Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

একনেকে যাচ্ছে রশিদপুর-১১ নম্বর কূপ খনন প্রকল্প

ss-rashidpur-gas-field-sylhet-21122024
[publishpress_authors_box]

দেশের গ্যাস সংকট নিরসনে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বতী সরকার। আগামী বছরের মধ্যে প্রায় ৩০ বিসিএফ গ্যাস মজুদ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এজন্য অনুমোদন পেতে যাচ্ছে ‘রশিদপুর-১১ নং কূপ (অনুসন্ধান রূপ) খনন’ প্রকল্প।

প্রায় ২৭২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপনের কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান সকাল সন্ধ্যাকে জানিয়েছেন, আগামী একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। আর অনুমোদন পেলে  শিগগির সিলেটের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রশিদপুর-১১ নম্বর কূপ খননের কাজ শুরু হবে।

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কূপটি থেকে প্রায় ৩০ বিসিএফ বা তিন হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১৭৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাকি ৯৩ কোটি ২২ লাখ টাকা নেওয়া হবে বৈদেশিক ঋণ।

গ্যাসের স্তর পাওয়ার জন্য এই কূপটির প্রায় তিন হাজার মিটার খনন করতে হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। এরপরই জানা যাবে সেখানে কী পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কূপটি থেকে যদি প্রায় ৩ হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায় তাহলে এখান থেকে প্রথম তিন বছর দৈনিক ১ কোটি ঘনফুট এবং পরবর্তী ৫ বছর দৈনিক ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা যাবে। যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যার বিপরীতে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ রয়েছে ২৫০ কোটি ঘনফুট। বাকি চাহিদা আমদানি করা জ্বালানি দিয়ে মেটানো হয়।

তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ নানা কারণে ডলার সংকট তৈরি হলে জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়, এতে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলো গ্যাস সংকটে পড়ে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের প্রাথমিক উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ২৯৭ বিলিয়ন বা ১ লাখ ২৯ হাজার ৭০০ কোটি ঘনফুট।

গত জুন পর্যন্ত এই ফিল্ড থেকে ৭ হাজার ২২৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে।

কাজের সুবিধার্থে রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্রকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে।

সবশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ গ্যাসক্ষেত্রের সাতটি কূপ থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এই গ্যাস দুটি সিলিকা জেল প্ল্যান্ট ও একটি গ্লাইকল ডিহাইড্রেশন প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করে উত্তর-দক্ষিণ পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়।

জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “২০০৯ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ছয়টি নতুন গ্যাস ক্ষেত্র পাওয়া যায়। এ সময়ে কূপ খনন করা হয় ১৩২টি। যেসব গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, সেগুলোর মোট মজুদের পরিমাণ ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। আর ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়। বাকি ১০ বছরে আবিস্কৃত হয় তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র।”

২০১০ সাল পর্যন্ত দেশে দৈনিক স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ ছিল ১৭৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস, যা বর্তমানে ২১০ কোটি ঘনফুট। গত দেড় দশকে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ৩৫ কোটি  ঘনফুটের মতো।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found