Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্য, বিশ্ব নেতারা ভ্যাটিকানে

pope-francis
[publishpress_authors_box]

পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যে যোগ দিতে শুক্রবার থেকে রোমে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিশ্ব নেতারা। বিশ্বের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পোপের শেষকৃত্যে বিশ্ব নেতাদের এই আগমনকে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পোপ ফ্রান্সিস গত সোমবার ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। অনেকেই তার সরলতা ও সমাজের প্রান্তিক মানুষের প্রতি তার সহানুভূতির জন্য তাকে ভালোবাসতেন।

একজন পোপের মৃত্যু ক্যাথলিক চার্চের জন্য একটি বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত। সাধারণত পোপের দাফন ও পরে নতুন পোপ নির্বাচনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ হয়। তবে প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস তার জীবদ্দশায় অনুরোধ করেছিলেন যেন তার শেষকৃত্য সরলভাবে সম্পন্ন হয়। তার মরদেহ কাঠের তৈরি সাধারণ কফিনে রাখা হবে এবং একটি চিহ্নবিহীন সমাধিতে দাফন করা হবে।

তবুও এই অনুষ্ঠানে ১৭০ জন বিদেশি প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছেন। এদের মধ্যে বহু দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানও রয়েছেন। এ কারণে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হতে চলেছে। যেহেতু সব নেতা একে অপরের সঙ্গে একমত নন, তাই অনুষ্ঠানে কিছুটা কূটনৈতিক অস্বস্তির আশঙ্কাও রয়েছে।

পোপের শেষকৃত্য কখন

পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান ২৬ এপ্রিল, সেন্ট্রাল ইউরোপীয় সময় সকাল ১০টায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টায়) শুরু হবে। এই অনুষ্ঠান ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে হবে।

সাধারণত পোপদের দাফন করা হয় সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার নিচে। কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস তার জীবদ্দশায় যেই স্থানটিকে নিজের শেষ বিশ্রামস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, তা হলো সান্তা মারিয়া ম্যাজিওরে গির্জা। এই গির্জাটি রোম শহরের টার্মিনি রেলস্টেশন থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত।

এই গির্জাটি পোপ ফ্রান্সিসের প্রিয় ছিল। জীবনের শেষ সময়ে শরীর ভেঙে পড়ার পরও, তিনি এই গির্জায় বারবার গিয়েছেন। সান্তা মারিয়া ম্যাজিওরে গির্জাটি রোমের একটি প্রধান ব্যাসিলিকা এবং এটি ১৪শ শতকে ভার্জিন মেরিকে উৎসর্গ করে নির্মিত প্রথম গির্জা।

ভিড়ের মাঝে নিজের আসন খুঁজে নিচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

কারা উপস্থিত থাকবেন

এ শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে ভ্যাটিকানে উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাজপরিবারের সদস্যরা ।

তাদের মধ্যে আছেন প্রিন্স উইলিয়াম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, স্পেনের রাজা ফিলিপ ষষ্ঠ ও রানী লেতিজিয়া এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন, ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মাইলে।

আছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার স্ত্রী ওলেনা জেলেনস্কা। একটি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছেন তারা।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুডা, জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ ও রানি ম্যাথিল্ড, সুইডেনের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফ ও রানি সিলভিয়া, আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিন, ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ, লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট এডগারস রিনকেভিকস, ডেনমার্কের রানি ম্যারি, অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার, বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোসেন জেলিয়াজকভ অনুষ্ঠানে রয়েছেন।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন রয়েছেন অনুষ্ঠানে।

লাতিন আমেরিকা থেকে আছেন ডোমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট লুই আবিনাদের ও ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া।

আফ্রিকা থেকে কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স সিসেকদি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ফস্টিন-আর্কাঞ্জ তুয়াদেরা, গ্যাবনের প্রেসিডেন্ট ব্রাইস ক্লোতেয়ার ওলিগুই এনগুয়েমা ও কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস আছে পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে।

সেইসাথে যোগ দিয়েছেন ক্যাথলিক ধর্মানুসারি থেকে শুরু করে শোকাহত হাজারো মানুষ। গত বুধবার সকালে পোপ ফ্রান্সিসের মরদেহ সেন্ট পিটার্স বাসিলিকায় আনা হয় এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় জনসাধারণের জন্য প্রদর্শন শেষ হয়।

শনিবার পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যে যোগ দিতে ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় প্রবেশ করছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক

