দিনাজপুরে ভবেশ চন্দ্র রায় হত্যাকাণ্ডকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধারাবাহিকতা দেখানোর যে দাবি করেছে ভারত, তা প্রত্যাখ্যান করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ভারতের অভিযোগকে ‘িভত্তিহীন’ আখ্যায়িত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাসসকে বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা সরকারের সমর্থনে কোনও বৈষম্যের শিকার হন না।
দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার ভবেশ রায়কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ফের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় একদল দুষ্কৃতী। হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। ভবেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বিরল শাখার সহসভাপতি ছিলেন।
বাংলাদেশে গত আগস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলা-নির্যাতন হচ্ছে, ভবেশের মৃত্যুও তারই ধারাবাহিকতা বলে শনিবার প্রতিক্রিয়া আসে নয়া দিল্লি থেকে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড একটি ধারাবাহিক নিপীড়নের অংশ, যেখানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে এবং পূর্বের ঘটনাগুলোর অপরাধীরা বিনা শাস্তিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
তার প্রতিক্রিয়ায় শফিকুল বাসসকে বলেন, “দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর ‘সংগঠিত নিপীড়নের ধারাবাহিকতার’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা এই ভিত্তিহীন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করছি।”
“বাংলাদেশ এমন দেশ নয়, যেখানে সংখ্যালঘুরা সরকারের সমর্থনে কোনও বৈষম্যের শিকার হন”- এই মন্তব্যের পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব নাগরিককে তার ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে অধিকার রক্ষা করে।
ভবেশের ওপর হামলা নিয়ে শফিকুল বলেন, “এই নির্দিষ্ট ঘটনায়, আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে ভুক্তভোগী পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন। তার পরিবার কারও সঙ্গে বাইরে যাওয়া নিয়ে সন্দেহজনক কিছু জানাননি।”
ময়নাতদন্তে ভবেশের শরীরে দৃশ্যমান কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “তবুও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ভিসেরা বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
“আমরা সব পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য,” বলেন প্রেস সচিব।



