Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সময়োপযোগী নীতিমালা আসছে শিগগির : আইসিটি সচিব

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
[publishpress_authors_box]

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য শিগগিরই সময়োপযোগী নীতিমালা আসছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিষয়ক দিনব্যাপী এক সম্মেলনে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ বাংলাদেশ সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটরস ফোরামের (বিডিসাফ) উদ্যোগে ‘সাইবার সিকিউরিটি সিম্পোজিয়াম ২০২৫’ নামের এ সম্মেলন হয় ।

বিডিসাফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মহাখালীর এডভান্সড নুরানি টাওয়ারের ১২তলায় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রেইন স্টেশন ২৩ অফিসে এ সম্মেলনে শতাধিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা ও সাইবার সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।

তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্তরে জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক রেগুলেটরি স্তরে ডেটা সিকিউরিটি, সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রণয়নসহ ন্যাশনাল ডেটা গভর্নেন্স অথরিটি গঠন করছে সরকার। দ্বিতীয় স্তরে বহুমাত্রিক ব্যাকবোন তৈরি; যেখানে গুরুত্ব পাবে ইন্টার অপেরাবিলিটি এবং ইন্টিগ্রেশন। সর্বশেষ পর্যায়ে দেশীয় জনবলের উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি হবে উন্নতমানের সফটওয়্যার ও ডেভেলপমেন্ট আবহ।

সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতেই ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সময়োপযোগী নীতিমালা আসছে। আগামীতে বিডিসাফ এবং আইসিটি বিভাগের একসাথে কাজ করার বিষয়েও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মো. জোবায়ের আল মাহমুদ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সবার সাথে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ চালিয়ে যাবে বিডিসাফ।

 “মানুষ, প্রযুক্তি ও বিশ্বাসে গড়ে উঠুক সাইবার স্থিতিশীলতা” শীর্ষক এই সিম্পোজিয়ামে দশটি টেকনিক্যাল সেশন, একটি প্যানেল ডিসকাশনসহ একধিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য সেশন ছিল।

 “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রতারণার দ্বন্দ্ব : তথ্য সুরক্ষার যুগে বাংলাদেশের সাইবার প্রতিরক্ষা পুনর্নির্মাণ” বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় নেন এশিয়া-প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টার (এপনিক) এর এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সদস্য এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফাইবার–এট-হোম এর উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং উদ্যোক্তা শায়েরুল হক জোয়ার্দার নীল, মুঠোফোন অপারেটর রবির সহযোগী পরিচালক সঞ্জয় চক্রবর্তী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাবিল আহমেদ খান। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন  বিডিসাফের সাধারণ সম্পাদক মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এ যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে মানবজীবন ও কাজের ধারা আমূল পরিবর্তন করছে, তেমনি এটি সৃষ্টি করছে নতুন ধরনের প্রতারণা ও সাইবার হুমকির আশঙ্কা। বিশ্বব্যাপী এআই ব্যবহারের পাশাপাশি ডিপফেইক, ভুয়া পরিচয় এবং ডেটা লিক এখন আধুনিক সাইবার অপরাধের রূপ নিয়েছে।

তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এখন সময় এসেছে সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন ও তথ্য সুরক্ষা নীতিমালা আরও শক্তিশালী করার। এজন্য প্রয়োজন- এআইনির্ভর হুমকি শনাক্তকরণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মতামতের ভিত্তিতে তথ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন, এবং নৈতিক ও স্বচ্ছ প্রযুক্তি ব্যবহারের নিশ্চয়তা।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আর্থিক খাত, টেলিকম এবং সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের সূচনা করেছে, যা সাইবার প্রতিরক্ষা জোরদার করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে, মানবিক দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

প্যানেলের আলোচনায় সবাই একমত হন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হোক প্রতারণার নয়, প্রতিরক্ষার হাতিয়ার- এই ভাবনায় গড়ে উঠুক নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ।

দিনব্যাপী টেকনিক্যাল সেশনগুলো পরিচালনা করেন টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, সফটওয়্যার নির্মাতাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। সেশনে অংশ নেন ইস্টার্ন ব্যাংকে পিএলসি-এর তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, ইন্টারনেট সেবা প্রতিস্থান লিংক-থ্রি প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা রকিবুল হাসান, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফোনের হেড অফ সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার রাসকিন পাল, সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিস্থান ব্রেইন স্টেশন ২৩ এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের এসপি খালেদা বেগম, বাংলা লিংকের আইটি নেটওয়ার্ক ও সিকিউরিটি অপারেশন প্রধান মেজর (অব.) এসএম আল মায়মুন, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এস এম রুবায়েত ইসলাম, মুঠোফোন প্রতিষ্ঠান ররির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক সামিনুল ইসলাম তরফদার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক নোভেল্টি লিমিটেডের একেএম নুরুল আলাম এবং ব্রেইন স্টেশন ২৩ এর সলিউশন আর্কিটেক্ট আনোয়ার হোসাইন।

রুবেয়াতের আলোচনায় ছিল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টারের আধুনিকায়নের খুঁটিনাটি এবং এবং থ্রেট হান্টিং, নুরুল আলমের আলোচনায় ছিল তথ্যপ্রযুক্তি কাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিকল্পনা ও পরিচালনা, সামিনুল ইসলামের আলোচনায় ছিল ক্লাউড অবকাঠামোর অংশীদারী ব্যবহার ও নিরাপত্তা সীমানা নির্মাণ ও পরিচালনা।

সম্মেলনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল সাইবার সিকিউরিটির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

রাকিবুল ইসলামের আলোচনায় উঠে আসে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্রার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি সাইবার সহনশীল প্রযুক্তি কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। একই সাথে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্রা ভিত্তিক অটোমোশনের সম্ভাবনা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পরিকল্পনার কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন।

মিজানুর রহমান সফটওয়্যার নির্মাণের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন।

আবুল কালাম আজাদ তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক বিভিন্ন টুলস ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে কীভাবে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক, অ্যাপ্লিকেশন এবং সিস্টেম নিরাপদ করা যেতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

মেজর (অব.) মায়মুনের আলোচনায় উঠে আসে আধুনিক জিরো ট্রাস্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের বিভিন্ন দিক এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিরো ট্রাস্ট নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা ও কৌশলগত বিষয়।

সাইবার আক্রমণ এবং র‍্যানসমওয়্যার ইন্সিডেন্ট পরবর্তী ঝুঁকি এবং তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন রাসকিন পাল। এসপি খালেদা বেগম সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে চলা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও তার বিশ্লেষণ এবং প্রতিকার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

আমন্ত্রিত অতিথি, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং পৃষ্ঠপোষকদের হাতে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিডিসাফের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found