এই তিনদিনে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে বলে ভ্যাটিকান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

বুধবার যখন প্রথম মরদেহ দর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তখন ব্যাসিলিকা পুরো রাত খোলা খোলা রাখা হয়েছিল যাতে ভক্তরা দেখতে পারেন।

কারা উপস্থিত থাকবেন না

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকবেন না। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপ ফ্রান্সিসকে “একজন মহৎ মানুষ” বলে অভিহিত করেছেন যিনি “বিশ্বকে ভালোবাসতেন”। পোপের মৃত্যুর পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সব সরকারি ভবনে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন। তবে তাদের মধ্যে সম্পর্ক সবসময় সহজ ছিল না।

পোপ ফ্রান্সিস ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের প্রথম প্রেসিডেন্সিতে, পোপ যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের বিরুদ্ধেও কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “যে ব্যক্তি সেতু নয়, দেওয়াল তৈরি করে, সে খ্রিস্টান নয়।”

এর জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, পোপ যদি তার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবে সেটি “লজ্জাজনক”।

তবে ২০১৭ সালে ট্রাম্প ভ্যাটিকান সফরে গেলে তাদের সাক্ষাৎ হয়। সেই বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, “পোপ খুব ভালো ছিলেন” এবং তাদের মধ্যে “চমৎকার” আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

পোপের মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একটি বিবৃতিতে বলেন, তিনি পোপের মৃত্যুর খবরে “গভীরভাবে শোকাহত”। তিনি বলেন, “বিশ্ব ও চার্চের জন্য জটিল ও চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার নেতৃত্ব ছিল সাহসিকতাপূর্ণ, কিন্তু সব সময় তা এসেছিল গভীর বিনয় থেকে।”

ওয়েলসের প্রিন্স উইলিয়াম

কেনসিংটন প্যালেস নিশ্চিত করেছে যে, প্রিন্স উইলিয়াম যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে রোমে শেষকৃত্যে অংশ নেবেন।

রাজা চার্লস এক বিবৃতিতে বলেন, পোপ ফ্রান্সিস তার সহানুভূতির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, “মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি তার যত্ন ও কাজের মধ্য দিয়ে তিনি অসংখ্য মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছেন।”

এপ্রিলের শুরুতেই রাজার সঙ্গে রোম সফরে গিয়ে রানী ক্যমিলাও পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কা

রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে পোপ ফ্রান্সিস শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ভ্যাটিকানে পোপের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এটি ছিল তাদের একাধিক বৈঠকের সর্বশেষটি।

তবে তাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে উত্তেজনাও ছিল। ২০২৪ সালের মার্চে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পোপ বলেছিলেন, “যখন বুঝবেন আপনি পরাজিত, পরিস্থিতি অনুকূলে নেই—তখন শান্তিচুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস থাকতে হবে।”  

তখন ইউক্রেন সরকার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও ফার্স্ট লেডি জানজা লুলা দা সিলভা

ব্রাজিলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যাথলিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। সেখানে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী। পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর দিন সোমবার প্রেসিডেন্ট লুলা সাতদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন। তিনি পোপের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন।

এক বিবৃতিতে লুলা বলেন, “আমরা শান্তি, সমতা ও ন্যায়বিচারের মত আদর্শগুলো ভাগ করে নিতে পেরেছিলাম—এই আদর্শগুলো অতীতেও প্রয়োজন ছিল, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হবে।”

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও ফার্স্ট লেডি লিসা মার্কোস

ফিলিপাইনও একটি বড় ক্যাথলিক দেশ। দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ জনগণ নিজেদের ক্যাথলিক হিসেবে পরিচয় দেন। ২০১৫ সালে পোপ ফ্রান্সিস ম্যানিলা সফর করেছিলেন। সেখানে তার এক আউটডোর প্রার্থনাসভায় লাখো মানুষ উপস্থিত হয়েছিল।  

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র পোপ ফ্রান্সিসকে একজন এমন নেতা হিসেবে অভিহিত করেন যিনি “শুধু প্রজ্ঞা নয়, সবার প্রতি খোলা হৃদয় নিয়েই নেতৃত্ব দিয়েছেন।”

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা

প্রধানমন্ত্রী মেলোনি পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে তার সরকার অভিবাসনবিরোধী নীতিতে জোর দিয়েছে, যা অনেকের মতে বিতর্কিত। অন্যদিকে পোপ ফ্রান্সিস অভিবাসীদের প্রতি ইতালির উদার মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন দেশটির নিম্ন জন্মহারকে সামনে রেখে।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলে 

