Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
Beta
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
সাক্ষাৎকারে স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান

শেফিল্ডের বাসিন্দা হিসাবে স্বাগত জানিয়েছিলাম হামজাকে

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নৌবাহিনীর সদর দফতরে স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নৌবাহিনীর সদর দফতরে স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান।
[publishpress_authors_box]

ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেননি স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান। খেলা হয়নি চীনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিকসেও। তবে লন্ডনে বেড়ে ওঠা এই অ্যাথলেট যে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকস থেকে দূরে সরে গেছেন- ব্যাপারটা এমনও নয়। ৬ এপ্রিল হঠাৎ লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন। ব্যক্তিগত কিছু কাজ শেষে শনিবার রাতের ফ্লাইটে ফিরে গেছেন ইংল্যান্ডে। যাওয়ার আগে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদর দফতরের হাজী মহসিন ঘাঁটিতে বসে আলাপচারিতায় এসএ গেমস নিয়ে নিজের স্বপ্ন, প্রত্যাশার কথা জানিয়ে গেলেন এশিয়ান ইনডোরে সোনাজয়ী অ্যাথলেট।

প্রশ্ন : এর আগে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আপনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জার্সিতে দৌড়েছিলেন। এবার পরে আছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জার্সি। সেনাবাহিনী থেকে নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পেছনের গল্পটা বলবেন?

ইমরানুর রহমান : গল্প তেমন কিছুই না। প্রথমত নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়াটা আমার জন্য অসাধারণ একটা ব্যাপার। তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমার চোট রিকভারিতে সহযোগিতা করেছে। আমি নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। এর আগে গত তিন বছর সেনাবাহিনীতেও খুবই ভালো ছিলাম। নৌবাহিনীতেও কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তারা সবাই বেশ ভালো। আশা করি, উনারাও আমার ঠিকঠাক খেয়াল রাখবেন। আমিও চেষ্টা করব নৌবাহিনীর হয়ে সোনা জিততে। পাশাপাশি দেশের হয়ে ভালো কিছু করার জন্য চেষ্টা থাকবে।

প্রশ্ন : গত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তো ঢাকায় আসার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আপনি আসতে পারেননি। কি হয়েছিল?

ইমরান : মাত্রই চোট থেকে উঠে বলা যায় কন্ডিশনিং পিরিয়ডের মধ্যেই ছিলাম। আমি আমার অনুশীলন তখন বাধাগ্রস্ত করতে চাইনি। এরপর আমার কোচের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিই। আপনি জানেন প্যারিস অলিম্পিকের পরপরই আমার একটা অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সেখান থেকে সেরে উঠতে তিন মাস মত বিশ্রামে ছিলাম। ধীরে ধীরে অনুশীলন শুরু করেছি। এখন সময় ও পরিশ্রম বাড়াচ্ছি অনুশীলনে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে যদিও চোটের বিষয়টা বড় ছিল না। তবে এটা একটা ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত, যেহেতু সামনে এসএ গেমস আছে।

প্রশ্ন : এখন তো কোনও প্রতিযোগিতা নেই। হঠাৎ কি মনে করে এবার ঢাকায় এসেছেন?

ইমরান : (হাসি) হঠাৎ করেই আমার অফিস থেকে একটা ছুটি পেয়ে গেলাম। এখানে ব্যক্তিগত কিছু কাজও ছিল। নৌবাহিনীতেও কিছু আনুষ্ঠানিকতা ছিল। আর ফেডারেশনের বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করার প্রয়োজন ছিল। নৌ বাহিনীর সতীর্থদের সঙ্গে দেখা করেছি।

প্রশ্ন : ফেডারেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে?

ইমরান :  এসএ গেমস নিয়েই মূলত সব আলোচনা হয়েছে। আমার মূল লক্ষ্য ওটাই। এসএ গেমসে সোনা জেতার ভালো সুযোগ আছে আমাদের। এর জন্য সহযোগিতা দরকার। ফেডারেশন, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে আশা করি সেটা আমি পাব।

প্রশ্ন : সহযোগিতার ব্যাপারে কতটা আশ্বাস পেয়েছেন?

ইমরান : এখন পর্যন্ত যা আশ্বাস পেয়েছি তা খুব সামান্যই।  আমাকে সহযোগিতার জন্য এখন পর্যন্ত কেউ সেভাবে যোগাযোগও করেনি। ফেডারেশনের নতুন কমিটির প্রধান ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও পারিনি। কিন্তু আপনি জানেন অনুশীলনের জন্য মাসিক একটা খরচ দরকার আমার। ইংল্যান্ডে জীবন যাপন করা তো সহজ নয়। পুরো সময় চাকরি করি। এর মধ্যে সকালে আর রাতে অনুশীলন করি। এই অনুশীলনের সময় বের করাটা খুব কঠিন। নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি নিতে হলে আমাকে সেই সময়টা দিতে হবে। একটা রেসের পর যেমন রিকভারির সময় প্রয়োজন, আবার পরিবারকেও তো সময় দিতে হয়। এটা সত্যি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে ফলপ্রসু আলোচনা হলে আমার জন্য খুবই ভালো হতো। আসলে কি হবে জানি না। তবে সময়ই বলে দেবে কি করব।

প্রশ্ন : আগামী বছর জানুয়ারিতে হতে পারে এস এ গেমস। এই গেমসের জন্য কি পরিকল্পনা আপনার?

