দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছে তুরস্কের একটি আদালত।
এর ফলে তার মুক্তির দাবিতে দেশটিতে চলমান আন্দোলন আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) হয়ে তুরস্কের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে রবিবার মনোনীত হওয়ার কথা ছিল ইমামোগলুর। তার আগেই গত বুধবার তাকে আটক করা হয়।
এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা তুরস্ক।
রয়টার্স ও বিবিসি জানিয়েছে, চার দিন ধরে ইস্তাম্বুলের মেয়রের মুক্তির দাবিতে চলা বিক্ষোভ গত এক দশকে দেখেনি তুরস্ক।
তুরস্কের জনগণের এই স্বতংস্ফূর্ত বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়ে এরদোয়ান বলেছেন, ইমামোগলুর দল সিএইচপি দেশের শান্তি বিঘ্নিত করে মানুষকে বিভাজিত করতে চাইছে।
ইমামোগলুকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়।
রবিবার তুরস্কের আদালত জানিয়েছে, ৫৪ বছর বয়সী ইমামোগলুসহ কমপক্ষে ২০ জনকে দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে জেলে পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার আটক হওয়ার আগে সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ইমামোগলু বলেন, “জনগণের আকাঙ্ক্ষা কখনও দমন করা যাবে না।”
এর আগে গত মঙ্গলবার অনিয়মের অভিযোগ এনে ইস্তাম্বুল ইউনিভার্সিটি তার ডিগ্রি বাতিল করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না ইমামোগলু।

তুরস্কের নিয়ম অনুসারে, প্রেসিডেন্ট হতে হলে অবশ্যই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে তার দলের চেয়ারম্যান অজগুর ওজেল সোশাল মিডিয়া এক্সে বলেন, “জনগণের হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া, তাদের ইচ্ছা প্রতিস্থাপন করা বা তা প্রতিরোধ করতে বলপ্রয়োগ করা অভ্যুত্থানের সমান।”
ইমামোগলু এবারই প্রথম কোনও আইনি ঝামেলায় পড়লেন, তা নয়। ২০২২ সালে সরকারি এক কর্মকর্তাকে অপমানজনক কথা বলার অভিযোগে আড়াই বছরের কারাদণ্ড হয় তার।