প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন আর্জেন্টিনার নাগরিক। পোপ হওয়ার আগে তিনি বুয়েনস আইরেসের আর্চবিশপ ছিলেন। তার মৃত্যুতে আর্জেন্টিনা এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করে।

প্রেসিডেন্ট মিলে ডানপন্থী রাজনীতির পক্ষে। পোপ ফ্রান্সিসের তুলনায় তিনি অনেক বেশি ভিন্নমত পোষণ করেন। অতীতে মিলে তাকে “বামপন্থী” বলে সমালোচনা করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

কূটনৈতিক অস্বস্তির সম্ভাবনা কতটা

সমাবেশে কিছু উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাণিজ্য শুল্ক আরোপ এবং ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ সম্পর্কে তার মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া এই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি প্রথম সাক্ষাৎ হবে ফেব্রুয়ারির পর। সেসময় হোয়াইট হাউসে তাদের বৈঠক বেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে না যাওয়ার জন্য ভর্ৎসনা করেছিলেন এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “কৃতজ্ঞতার অভাব” থাকার অভিযোগ করেছিলেন।

এ সপ্তাহেও ট্রাম্প আবার ইউক্রেনের সমালোচনা করেছেন, কারণ ইউক্রেন রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল স্বীকার করতে অস্বীকার করেছে।

তবে অনুষ্ঠানে অতিথিদের বসানোর সময় বর্ণানুক্রমিক ক্রম অনুসরণ করা হবে। তাই ট্রাম্প ও জেলেনস্কিকে পাশাপাশি বসতে হবে না।

জেলেনস্কি এ সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি শেষকৃত্যের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করার অনুরোধ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও সম্মতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

এছাড়া ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যেও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্ক যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে “অনাবশ্যক” বলে মন্তব্য করেছেন।

গত পোপের দাফনের সময় কী ঘটেছিল

২০০৫ সালের এপ্রিলে পোপ জন পল দ্বিতীয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বেশ কিছু অস্বস্তিকর ঘটনার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে।

পোপ জন পল দ্বিতীয় ১৯৭৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ক্যাথলিক চার্চের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার শেষকৃত্যে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বেশ কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ছবি স্ক্রিনে ভেসে উঠলে উপস্থিত জনতা তাকে দেখে দুয়োধ্বনি করেছিল। তখন ইরাক যুদ্ধ চলছিল এবং বুশ তার জন্য সমালোচিত হচ্ছিলেন।

বুশকে বসানো হয়েছিল তার শত্রু রাষ্ট্রগুলির নেতাদের পাশে—ইরানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পাশে। বুশ তাদের উপেক্ষা করেছিলেন। অতীতে বুশ ইরান ও সিরিয়াকে “শয়তানের অক্ষ” ও “নিপীড়নের ঘাঁটি” বলে অভিহিত করেছিলেন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস তখন প্রিন্স অফ ওয়েলস ছিলেন। জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের সঙ্গে হাত মেলানোর মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে একটি বড় ভুল করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সেই সময় যুক্তরাজ্য জিম্বাবুয়েকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। বিশেষ করে ধনী শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের জমি দখল করে কৃষ্ণাঙ্গ গরিব জনগণের মধ্যে বিতরণের নীতির জন্য।

পরবর্তীতে প্রিন্স চার্লস এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জিম্বাবুয়ের নীতিকে “গর্হিত” বলে অভিহিত করেন।

আরেকটি বিতর্কিত করমর্দন হয় ইরানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট মোশে কাতসাভের মধ্যে। ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা ছিল। এই করমর্দন নিয়ে বিশ্বব্যাপী জল্পনা শুরু হয় যে, হয়তো দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু কয়েকদিন পর খাতামি প্রকাশ্যে এই করমর্দনের ঘটনা অস্বীকার করে সব আশাকে নস্যাৎ করে দেন।

চীন-তাইওয়ান সম্পর্কও সেই অনুষ্ঠানে আরও খারাপ হয়। দাফনের কয়েকদিন আগে চীন ভ্যাটিকানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে, তারা তাইওয়ানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর প্রতিবাদে চীন অনুষ্ঠানটি বয়কট করে।

পরবর্তীতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট চেন শুই-বিয়ান অভিযোগ করেন, ভ্যাটিকান তাকে দোভাষী না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগের সুযোগ কমিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found