পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার শর্তে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় অবস্থিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে ৫১৯ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
রবিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
একনেক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বুড়ি পোতাজিয়া মৌজায় ১০০ একর খাস জমি বন্দোবস্তের প্রস্তাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার শর্তে এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে শিগগির কাজ শুরু করা হবে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, “২০১৬ সালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলেও এখনও এর স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। প্রথমে শাহজাদপুর মহিলা কলেজে অস্থায়ীভাবে ছিল। এখন আবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এতে কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের অসুবিধা হচ্ছে। তাই নতুন একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি বলেন, “বড় ধরনের জমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগে। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সেটি লাগবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।”
পরিকল্পনা উপদেষ্টা মনে করেন, নোবেলজয়ী সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয় হলে তা অন্যান্য আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আলাদা হতে হবে।
তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা চাই। তাই আমরা চেয়েছি, এটি ছোট আকারের হলেও গুণগত মানে উন্নত হোক, যেন কেবল একটি আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয় না হয়ে এটি উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে ওঠে।”
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ফলিত বিজ্ঞান— যেমন মাছ চাষ, কৃষি ও প্রয়োগমুখী গবেষণা— এর পাশাপাশি ফাইন আর্টস ও সাহিত্যেও জোর দেওয়া হবে। তবে আকারে এটি ছোট রাখা হবে।”
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বুড়ি পোতাজিয়া মৌজায় ১০০ একর খাস জমি বন্দোবস্তের প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪১ হাজার বর্গমিটারের চারটি অনাবাসিক ভবন, ১৭ হাজার বর্গমিটারের তিনটি আবাসিক ভবন এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
বৈঠকে ৭ হাজার ৭১২ কোটি টাকার ১১টি প্রকল্প অনুমোদন
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে এই প্রকল্পসহ মোট ৭ হাজার ৭১২ কোটি টাকার ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে ৫ হাজার ১৭ কোটি টাকা, বৈদেশিক প্রকল্প ঋণ থেকে ২ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৫৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের নথি অনুযায়ী, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫টি নতুন প্রকল্প, ৩টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানো ৩টি প্রকল্প।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো :
‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’; ব্যয় প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা।
‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিদ্যমান শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় ৩৩/১১ কেভি আউটডোর উপকেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন প্রকল্প’; ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা।
‘বিএমআর অব কেরু অ্যান্ড কোং (বিডি) লিমিটেড প্রকল্প (২য় সংশোধিত)”; ব্যয় কমছে ৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
‘৫টি নির্ধারিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’; ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।
‘ঢাকাস্থ আজিমপুর সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (জোন-সি) প্রকল্প’; ব্যয় ৭৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প’; ব্যয় ৬৫ কোটি টাকা।
‘ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প’; ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২ হাজার ৮২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
‘বান্দরবান পৌরসভা ও জেলার তিন উপজেলা সদর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প’; এতে শুধু সময় বাড়ানো হয়েছে।
‘চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্প’; এটিরও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প’; এর ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।



