বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অনিন্দিতা দত্তকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের মেয়ে। প্রাণ গোপাল দত্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ছিলেন। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যও ছিলেন তিনি।
সদ্য নাম বদলানো বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ সকাল সন্ধ্যাকে তাকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেন। তবে কী কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
অনিন্দিতা দত্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ ব্লকে, ক্যান্সার ভবনে বিভাগটি অবস্থিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক সকাল সন্ধ্যাকে জানান, রবিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার ভবনে ডা. অনিন্দিতা দত্তকে একদল লোক আটকে রাখেন।
সেই সময়ে যোগাযোগ করা হলে শেখ ফরহাদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “প্রাণ গোপাল স্যারের মেয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তাকে আটকে রাখা হয়েছে।”
তার সঙ্গে তিনিও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন জানিয়ে শেখ ফরিদ বলেন, “এখানে আর্মি এসেছে। এই মুহূর্তে কথা বলতে পারছি না, বিস্তারিত পরে জানাব।”
অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাটা পুরোটা পরিকল্পিত বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “তারা তো আর হুট করে এখানে আসেনি। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের, পরে স্যারের (প্রাণ গোপাল দত্ত) গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কিছু মানুষও এসেছে।”
ওই কর্মকর্তা বলেন, “তারা বলছিল, কুমিল্লাতে হওয়া মামলায় তার (ডা. অনিন্দিতা) নাম রয়েছে।
“নাম মামলায় থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এসে এভাবে একজন চিকিৎসককে অবরুদ্ধ করে রাখা ও রোগীদের ভোগান্তি করারতো কোনও মানে হয় না।”
অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। গত ১৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম বদলে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রাণ গোপাল দত্ত ২০২১ সালে কুমিল্লা-৭ আসনের উপর্নিবাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রাণ গোপাল দত্তের বিরুদ্ধে কুমিল্লা ও ঢাকায় কয়েকটি মামলা হয়। সেসব মামলায় তার মেয়ে অনিন্দিতা দত্তকেও আসামি করা হয় বলে তারা শুনেছেন। এমন অবস্থায় হাসপাতালে আসছিলেন না ডা. অনিন্দিতা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “কয়েকদিন হলো তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা শুরু করেছিলেন। তাকে অবরুদ্ধের খবর পেয়ে শাহবাগ থানা থেকে পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে উপস্থিত হয়।”



