Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
Beta
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

মানুষের প্রকৃত আয় কমছে ৪৪ মাস ধরে

ইটভাটায় কাজে থাকা এই শ্রমিকদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষকে ভোগাচ্ছে মূল্যস্ফীতি।
ইটভাটায় কাজে থাকা এই শ্রমিকদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষকে ভোগাচ্ছে মূল্যস্ফীতি।
[publishpress_authors_box]

অর্থনীতির স্পর্শকাতর সূচক মূল্যস্ফীতির পারদ ওঠানামা করছে কয়েক মাস ধরে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে বার বার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এক মাসে একটু কমছে তো পরের মাসেই আবার বাড়ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে ওঠে। পরের মাস আসস্টে কমে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে নামে। সবশেষ সেপ্টেম্বরে তা ফের বেড়ে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে উঠেছে।

উদ্বেগের তথ্য হচ্ছে— গত তিন মাস টানা কমেছে মজুরি বৃদ্ধির হার।

বিবিএসের তথ্যই বলছে, চলতি অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। আগস্টে তা কমে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে নামে। সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে ৮ দশমিক শূন্য দুই শতাংশে নেমেছে।

তবে এরচেয়েও উদ্বেগের তথ্য দিয়েছে পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংস্থাটি বলছে, টানা ৪৪ মাস (তিন বছর আট মাস) ধরে মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দেশে সার্বিক মূল্যম্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ; মজুরি বেড়েছিল ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এরপর থেকে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছেই।

এই দুটি হারের তুলনা করলে মানুষের প্রকৃত আয়ের বাড়া-কমার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি হলে কারও কাছে হাত পাততে হয় না। পণ্যের দাম বাড়লেও বাড়তি আয় দিয়ে তা কেনা যায়।

কিন্তু যখন মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম হয়, তখনই বিপদ। বাড়তি দামের পণ্য কিনতে হলে হাত পাততে হয় অন্যের কাছে, নইলে কেনা কমিয়ে দিতে হয়।

সাধারণত মজুরি বাড়ার হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কিছুটা বেশি থাকলেও বাংলাদেশে এই দীর্ঘ সময় ধরে বিপরীত প্রবণতা দেখা দেওয়ায় প্রকৃত আয় কমে সমস্যাগ্রস্ত হচ্ছে গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ।

বাজারে পণ্যের বাড়তি দাম খেয়ে ফেলছে বাড়তি আয়ের টাকা। ফলে আয় বাড়লেও লাভ হচ্ছে না।

বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করলে এমনভাবে বলা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর মানে হলো—২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চাল, ডাল, তেল, নুন, পোশাক, বাসাভাড়া, যাতায়াত, শিক্ষা খরচসহ জীবনযাপনের খরচ চালাতে যদি ১০০ টাকা খরচ হতো, তাহলে এ বছরের সেপ্টেম্বরে সেই খরচ বেড়ে হয়েছে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা।

এবার দেখা যাক, এই বাড়তি খরচের ভার সামাল দিতে মানুষের আয় কতটা বাড়ল। বিবিএস বলছে, সেপ্টেম্বরে জাতীয় মজুরি বেড়েছে বা বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। এর মানে দাঁড়ায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যদি কারও আয় ১০০ টাকা হয়, তাহলে এ বছরের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ২ পয়সা।

সুতরাং আয় খানিকটা বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় একই পণ্য ও সেবার জন্য বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। অথবা খরচের ফর্দ কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

আয় বাড়লেও খরচ যখন তার তুলনায় বেশি বাড়ে, তখন প্রকৃত আয় কমে যায়। বাংলাদেশে ঠিক তাই ঘটছে ৪৪ মাস ধরে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কম, এমনটা দেশে এর আগে কখনোই টানা এতটা সময় দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে অর্থনীতি গবেষক সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এ কথা ঠিক যে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হয়েছে। দুই অঙ্কের ঘর (ডাবল ডিজিট) থেকে এক অঙ্কের ঘরে (সিঙ্গেল ডিজিট) নেমেছে। তবে এখনও কিন্তু দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। আমরা খুশি হতাম যদি মূল্যস্ফীতি কমার সঙ্গে সঙ্গে মজুরি সূচক বৃদ্ধি পেত।

“বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও মজুরি সূচকের তথ্য নিয়েই যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তাহলেও কিন্তু আমরা উদ্বেগজনক একটি তথ্য দেখতে পাচ্ছি। সেটি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি প্রকৃত মজুরির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ বাস্তবে আয় বাড়লেও মূল্যস্ফীতি তা খেয়ে ফেলছে।”

“বাজারের খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি বাড়ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি। মানুষের প্রকৃত আয় ভয়ানকভাবে কমে যাচ্ছে। খরচ করার সামর্থ্য কমছে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন। অনেকের তো সঞ্চয়ও নেই,” বলেন তিনি।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “গত শীত মৌসুমে শাক-সবজির দাম বেশ কমেছিল। পরে তা বেড়ে যায়; এখনও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আবার শীত মৌসুম আসছে; তখন হয়ত দাম কমবে।

“সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে— আমাদের প্রধান খাদ্য পণ্য চালের দাম কিন্তু কমেনি। উল্টো বেড়েছে। এই যে কিছুদিন আগে বোরো ধানের ভরা মৌসুম গেলো; তার মধ্যেও কিন্তু চালের দাম বেড়েছে। আগামীতে বাড়া ছাড়া কমার কোনো লক্ষণ নেই।”

“তাই মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখতে হলে শুধু কঠিন মনিটারি পলিসি (মুদ্রানীতি) দিয়ে হবে না, বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে,” বলেন তিনি।

দেশের ৮০ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান হয় অনানুষ্ঠানিক খাতে। এগুলোর প্রায় শতভাগই মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থান।

পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি কৃষিশ্রমিক, পরিবহনকর্মী, বিড়িশ্রমিক, জেলে, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকসহ ৪৪ ধরনের পেশাজীবীর মজুরির তথ্য সংগ্রহ করে মজুরি হার সূচক তৈরি করে। এসব পেশাজীবীর মজুরি খুব কম এবং দক্ষতাও কম। শুধু দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি পান— তার ভিত্তিতে কোন মাসে মজুরি হার কত বাড়ল, তা প্রকাশ করে বিবিএস।

পরিসংখ্যান ব্যুরো যে ৪৪ ধরনের পেশাজীবীর মজুরির তথ্য নেয়, তার মধ্যে ২২টি শিল্প খাতের এবং ১১টি করে কৃষি ও সেবা খাতের পেশা। বেতনভোগী কিংবা উচ্চআয়ের পেশাজীবীদের বিবিএসের মজুরি সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

ব্যুরোর ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের কর্মসংস্থানের বড় অংশই হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। মোট শ্রমশক্তির ৮৫ দশমিক ১ শতাংশই এ খাতে নিয়োজিত। আর ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে।

অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। শিল্প খাতের ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ, সেবা খাতের ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে কৃষি, শিল্প ও সেবা— তিন খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে। আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ; সেপ্টেম্বরে তা কমে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশে নেমেছে।

শিল্প খাতে সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগের মাস আগস্টে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

অন্যদিকে আগস্টে সেবা খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ; সেপ্টেম্বরে তা কমে ৮ দশমিক ২২ শতাংশে নেমেছে।

ফারাক কমছে না, সুফল মিলছে না

সাধারণত প্রতি মাসে যত মূল্যস্ফীতি হয়, এর বেশি হারে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মজুরি বৃদ্ধির হারকে টপকে যায় মূল্যস্ফীতি।

বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, ওই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ।

এরপর আর কোনোমাসেই মূল্যস্ফীতিকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি মজুরি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মজুরি বৃদ্ধি ৭ শতাংশের ঘর ছোঁয়। মার্চের পর থেকে ওই বছরের ৯ মাসে মূল্যস্ফীতি ৭ থেকে ৮ শতাংশের ঘর পেরিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশের ওপরে উঠে যায়।

বিবিএসের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ৮ দশমিক ১২ শতাংশে নামে।

মার্চে মজুরি সূচক বেড়ে হয় ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এপ্রিলে বেড়ে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশে ওঠে। মে মাসে তা আরও বেড়ে ৮ দশমিক ২১ হয়। তবে জুনে কমে ৮ দশমিক ৮ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমে আসে।

সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতেও কাজ হচ্ছে না

মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নিয়ে এগোচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার (পলিসি রেট বা রেপো রেট) ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।

গত ৩১ আগস্ট ঘোষিত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি যতদিন ৭ শতাংশের নিচে না নামবে, ততদিন নীতি সুদহার কমবে না বলে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় পরিষ্কার জানিয়ে দেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

মূল্যস্ফীতি ৩-৫ শতাংশে আনার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, “এটি সময়ের ব্যাপার। এ সময় যে প্রেসার আসবে তা ওভারকাম করতে হবে।”

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদও বিভিন্ন সময়ে মূলস্ফীতি কমবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদকিদের তিনি বলেছিলেন, “জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৬-৭ শতাংশে নেমে আসবে।”

জুন শেষ হয়ে আরও চার মাস (জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) পার হয়েছে, কিন্তু এখনও মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে।

রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো এক দিনের জন্য টাকা ধার নেয়। একে বলা হয় ব্যাংকিং খাতের নীতি উপাদান (পলিসি টুলস)। এর সুদ হারকে বলা হয় নীতি সুদহার বা রেপো রেট। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে।

রেপোর সুদ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর তহবিল পাওয়ার খরচ আরও বাড়ে। তাতে ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুদহার বেড়ে যায়।

এই হার অপারিবর্তিত রাখার মানে হলো, বাজারে মুদ্রাপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সুদহারের লাগাম শিথিল করছে না।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির লাগামা টেনে ধরতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়েছে; কোনও কোনও পণ্যের শুল্ক শূন্য করেছে।

মূল্যস্ফীতি
ঢাকার একটি কাঁচাবাজার

গতবছর জুলাই মাসে আন্দোলনের ধাক্কায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে। ওই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের কয়েক মাস সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করছিল।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, গত মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমে আসে। জুনে তা আরও কমে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।

সেপ্টেম্বর শেষে (২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর) দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

No posts found
No posts found