ইমরান : এরই মধ্যে আমি নিজের মতো করে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছি। তবে উনারা (ফেডারেশন) কি ভাবছেন এটা আমি জানি না। উনারা জানেন। আমি অবশ্য আমার মতো করেই সব রকমের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।

প্রশ্ন : আপনি সহযোগিতার কথা বলছেন। সেটা তো গত অলিম্পিকেও আপনাকে দেওয়া হয়েছিল।

ইমরান : হ্যাঁ, তখন বিওএ থেকে সহযোগিতা করেছিল। ফেডারেশনও তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। এখন নতুন কমিটির গুছিয়ে নিতে হয়তো সময় লাগছে। আশা করি, তারাও সেটা করবে। এখনই তাই এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার জন্য কঠিন।

প্রশ্ন : যদিও এসএ গেমসের এখনও ৭ মাস বাকি। অন্যরাও তো বসে নেই নিশ্চয়।

ইমরান: আপনি ঠিকই বলেছেন। আন্তর্জাতিক গেমসে ভালো করতে হলে তো আগে থেকে সেই রকমের সাপোর্ট লাগে। এক মাস আগে দিলে তো হবে না। আমার মূল প্রতিপক্ষ ভারত ও শ্রীলঙ্কার অ্যাথলেটরা। শ্রীলঙ্কার স্প্রিন্টার ইউপুন আবেকুন খুব প্রতিভাবান অ্যাথলেট। সে ৭ বছর ধরে ইতালিতে আছে ফুলটাইম স্কলারশিপ নিয়ে। সে প্রতি বছর ১ কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা পায়। যেখানে আমি পুরো সময় চাকরি, সীমিত সাপোর্ট নিয়ে তার পর্যায়েই আছি। আমি যদি পুরো সহায়তা পেতাম, তাহলে কোথায় যেতাম চিন্তা করুন!

প্রশ্ন : শ্রীলঙ্কার ইউপুন আবেকুনের কথা বলছেন আপনি। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ট্র্যাকে অনিয়মিত।

ইমরান : সে-ও চোটে ভুগছে। সব অ্যাথলেটকেই এই পর্যায়টা পাড়ি দিতে হয়। তবে ও নিশ্চয় দক্ষিণ এশীয় গেমসের জন্য পুরো প্রস্তুত হয়ে আসবে।

প্রশ্ন : এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে কথা বলতে চাই।

ইমরান: বলুন।

প্রশ্ন: ইংল্যান্ডে আপনি শেফিল্ডে থাকেন। সেখানকার ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেন বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী। আপনাকে দেখলাম গত সপ্তাহে শেফিল্ড ইউনাইটেডের জার্সি পরা একটা ছবি দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ইমরান : আসলে সত্যি বলতে হামজা চৌধুরীকে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে দেখে অসাধারণ লেগেছে। যেহেতু আমরা শেফিল্ডের বাসিন্দা, আমরা তাঁকে স্বাগত জানিয়েছি আমাদের বাঙালি কমিউনিটির পক্ষ থেকে। আর সবচেয়ে বড় কথা আমরা দুজনই সিলেটি। তাঁর সঙ্গে দু-একবার কথাও হয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে তাঁকে খেলতে দেখাটা দারুণ ব্যাপার ছিল।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে হামজাকে নিয়ে মাতামাতিও নিশ্চয় দেখেছেন?

ইমরান : হ্যাঁ, সবার ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। খেলাধুলায় বাংলাদেশকে সবাই একটা ভালো জায়গায় দেখতে চায়। সেটাই প্রকাশ পেয়েছে। অবশ্য তিনিও একজন মানুষ। তিনি মাঠে নেমে তার সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আসলে আমিও চাই সারা বিশ্বে আরো যাঁরা বাংলাদেশি অ্যাথলেট ভালো করছেন তাঁরাও যেন দেশের হয়ে খেলতে আসেন, কারণ এটাই আমাদের শিকড়, আমাদের সংস্কৃতি। সবাই যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলেন এটাই আমার প্রত্যাশা।

প্রশ্ন: আপনি কি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচটি দেখেছিলেন?

ইমরানুর : আমি ম্যাচটি দেখেছি। ওই দিন তো হামজা অসাধারণ খেলেছেন। অন্যরা আরেকটু সহযোগিতা করলে হয়তো সেদিন আমরা আরও ভালো ফল করতে পারতাম।

নৌবাহিনীর কোচ আল আমিনের সঙ্গে ইমরানুর রহমান। ছবি: সকাল সন্ধ্যা

প্রশ্ন: আপনি এরই মধ্যে এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের জার্সি পরে দৌড়েছেন। যখন হামজাকেও বাংলাদেশের জার্সি পরতে দেখলেন, কেমন লেগেছিল?

ইমরান : এটা সত্যি খুব গর্বের একটা বিষয়। এর সঙ্গে আমাদের আবেগ জড়িয়ে আছে। যখন আমি লাল-সবুজের জার্সি পরে দৌড়াই খুব আবেগি হয়ে পড়ি। একই সঙ্গে এই জার্সি পরে খুব গর্ব বোধ করি। আমরা আমাদের শতভাগ উজাড় করে দিতে চাই। চেষ্টা করি দেশকে পদক এনে দিতে। একটা জয় এনে দিতে।

আরও পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত