Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুন নিভল ২৭ ঘণ্টা পর

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ১৮ অক্টোবর শনিবার দুপুরে লাগা আগুন সন্ধ্যায় এভাবে জ্বলছিল। ছবি : প্রথম আলো
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ১৮ অক্টোবর শনিবার দুপুরে লাগা আগুন সন্ধ্যায় এভাবে জ্বলছিল। ছবি : প্রথম আলো
[publishpress_authors_box]

রাজধানী ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে (পণ্য রাখার স্থান) লাগা আগুন ২৭ ঘণ্টা পর পুরোপুরি নিভেছে বলে রবিবার বিকালে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে লাগা এই আগুন ৭ ঘণ্টা পর রাত সোয়া ৯টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর উড়োজাহাজ ওঠানামাও শুরু হয় দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরে।

ভয়াবহ এই ঘটনায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা করছেন আমদানি-রপ্তানিকারকরা; ঘটনায় নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

বিডিনিউজ জানিয়েছে, রবিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেনটেইন্যান্স শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি বলেন, “শনিবার আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা একে একে ৩৭টা ইউনিট এখানে অক্লান্ত পরিশ্রম করে, শনিবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আমরা ৪টা ৫৫ মিনিটে (রবিবার) এটা সম্পূর্ণ নির্বাপণ ঘোষণা করেছি।”

তাজুল ইসলাম বলেন, “কার্গো ভিলেজের যেই অংশে আগুন লেগেছিল, প্রতিটা জায়গাতেই আসলে খোপ খোপ করে ভাগ করা ছিল এবং ভেতরে অনেকগুলো অংশ স্টিলের তৈরি।

“স্টিলের স্ট্রাকচার দিয়ে একতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত আছে; যেটার জন্য আমাদের আগুন নেভাতে এত সময় লেগেছে।”

তার ভাষ্য, “এখানে যদি অ্যাকটিভ অথবা প্যাসিভ মানে আমাদের যেকোনো ধরনের ডিটেকশন সিস্টেম যদি থাকত এবং তার সাথে প্রোটেকশন সিস্টেম থাকত, তাহলে হয়ত এতটা দুর্ঘটনা ঘটতই না। আমাদেরও তদন্ত করে বের করতে হবে আসলে কখন কীভাবে এই আগুনটা ধরে।”

ঘটনাস্থলে এখনও ধোঁয়া ওড়ার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, “যেহেতু এখানে স্টিল স্ট্রাকচারের ইস্যুটা অনেক বেশি, এটা অনেক হিট অ্যাবজর্ভ করেছে এবং হিট এখনও রিলিজ করছে।

“হিট যেহেতু রিলিজ করছে, তার সাথে তার অথবা অন্যান্য কিছু কমবাসেবল ম্যাটেরিয়াল রয়ে গেছে, এজন্য ধোঁয়া কিছুটা দেখতে পাচ্ছেন।

“তবে ভয়ের কোনও কারণ নাই, কোনও আগুনের শিখা নাই। আর যদি হয়ও, তাহলে আমাদের ৪টা ইউনিট এখানে অবস্থান করবে যতক্ষণ পর্যন্ত এই ধোঁয়াগুলো থাকবে। বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নাই বিধায় আমরা নির্বাপণ ঘোষণা করছি।”

শনিবার দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে আগুনের ঘটনা ঘটে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, পুলিশ, আনসার, র‌্যাব, এপিবিএন, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাত ৯টার কিছু পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

আগুনে বিভিন্ন ধরনের আমদানি করা মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রথম আলো জানিয়েছে, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা মনে করছেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। তারা বলছেন, এই দুর্ঘটনায় দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found