ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদন প্রশ্ন তুলেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ওই প্রতিবেদনের তথ্য সত্য নয় দাবি করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে ঐক্য পরিষদকে আরও বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই দেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে ঐক্য পরিষদ অতিরঞ্জিত তথ্য দিচ্ছিল বলে তখনও শফিকুল আলম দাবি করেছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, গণঅভ্যুত্থানের পর গত সাড়ে চার মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ২৩ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
সোমবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়নিত ব্রিফিংয়ে প্রেস উইং তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। এতে প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
আজাদ মজুমদার বলেন, “হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রদায়িক সংহিসতায় নিহত দাবি করা ২৩টি ঘটনার বাস্তব কারণ জানতে অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
“পুলিশ সদর দপ্তর প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। উল্লিখিত ২৩টি ঘটনার ২২টির প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে একটি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও তথ্য পাওয়া পায়নি পুলিশ। যে ২২টি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে, তারমধ্যে একটি ঘটনার সঙ্গেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনও সম্পর্ক নেই।”
তিনি জানান, সাতটি ঘটনার সঙ্গে চুরি ও দস্যুতার সম্পর্ক রয়েছে। চারটিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কলহের ঘটনা জড়িত। তিনটি ক্ষেত্রে জেনারেল ক্রাইম যেমন ধর্ষণ, অতিরিক্ত মদ পানে মৃত্যু এবং বিদ্রুপ মন্তব্য করা নিয়ে দুই পক্ষের মারামরি থেকে মৃত্যু, দুটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, দুটি ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে মৃত্যু, একটিতে স্থানীয়দের সংঘাতে মৃত্যু, একটিতে জমিজমার বিরোধ সংক্রান্ত ঘটনায় মৃত্যু, একটি আত্মহত্যার ঘটনা।
একটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও না জানা গেলেও সেখানেও সাম্প্রদায়িক সংঘাত কোনও কারণ ছিল না বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান আজাদ মজুমদার।
তিনি বলেন, “এই প্রত্যেকটি ঘটনাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আইনি পদক্ষেপ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এই ২৩ ঘটনার দুটোতে যেখানে আত্মহত্যা ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে, সেই দুটিতে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।
“অপর ২১টি তদন্তাধীন মামলায় ইতোমধ্যে ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৭ জন নিজেদের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”
আজাদ মজুমদার বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার কোনও ধরনের সহিংসতাকেই সমর্থন করে না। একইসঙ্গে এই ধরনের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে প্রচারকে উদ্বেগজনক বলে মনে করে।”
এই ধরনের ‘বিভ্রান্তিমূলক’ প্রচার দেশের সার্বিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানায় অন্তর্বর্তী সরকার।
ঐক্য পরিষদের এই প্রতিবেদনকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন কি না- এই প্রশ্নে আজাদ মজুমদার বলেন, “ঐক্য পরিষদকে আহ্বান করেছি, তারা যেন পরবর্তীতে বিষয়গুলো সঠিকভাবে দেখেন। তারা বলেছে, বেশিরভাগ তথ্য গণমাধ্যম থেকে নেওয়া। আমরা খতিয়ে দেখিয়েছি কোনও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলোকে সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে চিত্রিত করা হয়নি, সেটাকে জেনারেল ক্রাইম হিসেবে দেখা হয়েছে। তাদের কাছে আহ্বান তারা যেন নিবিড়ভাবে দেখে প্রকৃত সত্যটা সবার সামনে তুলে ধরে।”



