Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

এবার বিএমইউর সাবেক প্রক্টরসহ ৩৪ জন পদচ্যুত

বিএসএমএমইউতে গত বছরের ৪ আগস্ট সংঘর্ষের সময় কয়েকটি মোটরবাইক ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ফাইল ছবি
বিএসএমএমইউতে গত বছরের ৪ আগস্ট সংঘর্ষের সময় কয়েকটি মোটরবাইক ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ফাইল ছবি
[publishpress_authors_box]

৪ আগস্টের সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সাবেক প্রক্টর, কয়েকটি বিভাগের প্রধানসহ ৩৪ জনকে পদচ্যুত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জন চিকিৎসক, একজন নার্স ও বাকিরা কর্মচারী।

গত ৩১ মে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়, যা কার্যকর হয়েছে গতকাল ১ জুলাই।

এর আগে ৪ আগস্টের সহিংসতায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জনকে বরখাস্ত করা হয়। তবে ওই ঘটনায় করা তদন্ত কমিটি হত্যার কোনও ঘটনাই পায়নি। পেয়েছে হত্যাপ্রচেষ্টা ও ভাংচুরের ঘটনা, যাতে জড়িত থাকার অভিযোগে এই ৩৪ জনকে পদচ্যুত করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে আন্দোলন চলাকালীন গত ৪ আগস্ট এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত হত্যাপ্রচেষ্টা, মারামারি, ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। প্রাথমিক তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেটের ৯৪তম সভার সিদ্ধান্ত ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে সুপারিশ সম্বলিত রির্পোটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ এর ৮ (ক) ( ২) ধারা মোতাবেক কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটি সুপারিশক্রমে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

৩৪ জনের এ তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন বিএমইউর সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল। তিনি ইউরোলজি বিভাগের প্রধানও ছিলেন। তালিকায় আছেন নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব, অধ্যাপক ডা. সুভাষ কান্তি দে, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নাজির উদ্দিন মোল্লাহ ও গ্যাস্ট্রোঅ্যান্টারোলজি বিভাগের সহাকারী অধ্যাপক ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তালিকায় বিভিন্ন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত চিকিৎসকরা আছেন। আছেন একজন নার্স ও বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরা। তাদের সবাইকে পদচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিএসএমএমইউতে হত্যার অভিযোগে বরখাস্ত ১৫; কিন্তু কাকে হত্যার জন্য

দুইজন চিকিৎসক সকাল সন্ধ্যাকে সেই চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী একমাসের মধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে তাদের। তারা আপিল করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আপিল গৃহীত না হলে তারা আইনি পথে হাঁটবেন।

“আমরা চিঠি পেয়েছি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ পাচ্ছি আমরা। সেখানে পজিটিভ কিছু না হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পথ খোলা থাকছে। এরপর সেটা আদালতের সিদ্ধান্ত। আদালত চাকরি ফেরত দেয়তো পাবো, নয়তো আর কিছু করার নেই,” বলেন তাদের একজন।

এই দুই চিকিৎসকের আরেকজন সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট বাইরে থেকে লোকজন ঢুকে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে আগুন দিয়েছে, সেই আগুণ কী ভয়ংকর ছিল, সেটাতো আপনিও দেখেছেন। আমরাতো সেগুলোকে রক্ষা করতে গিয়েছি, আহত হয়ে যারা এসেছেন তাদের চিকিৎসা দিয়েছি। এখন সেটা যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে আমার কিছু আর বলার নেই।”

প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলন তখন উত্তুঙ্গ; শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক আগের দিন বিএসএমএমইউতে ঘটেছিল সংঘর্ষ; হাসপাতালের ‘ডি’ ব্লকে (কেবিন ব্লক) ভাংচুর হয়েছিল ব্যাপক, আগুনও ধরানো হয়েছিল হাসপাতাল প্রাঙ্গণের বেশ কয়েকটি মোটরবাইক, গাড়িতে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা সেদিনও ছিল শাহবাগ মোড়ে, তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। আন্দোলনকারীদের ধাওয়ায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পাশের বিএসএমএমইউতে ঢুকে পড়ে। তাদের সঙ্গে বিএসএমএমইউর শিক্ষার্থী চিকিৎসক, কর্মচারীরাও যোগ দিয়েছিল।

প্রবল আন্দোলনে পরদিনই শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। সরকারের পতন ও সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে তিন দিন পর গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সরকার আসার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব বদলে যায়, বিএসএমএমইউ প্রশাসনেও আগের পদধারীদের সরিয়ে নতুনরা আসে।

এর পাঁচ মাস পর ৪ আগস্টের ঘটনার তদন্ত করে ১৫ জন চিকিৎসক-কর্মচারীকে বরখাস্ত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাদের সুপারিশেই নেওয়া হয় শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থা।

সেদিন বিএসএমএমইউতে সংঘর্ষে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে বরখাস্তের আদেশে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর।

যে ভিডিও দেখে তদন্ত কমিটি হত্যাকাণ্ড ধরে নিয়ে শাস্তির সুপারিশ করে, সেখানে এক যুবককে মারধর করতে দেখা গেছে। নাম না জানা ওই যুবক মারা যাননি বলে প্রত্যক্ষদর্শী একজন দাবি করেছেন।

কে মারা গেছেন, সে বিষয়েও নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত কমিটির সদস্যরা। কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, সেদিন বিএসএমএমইউতে মারধরে আহত হয়ে বারডেমে একজন মারা গেছেন বলে তারা শুনেছেন।

কিন্তু বারডেমে সেদিন কিংবা তার পরের দিন আন্দোলনে আহত কেউ মারা যাননি কিংবা সহিংসতায় মৃত অবস্থায় কাউকে নেওয়া হয়নি বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

পুলিশের খাতায় সেদিন শাহবাগে এক আন্দোলনকারীকে খুনের কথা লেখা আছে, তবে তা বিএসএমএমইউর ঘটনায় নয় বলে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ইসমাইল হোসেন রাব্বি নামে ওই যুবককে বারডেমে নেওয়া হয়নি। গুলিবদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন, একথা লেখা আছে তার পরিবারের করা মামলার এজহারে।

পুলিশের পক্ষ থেকে সকাল সন্ধ্যাকে জানানো হয়, ৪ আগস্ট বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকের মারামারিতে কারও মৃত্যুর তথ্য শাহবাগ থানায় নেই।

শাহবাগ থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর সকাল সন্ধ্যাকে বলেছিলেন, “এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবে একটা মামলা হয়েছে। তবে সেটা হত্যা মামলা না। বিএসএমএমইউর ভেতরে যে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনায়।”

তবে সেদিন শাহবাগে ইসমাইল হোসেন রাব্বির মৃত্যুর ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে, তার তদন্ত করছেন ওই থানার এসআই মো. আবুল কালাম।

সেটা বিএসএমএমইউর ভেতরের ঘটনা কি না- জানতে চাইলে এসআই কালাম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এটা তো বিএসএমএমইউর কোনও ঘটনা না, ওটা শাহবাগ মোড়ের ঘটনা।”

এ নিয়ে সকাল সন্ধ্যায় সংবাদ প্রকাশিত হলে হত্যার অভিযোগ থেকে সরে আসে প্রশাসন। হত্যার অভিযোগ বাদ দিয়ে নতুন করে হত্যা প্রচেষ্টা, মারামারি, ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনে। সেই অভিযোগের তদন্তের ধারাবাহিকতায় ৩৪ জনকে পদচ্যুত করা হলো।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found