Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

কে-পপ তারকা হুইসুং মারা গেছেন

kpop-star-huisung-dies
[publishpress_authors_box]

অস্বাভাবিক ও কম বয়সে মৃত্যু যেন দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা জগতের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবশেষ ৪৩ বছর বয়সী কে পপ তারকা হুইসুং এর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

পুলিশ তার মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্ত করবে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার রাতে চোই হুই-সাং নামের এই গায়ককে তার অ্যাপার্টমেন্টে অচেতন অবস্থায় পান তার মা। তারপরই তিনি সাহায্যের জন্য জরুরি সেবায় ফোন করলে  উদ্ধারকারীরা হুইসুং এর মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

পুলিশ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তারা কোনও সহিংসতার চিহ্ন খুঁজে পায়নি। তবে এই কে-পপ তারকার মৃত্যুর পর ‘অনেক সময়’ অতিবাহিত হওয়ায় সতর্কতার জন্য কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্ত করবে তারা।

মঙ্গলবার তার ব্যবস্থাপনা সংস্থা তাজয় এন্টারটেইনমেন্ট নিশ্চিত করে বলে, “শিল্পী হুইসাং আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার কর্মী এবং সহকর্মীরা ‘গভীর শোকাহত’।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্রিটিশ তারকা ক্রেগ ডেভিডের জনপ্রিয় ‘ইনসমনিয়া’-এর টাইটেল গানটিসহ বেশ কয়েকটি হিট গান গেয়েছেন হুইসুং। এই সপ্তাহান্তে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দায়েগুতে গায়ক কেসিএম-এর সঙ্গে তার কনসার্টও করার কথা ছিল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তার শেষ বার্তায়, হুইসুং আসন্ন কনসার্টের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং লিখেছেন: “ওজন কমানো সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ মার্চ দেখা হবে।”

২০০২ সালে গান শুরুর পর থেকে হুইসুং অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন, এর মধ্যে ‘উইথ মি’ গানটি ছিল চার্টের শীর্ষে। তার প্রাণবন্ত অভিনয়ের জন্য তিনি সমাদৃত ছিলেন।

কিন্তু ২০২১ সালে তার সঙ্গীত ক্যারিয়ারে ধাক্কা লাগে। ওই সময়ে তাকে প্রোপোফল নামের একটি চেতনানাশক ওষুধ সেবনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০০৯ সালে পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রাকে উল্লেখ করা হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার র‍্যাপার ভার্বাল জিন্ট ইনস্টাগ্রামে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন: “আমাদের একসাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ছিল সম্মানের এবং আমি কৃতজ্ঞ। তুমি এত কঠোর পরিশ্রম করেছ। শান্তিতে ঘুমাও, হুইসুং।”

আরেকজন র‍্যাপার, পালোআল্টো, প্রবীণ গায়ককে তার প্রিয় স্মৃতির জন্য ধন্যবাদ জানান, উল্লেখ করেন যে, তিনি তার প্রথম কনসার্ট দেখতে গিয়েছিলেন।

তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেন, “এটা মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। আমার যৌবনের সুস্মৃতিগুলিতে যে সঙ্গীত আমার সাথে ছিল তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

মঞ্চ ও পর্দার তারকাদের অল্প বয়সে মৃত্যুর বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন শিল্পে গত এক দশক ধরে নানাভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।

তারকা হিসেবে গড়ে তুলতে দক্ষিণ কোরিয়ার এজেন্সিগুলো কিশোর বয়সের প্রথম বা মাঝামাঝি সময়ে অল্প বয়সেই প্রতিভাবানদের নিজেদের অধীনে নিয়ে নেয়। তারা কঠোর নিয়ন্ত্রণে এবং সঙ্গীত এবং নৃত্য প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে কাটে।

গত মাসেই, দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেতা কিম সে-রনকে ২৪ বছর বয়সে তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে-রন শিশু বয়সে অভিনয় শুরু করেছিলেন।  ২০২২ সালে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর দুর্ঘটনার পর তার ক্যারিয়ার হঠাৎ থমকে যায়।  এর পরে তিনি নতুন করে শুরুর লড়াই চালাচ্ছিলেন।  

গত বছর, দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেতা সং জে-লিমকে ৩৯ বছর বয়সে তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কে-পপ তারকা এবং বয়ব্যান্ড অ্যাস্ট্রোর সদস্য মুনবিনকে ২০২৩ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার অ্যাপার্টমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মারা যাওয়া আরও বেশ কয়েকজন তরুণ কে-পপ তারকা হলেন ২০১৯ সালে গু হারা এবং সুল্লি , ২০১৮ সালে বয়ব্যান্ড ১০০%-এর মিনউ এবং ২০১৭ সালে শিনির প্রধান গায়িকা জংহিউন ।

অনেক মনোবিশ্লেষকই বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জগতের তারকাদের ওপর তাদের সুপার ফ্যানদের প্রত্যাশার চাপও তাদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ। কখনও কখনও সামান্যতম অপরাধের কারণেও এইসব তারকাদের ক্যারিয়ার হয়েছে বিপন্ন। বিশেষ করে সুপার ফ্যানদের সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা মাত্রা ছাড়িয়েছে সব ক্ষেত্রেই।  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found