Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

সম্রাট-আরমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

somrat and arman
[publishpress_authors_box]

ঢাকার রমনা থানায় করা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এবং তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বুধবার ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মজুমদারের মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর তৎকালীন ডিএডি আব্দুল খালেক সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্য শেষে আগামী ১৫ জুন সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করে আদালত।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মাহফুজ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের থেকে ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। সেই সময় তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই তারা কারাগারে রয়েছেন।

অবৈধ সম্পদ, অস্ত্র বা মাদকের মামলা থাকলেও যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এই সাবেক নেতা আলোচিত হয়েছিলেন ঢাকায় অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার কারণে।

সম্রাটের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই দিনই রাত পৌনে ৯টার দিকে সম্রাটকে কারাগারে নেওয়া হয়।

৭ অক্টোবর বিকালে র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক মামলা করেন। ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর উপ-পরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর মাদক মামলায় সম্রাট এবং আরমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর এসআই আ. হালিম।

২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি এই মামলায় অভিযোগ গঠন করে সম্রাট ও আরমানের বিচার শুরু হয়।

নতুন করে গ্রেপ্তার গান বাংলার তাপসসহ ৪ জন

গত বছরের জুলাই আগস্টে চলা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকার দুই থানায় করা আলাদা তিন মামলায় গান বাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপসসহ ৪ জনকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

বুধবার সকালে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইসতিয়াকের আদালত এ আদেশ দেয়। 

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, নিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুস সালাম, দৈনিক সরেজমিন বার্তার সাংবাদিক সিকদার লিটন ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী আশা আক্তার।

এদিন তাদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা রাজধানীর আলাদা  দুই হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে। 

তাপসের মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালে গুলশানের শাহজাদপুরের কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন।

গত বছরের ৪ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে তাপসকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছে।

আব্দুস সালামের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডির সাইন্স ল্যাব এলাকা থেকে জিগাতলা এলাকায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন মো. রিয়াজ। দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৭ আগস্ট বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা. শাফিয়া বেগম গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।  

আশা ও লিটনের মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আগস্টের আন্দোলন চলাকালে ভাটারা থানার অধীন যমুনা ফিউচার পার্কের পাশে গত ২০ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. জাহাঙ্গীর। এদিন দুপুর ১২টায় আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে ২১ জুলাই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারী ভাটারা থানায় একটা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

অভিনেতা সিদ্দিক কারাগারে

জুলাই আগস্টের আন্দোলনের সময় ঢাকার গুলশানে ভ্যান চালক জব্বার আলী হাওলাদার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে।

বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আব্দুস সালাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গুলশান থানার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন কারাগারে পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে বেইলি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু যুবক সিদ্দিককে আটক করে। এরপর মারধর করে তাকে রমনা মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে রমনা মডেল থানা পুলিশ। পরে এই মামলায় তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় গুলশানের শাহজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলন দমাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন জব্বার আলী হাওলাদার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত