখ্যান করে।

বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন স্তরে কট্টরপন্থীরা অনেকাংশেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি সংসদ ও বিচার বিভাগ—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শাখার প্রধানরাও কট্টরপন্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল নন। 

এমনকি প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও কট্টরপন্থীদের প্রতি বিরূপ। কারণ তারা এসব কট্টর নেতাকে বইপড়ুয়া, আদর্শবাদী ও সমাজের ভারসাম্য নষ্টকারী মনে করে। বিশেষ করে তাদের সেই মনোভাবের জন্য, যেখানে সামাজিক শুদ্ধতাবাদ জোর করে চাপিয়ে দিতে চায়।

আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও বাস্তববাদীদের উত্থানে সহায়তা করেছে। তারা সৌদি আরব ও দেশটির নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে অনুসরণযোগ্য মনে করেন—বিশেষ করে তার দেশের দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তার কার্যকর সম্পর্কের জন্য। 

২০২৩ সালে ইরান-সৌদি পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে গতি পায়। এপ্রিলে একটি বড় সৌদি সামরিক প্রতিনিধি দল ইরান সফর করে। এখন তেহরান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে ভালো সম্পর্ককে ঈর্ষার মতো রক্ষা করে এবং মিশর ও বাহরাইনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনের চেষ্টা করছে—যারা সবাই সৌদি মিত্র।

ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কেবল এমন একটি প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে, যা বহু আগেই শুরু হয়েছিল। বর্তমানে ইরানি অভিজাতরা বিদেশি হামলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে ব্যস্ত। কিন্তু মনে করা হচ্ছে, তারা মনে মনে খামেনির ওপর ক্ষুব্ধ—কারণ তার কৌশলের অভাব এবং ইসরায়েলবিরোধী দীর্ঘ যুদ্ধই তাদের আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। 

রাফসানজানির মেয়ে ও সাবেক সংসদ সদস্য ফায়েজা হাশেমি এই বিষয়ে অনেকের মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের আক্রমণের মুখে ইরান এখন ‘নিজের বপন করা ফসল ঘরে তুলছে’।

ইরানের বাস্তববাদীরা ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে নেতৃত্ব গ্রহণ করে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করতে পারে। এ লক্ষ্যে তারা পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েলকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারে যে, তারা আর স্থায়ী শত্রুতা বজায় রাখবে না। তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু ছাড় দিতে পারে যাতে নিজেদের ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা টিকে থাকে এবং ইরান ও তার অবকাঠামোকে আরও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

এই পরিবর্তন বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। রুহানি আবারও সামনে এসে দেশের অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্ব পেতে পারেন। তাকে হয়তো উপ-সেনাপ্রধান ঘোষণা করা হতে পারে—যে পদে ১৯৮০–৮৮ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় রাফসানজানি ছিলেন। সে সময় খোমেনি বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে পড়ায় যুদ্ধের কার্যকর নেতৃত্ব তিনিই দিয়েছিলেন।

আবার এমনও হতে পারে, সামরিক জেনারেলদের একটি দল খামেনিকে সরিয়ে দিয়ে নিজেরাই রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করবে। এই সম্ভাব্য সামরিক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ ও সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি—যিনি ইসরায়েলি হামলায় কোনও মতে প্রাণে বেঁচে গেছেন।

তবে এই পরিবর্তন যেভাবেই হোক না কেন, এর কাঠামো স্পষ্ট। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত হবে। ইরান দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে যে শত্রুতা বজায় রেখেছিল, তা পরিত্যাগ করবে।

ইরানের দীর্ঘ ইতিহাস বহু বীর যোদ্ধার কাহিনিতে পরিপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে দেশটি এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখোমুখি হলেও, ইরানিরা এখন আর কোনও সামরিক বীরের খোঁজে নেই। বরং তারা খুঁজছে এক কূটনৈতিক বীরকে। তারা ভাবছে—আবার কি আব্বাস মির্জার মতো কেউ আসতে পারেন? আব্বাস মির্জা ছিলেন ১৮০০ সালের শুরুতে কাজার রাজবংশের যুবরাজ।

ইরানের ইতিহাসে আব্বাস মির্জাকে দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হতো। কারণ তিনি রাশিয়ার সঙ্গে এমন কিছু বিতর্কিত শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, যার ফলে ককেশাস অঞ্চলের কিছু এলাকা ইরানকে হারাতে হয়।

কিন্তু আজ অনেকেই তাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছেন। তারা বলছেন, আব্বাস মির্জা এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছিলেন। হ্যাঁ, ইরান অনেক কিছু হারিয়েছিল, কিন্তু সে টিকে ছিল—আরও একদিন লড়ার জন্য।

আজকের বাস্তববাদী ইরানি নেতাদের জন্যও সেই একই দায়িত্ব অপেক্ষা করছে। তাদের কাজ হবে, প্রয়োজন হলে কিছু ছাড় দিয়ে হলেও, ইরানকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য তাকে টিকিয়ে রাখা।

লেখক: আরাশ আজিজি বোস্টন ইউনিভার্সিটির ফ্রেডরিক এস. পার্ডি সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লংগার-রেঞ্জ ফিউচারে একজন ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কর্মরত। তার লেখা বই ‘হেয়াট ইরানিয়ানস ওয়ান্ট: ওম্যান, লাইফ, ফ্রিডম’ ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found